শীতের উষ্ণতায় হাল ফ্যাশনের পোশাক

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : কুয়াশাঢাকা, পাতাঝরা রাজপথ জানান দিচ্ছে শীত এসে গেছে। সঙ্গে নিয়ে এসেছে রাস্তায় রাস্তায় চিতই ও ভাপা পিঠার মেলা। শীত পরিবর্তন নিয়ে আসে জীবনযাত্রা এবং ফ্যাশনে। শীতের ফ্যাশন নিয়ে লিখেছেন- সেলিনা আহমেদ।

শীতে জবুথবু হয়ে ঘরে বসে থাকলে কি আর হবে? বাইরে তো বের হতেই হবে। আর তাই শীতে ঘর থেকে বের হতে ফ্যাশন সচেতনরা বেছে নেন নানা ধরনের শীত পোশাক। শীত যতই বিরক্তিকর হোক না কেন, এই একটি কারণের জন্য অনেকেরই প্রিয়। আমাদের দেশে শীতের আগমনটা হঠাৎ করেই হয় না।

শীত বাড়লে শীতের কাপড় কেনায় ব্যস্ততা বাড়ে ফ্যাশন সচেতন মানুষের। শীত আসি আসি করছে, একটু একটু করে ঠাণ্ডা পড়তে শুরু করেছে চারপাশে। সময় এসেছে শীত পোশাক এবং অনুষঙ্গের খোঁজে বেরিয়ে পড়ার। ফ্যাশন হাউসগুলো এবারের শীত মৌসুমটার জন্য আলাদাভাবে চিন্তা করেই তৈরি করেছে সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইনের বাহারি ধরনের ক্যাপ, বেল্ট এবং মাফলার। সঙ্গে গরম কাপড় তো রয়েছেই।

শীতের পোশাকের সঙ্গে ছেলেমেয়ে উভয়ের সঙ্গী হতে পারে হালফ্যাশনের মাফলার আর কানটুপিও। শীতে ঠান্ডার হাত থেকে গলা বাঁচাতে মাফলার কাজ দেয়, আবার তরুণদের ফ্যাশনেও এর রয়েছে যথেষ্ট কদর। এ ছাড়াও উলের টুপি, কানটুপি, মানকি ক্যাপ এবং মোজাও এই শীতে আপনাকে বেশ আরাম দেবে।

ফ্যাশনেবল তরুণীরা বিভিন্ন রঙের শার্ট বা ফতুয়ার সঙ্গে স্কার্ফ ব্যবহার করতে পারে। স্কার্ফ এমন একটা ফ্যাশন অনুষঙ্গ, যা শীত বা গ্রীষ্ম যে কোনো ঋতুতে যে কোনো পোশাককেই দারুণ আকর্ষণীয় করে তোলে। তবে এ শীতে নিজেকে উষ্ণ রাখার অনুষঙ্গ যাই হোক না কেন, সেটি যেন আপনার সঙ্গে মানানসই হয় সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

সোয়েটার যে কোনো গড়নের ছেলেমেয়ে পরতে পারে। তবে বেল্গজার বা কোট পরার সময় শরীরের গঠন ও মুখের গড়ন বিবেচনা করা উচিত। উচ্চতা কম হলে স্ট্রাইপ বেল্গজার পরা ভালো। এক রঙের চেক বেল্গজার বেশি মানানসই যাদের উচ্চতা বেশি। যারা মাঝারি গড়নের তারা যে কোনোটিই পরতে পারেন।

শারীরিক গঠন মোটা হলে এক বোতাম, চিকন ও মাঝারি গড়ন হলে দুই-তিন বোতাম দিয়ে বেল্গজার পরলে ভালো দেখাবে। এক বোতামের বেল্গজার মেয়েদের বেশি মানায়। ছেলেদের শীত পোশাকের তালিকায় প্রথমেই আসে সোয়েটার, জ্যাকেট কিংবা স্যুট-থ্রিপিস বা টুপিসের কথা। তবে বর্তমান সময়ে শীতের পোশাকে স্টাইল হিসেবে জ্যাকেটের চলটাই সবচেয়ে বেশি। ডেনিম, ক্যানভাস কাপড় কিংবা চামড়ার জ্যাকেটের সঙ্গে এখন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হুডির জনপ্রিয়তাও।

