শীতের কবল থেকে ফসল রক্ষায় পরামর্শ

15

মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী (এমএনএ) : বাংলা পৌষ ও মাঘ মাসে  তাপমাত্রা এম্নিতেই কম থাকে। তবে পৌষের শেষ এবং মাঘের প্রথম সপ্তাহের দিকে তাপমাত্রা আরও খানিকটা নেমে যাবে। এ সময়টাতে শীতের কবল থেকে ফসল রক্ষায় পরামর্শ দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কবল থেকে বোরো ধান রক্ষায় রাতে বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখে দিনে তুলে ফেলতে হবে। চারাগাছ হলদে হয়ে গেলে প্রতি বর্গমিটারে ৭ গ্রাম ইউরিয়া সার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। এরপরও যদি চারা সবুজ না হয়, তবে প্রতি বর্গমিটারে ১০ গ্রাম করে জিপসাম দিতে হবে। জমিতে জৈবসার এবং শেষ চাষের আগে ইউরিয়া ছাড়া অন্যান্য সার দিতে হবে। ধানের চারা রোপণের ১৫-২০ দিন পর প্রথম কিস্তি, ৩০-৪০ দিন পর দ্বিতীয় কিস্তি এবং ৫০-৫৫ দিন পর শেষ কিস্তি হিসেবে ইউরিয়া সার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে।

Bijtola 2

গম রক্ষায় জমিতে হেক্টরপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ কেজি ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে এবং সেচ দিতে হবে। সেচ দেওয়ার পর জমিতে জো এলে মাটির ওপর চটা ভেঙে দিতে হবে।

ভুট্টা ক্ষেতের গাছের গোড়ার মাটি তুলে গোড়ার মাটির সঙ্গে ইউরিয়া সার ভালো করে মিশিয়ে দিতে হবে। এরপর সেচ দিতে হবে।

আলু চারা গাছের উচ্চতা ১০-১৫ সেন্টিমিটার হলে ইউরিয়া সার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। দুই সারির মাঝে সার দিয়ে কোদালের সাহায্যে মাটি কুপিয়ে সারির মাঝের মাটি গাছের গোড়ায় তুলে দিতে হবে। ১০-১২ দিন পরপর এভাবে গাছের গোড়ায় মাটি তুলে না দিলে গাছ হেলে পড়বে এবং ফলন কমে যাবে।

Bijtola 4

আলু ফসলে নাবি ধসা রোগ দেখা দিতে পারে। সে কারণে স্প্রেয়িং শিডিউল মেনে চলতে হবে। মড়ক রোগ দমনে দেরি না করে ২ গ্রাম ডায়থেন এম ৪৫ অথবা সিকিউর অথবা ইন্ডোফিল প্রতি লিটার পানির সঙ্গে মিশিয়ে ৭ দিন পরপর স্প্রে করতে হবে। পাশাপাশি মড়ক লাগা জমিতে সেচ দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে। আলু গাছের বয়স ৯০ দিন হলে মাটির সমান করে গাছ কেটে দিতে হবে এবং ১০ দিন পর আলু তুলে ফেলতে হবে।

রৌদ্রময় শুকনা দিনে বীজ তুলা উঠাতে হয়। তুলা সাধারণত তিন পর্যায়ে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। শুরুতে ৫০ শতাংশ বোল ফাটলে প্রথমবার, বাকি ফলের ৩০ শতাংশ পরিপক্ব হলে দ্বিতীয়বার এবং অবশিষ্ট ফসল পরিপক্ব হলে শেষ অংশের তুলা সংগ্রহ করতে হবে।

Bijtola 3

মসুর, ছোলা, মটর, মাসকালাই, মুগ, তিসি পাকার সময় এখন। সরিষা, তিসি বেশি পাকলে রোদের তাপে ফেটে গিয়ে বীজ পড়ে যেতে পারে, তাই এগুলো ৮০ ভাগ পাকলেই সংগ্রহের ব্যবস্থা নিতে হবে। আর ডাল ফসলের ক্ষেত্রে গাছ গোড়াসহ না উঠিয়ে মাটি থেকে কয়েক ইঞ্চি রেখে ফসল সংগ্রহ করতে হবে। এতে জমিতে উর্বরতা এবং নাইট্রোজেন সরবরাহ বাড়বে।

এ প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ হামিদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লিফলেট বিতরণ ছাড়াও মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কৃষকরা বড় ধরনের কোনো সমস্যায় পড়েনি। নিয়ম মেনে চললে এই মৌসুমে ফসলের বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি নেই।