সংলাপ নয়, শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী

এমএনএ রিপোর্ট : নির্বাচন নিয়ে সংলাপ নয়, শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রধানমন্ত্রী  ডাকবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ সোমবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তিনি এ কথা জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্যই মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপের আমন্ত্রণ জানাবেন। তবে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নিয়ে সংলাপের দাবি হাস্যকর।

তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে সংলাপের কোনো বিষয় নেই। যেই নির্বাচন নিয়ে সারা বিশ্বের কোথাও কোনো সংশয় নেই, গণতান্ত্রিক বিশ্ব থেকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছে, কোনো বিতর্ক কোনো প্রশ্ন না করেই। সেখানে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংলাপের কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন নিয়ে কোনো সংলাপ নয়।

তবে কী কারণে দলগুলোকে গণভবনে ডাকা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে ঐক্যফ্রন্টসহ ৭৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য চিঠি দিয়ে আবারো তাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। আর সেটা শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য। এখানে কোনো সংলাপ নয়।

তিনি বলেন, আমরা কোনো সংলাপের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি না।

১৯ জানুয়ারির সমাবেশের প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিজয়ী দলের অনেক দায়িত্ব। তাই জনদুর্ভোগকে মাথায় রাখতে হবে। মহাবিজয়ে কেউ যেন মহাদাপট দেখাতে না যান। এখন থেকে জনগণের কাছে আরও বিনয়ী হবেন।

এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে কিছুটা জনদুর্ভোগ হতে পারে আশঙ্কা করে আগাম দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি।

দল ও সরকার আলাদা করার প্রক্রিয়া চলছে উল্লেখ করে কাদের বলেন, এ বিজয়কে সংহত করতে চাইলে আমাদের দল গোছাতে হবে। আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ বিজয় চাইলে দলের ভেতরের সমস্যা আগে ঠিক করতে হবে। এই সমস্যাগুলো অনতিক্রম্য নয়, অতিক্রম্য।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সভায় আর বক্তব্য দেন- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর প্রমুখ।

এর আগে, গত রবিবার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ যে ৭৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছিল তাদের সঙ্গে ফের সংলাপে বসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের ফের আমন্ত্রণ জানাবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে মাত্র আটটি আসন পাওয়া ঐক্যফ্রন্ট শপথ না নেয়ার ঘোষণা দিয়ে অবিলম্বে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানায়। আর কামাল হোসেন জোটের পক্ষ থেকে জাতীয় সংলাপ করার ঘোষণা দেন। ঐক্যফ্রন্টের ওই সংলাপ আহ্বানকে দু’দিন আগে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন আ’লীগের এই সাধারণ সম্পাদক।

x

Check Also

আবরার হত্যার দায়ে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি

এমএনএ রিপোর্ট : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার দায়ে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ...

Scroll Up