শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা

73

এমএনএ ক্যাম্পাস রিপোর্ট : নজিরবিহীন সতর্কতামূলক অবস্থার মধ্যে সারা দেশে আজ রবিবার সকাল ১০টা থেকে থেকে শুরু হয়েছে ২০১৭ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা।

সদ্যসমাপ্ত এসএসসি পরীক্ষার অভিজ্ঞতা সামনে রেখে এবার প্রশ্ন ফাঁস রোধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ফাঁসকারীদের বিভ্রান্ত করতে এবার প্রথমবারের মতো প্রশ্নপত্রের প্যাকেট থেকে সেট কোড তুলে নেয়া হয়েছে।

এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষকদের মোবাইল ফোন নেয়া নিষিদ্ধ। কেন্দ্রসচিব শুধু ক্যামেরাবিহীন মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন।

এবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ জন। গতবার ছিল ১২ লাখ ১৮ হাজার ৬২৮ জন। এবার তার চেয়ে ৩৪ হাজার ৯৪২ জন পরীক্ষার্থী কম।

প্রথম দিনে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এইচএসসিতে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথমপত্র, সহজ বাংলা প্রথমপত্র, বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রথমপত্র এবং বাংলা (আবশ্যিক) প্রথমপত্রের (ডিআইবিএস) পরীক্ষা হবে।

মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে কুরআন মাজিদ এবং এইচএসসি ভোকেশনালে বাংলা-২ [সৃজনশীল (নতুন/পুরাতন সিলেবাস)] ও বাংলা-১ [সৃজনশীল (নতুন/পুরাতন সিলেবাস)] বিষয়ের পরীক্ষায় বসবেন শিক্ষার্থীরা।

আর এইচএসসি ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় দ্বাদশ শ্রেণিতে বাংলা-২ (নতুন সিলেবাস) ও বাংলা-২ (পুরাতন সিলেবাস) এবং একাদশে বাংলা-১ (সৃজনশীল নতুন সিলেবাস) ও বাংলা-১ (সৃজনশীল পুরাতন সিলেবাস) পরীক্ষা হবে।

এছাড়া কারিগরি বোর্ডের অধীনে ডিপ্লোমা-ইন কমার্সে দ্বাদশ শ্রেণিতে বাংলা-২ এবং একাদশে বাংলা-১ (সৃজনশীল) বিষয়ের পরীক্ষা দেবেন শিক্ষার্থীরা।

এবার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৬৯৭ জন। আর ছাত্রী ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮৯ জন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ঢাকা কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে।

আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার এইচএসসিতে ৯ লাখ ৮২ হাজার ৭৮৩ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে ৯৯ হাজার ৩২০ জন, কারিগরি বোর্ডের অধীনে ৯৬ হাজার ৯১৪ জন ও ডিআইবিএসে (ডিপ্লোমা ইন বিজনেস স্টাডিজ) ৪ হাজার ৬৬৯ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।

চলতি বছরের এইচএসসির লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ১৫ মে। ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৬ মে শুরু হয়ে শেষ হবে ২৫ মে। এবার ৮ হাজার ৮৬৪টি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ২ হাজার ৪৯৭টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। বিদেশে সাতটি কেন্দ্রে ২৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে।

এ বছর মোট ২৬টি বিষয়ের ৫০টি পত্রে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা হবে। গত বছর ১৯টি বিষয়ের ৩৬টি পত্রে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা হয়। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কক্ষে প্রবেশ করতে হবে। প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পরে রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা হবে। উভয় পরীক্ষার মধ্যে সময়ের ব্যবধান থাকবে না।

এবারও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পলসিজনিত প্রতিবন্ধী ও যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী শ্রুতিলেখক নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। এ ধরনের পরীক্ষার্থী ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে। এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় ও পরীক্ষার কক্ষে অভিভাবক বা শিক্ষক বা সাহায্যকারী নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।