শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অত্যন্ত দুঃখজনক

51

যৌক্তিক-অযৌক্তিক বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের কর্মবিরতির বিষয়টি প্রায় হরহামেশাই খবরের শিরোনাম হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। চিকিৎসাসেবার মতো মহৎ পেশার সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে এ ধরনের কর্মসূচি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তুচ্ছ কারণে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হলে তাদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হবে। শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা প্রতিটি মেডিকেল কলেজেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কোনো কারণে তারা কর্মবিরতি পালন করলে অপূরণীয় ক্ষতি হয়। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের শাস্তির প্রতিক্রিয়ায় বগুড়া মেডিকেল কলেজসহ আরও কয়েকটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের কর্মবিরতির বিষয়টি বিস্ময়কর।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক একজন রোগীর স্বজনের সঙ্গে যে অমানবিক ও অভব্য আচরণ করেছেন তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এমন আচরণের পরও কয়েকটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা অভিযুক্তদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কর্মবিরতির মতো কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছেন! এর মধ্য দিয়ে কি তারা এটাই স্পষ্ট করতে চাইছেন যে তারা কোনো অপরাধ করলেও তাদের শাস্তি দেয়া যাবে না?

যে ঘটনার কারণে বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে শাস্তি দেয়া হয়েছে, তা প্রতিদিনের অন্য দশটি দুঃখজনক খবরের মতো নয়। সম্পূর্ণ বিনা অপরাধে একজন নিরীহ লোককে হামলাকারী কয়েকজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক কয়েক দফা নির্যাতন করেছেন। এমনকি ওই সংঘবদ্ধ শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা ওই নিরীহ লোকটিকে তার বৃদ্ধ-অসুস্থ বাবার সামনে আরেক দফা নির্যাতন করেছেন, এমন খবরও পাওয়া গেছে। প্রশ্ন হল, বিনা অপরাধে যেসব শিক্ষানবিশ চিকিৎসক দফায় দফায় একজন নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন চালান এবং যারা অপরাধীদের সমর্থন করেন তাদের কাছে সাধারণ মানুষ কী সেবা পাবে?

নিরীহ মানুষের প্রতি যাদের সমবেদনার এত অভাব, তারা রোগীর রোগ-যন্ত্রণা অনুভবের কতটা চেষ্টা করেন, এটাও বড় প্রশ্ন? তাদের আচরণ থেকে অনুমান করা যায়, কোনো কোনো শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের হাতে প্রতিদিন কত নিরীহ মানুষ কতভাবে লঞ্ছিত ও বঞ্চিত হন।

দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনেক দূরের রোগীরা চিকিৎসা সেবা পেতে ভিড় করেন। প্রশ্ন হল, চিকিৎসকরা তাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেন। বর্তমানে অনেক রোগী জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান, আর্থিক অনটনে যাদের অনেকের চিকিৎসা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এসব রোগীর সঙ্গে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্ট সবাই কেমন আচরণ করেন, তা জোরালো মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকা দরকার। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ কোনো রকম হয়রানির শিকার যেন না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগী এবং তার স্বজন প্রতি মুহুর্তে অবর্ণনীয় উদ্বেগে থাকেন। কাজেই ওই সময় রোগী কিংবা রোগীর স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট কেউ অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে তা চিহ্নিত করে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেয়াটা জরুরি।

– সম্পাদক