ছেলেদের শীতপোশাকে এবার অবশ্য জনপ্রিয় জ্যাকেটও। ফ্লিস কাপড়ের নানা রঙের জ্যাকেট পরছে তরুণরা। কালো, গাঢ় মেরুনের পাশাপাশি কালো-হলুদের মিশ্রণ, বেগুনি, হলদে সবুজাভ রঙের চামড়ার জ্যাকেট চলছে বেশি। যারা অফিস করেন তাদের জন্যও রয়েছে বিশেষ পোশাক। অফিস মানেই স্যুট-কোট পরতে হবে, তা নয়। ফুলহাতা শার্ট-টাইর সঙ্গে সোয়েটারও পরতে পারেন। এসব সোয়েটারের গলা প্রশস্ত হতে হবে। সে ক্ষেত্রে আপনি চাইলে ভি-আকৃতির ডিজাইন করা সোয়েটার পরতে পারবেন।

বাজারে এসেছে শীতের পোশাক। রাজধানীর অভিজাত শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতে শীতের পোশাক শোভা পাচ্ছে। রাজধানীতে শীত পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার বসে ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেট, বঙ্গবাজার, গাউছিয়া ও নিউমার্কেটজুড়ে।

ইতিমধ্যেই শীতের বাহারি পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। গাউছিয়া ও নিউমার্কেটের বিভিন্ন দোকান ও ফুটপাতজুড়ে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে শীতের কাপড়। ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেট ও বঙ্গবাজারের ছোট ছোট দোকানে বসেছে বাহারি সব শীত কাপড়ের পসরা। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য এবার বাজারে এসেছে রকমারি ডিজাইনের পোশাক। এর মধ্যে রয়েছে হুডি, জ্যাকেট, ট্রাউজার, সোয়েটার, কানটুপি, প্যান্ট, গরম গেঞ্জি, জিন্সের শার্ট, মাফলার, মেয়েদের চাদর, কোট ইত্যাদি। বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের কাপড়ের দোকানগুলোতে বেল্গজার, কোট, জ্যাকেট ও ফুলহাতা টি-শার্ট বিক্রির জন্য রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।

এসব দোকানে দেশে তৈরি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাশাপাশি আরমানি, হিউগোবস, হোপনার এবং ভেরি ব্র্যান্ডের বেল্গজার ও কোট রয়েছে। এ শপিংমলের বিভিন্ন দোকানে দুই হাজার থেকে শুরু করে ৬০ হাজার টাকা দামের পর্যন্ত বেল্গজার ও কোট রয়েছে। বসুন্ধরা শপিংমলের দোকানগুলোতে পুরুষদের পোশাকের পাশাপাশি নারীদের জ্যাকেট, বেল্গজারসহ শিশুদের বিভিন্ন ধরনের শীতের পোশাকও কম বিক্রি হচ্ছে।

এলিফ্যান্ট রোড এলাকার শপিংমলগুলোতেও বেল্গজার, কোট, জ্যাকেট, সোয়েটার ও চাদর রেখেছেন দোকানিরা। বসুন্ধরা সিটিতে ফ্যাশনেবল শীতের টুপির দাম পড়বে ৩৯০-৬০০ টাকা। মাফলার ৪৯০-১,২৯০ টাকা। বেল্ট ৭৯০-১,৮০০ টাকা। নিউমার্কেটে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাবে। টুপির দাম পড়বে ৬০-১৮০ টাকা, মাফলার ২০০-৩০০ টাকা এবং বেল্ট ১৮০-৪৫০ টাকার মধ্যে। আপনি যদি ফ্যাশন সচেতন হয়ে থাকেন তবে বেরিয়ে পড়ুন এখনই! এ শীতকালটি হতে পারে আপনার ফ্যাশনসেন্সকে ঝালিয়ে নেওয়ার মোক্ষম সময়।

x

Check Also

গণতন্ত্র সূচকে ৮ ধাপ অগ্রগতি বাংলাদেশের

এমএনএ রিপোর্ট : যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) তৈরি বিশ্ব গণতন্ত্র সূচকে ...

Scroll Up