সন্ধ্যায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : নিদাহাস ট্রফির প্রথম ম্যাচে ডট বলের ফাঁদে আটকা পড়ে বাজেভাবে হারে বাংলাদেশ। আজ শনিবার সন্ধ্যায় আবারও মাঠে নামছে টাইগাররা। এবার প্রতিপক্ষ স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। টুর্নামেন্টে টিকে থাকার এই ম্যাচে আজ বাংলাদেশের জয়ের বিকল্প নেই। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
ঘরের মাঠে সবশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে শ্রীলঙ্কার কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৩ রান করেও হার এড়াতে না পারায় বোলারদের নিয়ে হয়েছিলো ব্যাপক সমালোচনাও। পরের ম্যাচে ব্যাটিং-বোলিং দুটোই ছিল কাঠগড়ায়। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে যেন ঠিকঠাক মানিয়ে নিতে পারছে না বাংলাদেশ।
গতকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন জানান, ‘যেহেতু উইকেট নিষ্প্রাণ, রান হয়েই যায়। জিততে হলে কমপক্ষে ১৭০-১৮০ করতেই হবে। এই মাঠের জন্য অন্তত এটা ভালো স্কোর। এই রান করতে পারলে আশা করি জিততে পারব।’
তবে দুর্ভাবনা শুধু ব্যাটিং নিয়েই নয়। ভারতের বিপক্ষে বোলিংটা খারাপ না হলেও সাম্প্রতিক অতীতের অভিজ্ঞতা জাগাচ্ছে শঙ্কাও। পরের ম্যাচে ব্যাটিং ভালো হয়ে যদি খারাপ হয় বোলিং!
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সবশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে যেমনটি হয়েছিল। প্রথম ম্যাচে নিজেদের সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি স্কোর গড়েও বাংলাদেশ হেরেছিল বোলিং ব্যর্থতায়। পরের ম্যাচে বাজে হয়েছিল ব্যাটিং-বোলিং দুটোই।
এই অধারাবাহিকতাই টি-টোয়েন্টিতে দলের টানা হারের বড় কারণ। তাসকিন জানালেন, দলও সেটি উপলব্ধি করছে।
তা বাংলাদেশ যে চায়, সেটি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সমস্যা হচ্ছে, চাওয়া আর পাওয়ায় মিলছে না। ভারতের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে মেলেনি। মিলবে কী, প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারেনি বাংলাদেশ। আজও জয় না এলে? এরপরও দুটি ম্যাচ বাকি থাকবে বাংলাদেশের। তবে ১৮ তারিখ নিদাহাস ট্রফির ফাইনালটা ‘ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা’ হওয়া ঠেকানো তখন কঠিনই হয়ে পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে এসে তাসকিন আহমেদ তো গ্রুপ পর্বে বাকি তিন ম্যাচের সব কটিতেই জয়ের আশা দেখিয়ে গেলেন, ‘এখনো তিনটা ম্যাচ আছে। তিনটার মধ্যে দুটিতে ভালো রানরেট নিয়ে জিতলে আশা করি ফাইনালে যাওয়া যাবে, তিনটা জিতলে তো কথাই নেই।’
আশা দেখাচ্ছেন, তবে আশার বেলুনটাকে ফোলাচ্ছেনও না তাসকিন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাটিতেই যেখানে সর্বশেষ দুটি টি-টোয়েন্টিতে হার জুটেছে কপালে, সেখানে এবার তাদেরই মাটিতে ম্যাচ। লঙ্কানরা আছেও আগুনে ফর্মে। তাসকিনও তাই বাস্তবের মাটিতেই পা রাখছেন, ‘ওদের মাটিতে ওদের সঙ্গে খেলা, চ্যালেঞ্জটা সহজ হবে না। প্রথম ম্যাচটা ভারতের সঙ্গে জেতায় ওদের আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গে। তবে আমাদেরও মানসিকভাবে শক্ত থেকে ওদের সঙ্গে লড়ে যেতে হবে।’ লড়াইয়ের ‘শর্ত’টাও জানিয়ে দিলেন, ‘আমাদের ব্যাটিং-বোলিং দুই দিক থেকেই আরও ভালো অবদান রাখা লাগবে।’
আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের মতে, ওপেনিংয়ে সৌম্যর শুরুটা ভালোই হচ্ছে। কিন্তু মিডল অর্ডারে এসে বেশি ডট বল খেলে ফেলছেন ব্যাটসম্যানরা। খুব বেশি বাউন্ডারি নির্ভরতার কারণে উইকেটও পড়ে যাচ্ছে। ভারতের বিপক্ষে হারের কারণ হিসেবে রিয়াদ ব্যাটসম্যানদের আরও দায়িত্ব নিয়ে খেলার ওপর জোর দিয়েছেন। তাহলে আজ ঠিক কত রান হলে বোলাররা সেটা রক্ষা করতে পারবেন?
শ্রীলঙ্কা বলেই সর্বশেষ সিরিজের কথাটাও আসে। সেবার দুই ম্যাচেই ‘উদার’ বোলিং করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের ১৯৩ রানের স্কোরটাও আগলে রাখা যায়নি, দ্বিতীয় ম্যাচে তো আগে ব্যাটিং পেয়ে শ্রীলঙ্কা করে ফেলে ২১০। নিদাহাস ট্রফির প্রথম ম্যাচে আবার ব্যাটসম্যানরা দেখিয়েছেন ‘সৌজন্যবোধ’। নিজেরা রান নিয়ে কষ্ট দেননি ভারতীয় বোলারদের।
আজ বুক ফুলিয়ে বলার মতো রানটা কত হতে পারে? তাসকিন ‘১৭০-১৮০’-তেই চোখ রাখছেন। কিন্তু এখানেও আবার শঙ্কা! ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কুশল পেরেরা যেমন ব্যাটিং করলেন, তারপর শঙ্কাটা না এসেই পারে না। থিসারা পেরেরা, কুশল মেন্ডিসরা তো আছেনই!
তবে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে দায়িত্ব নেওয়ার পর একের পর এক সাফল্য লংকানদের বুকের ছাতি বড় করে দিয়েছে। ভারতের বিপক্ষে সেদিনের সেই কুশল পেরেরার ৩৭ বলে ৬৬ রানের ইনিংস ঘিরে লংকানদের মুগ্ধতা এখনও কাটেনি। তবে এ মুহূর্তে লংকার দুর্বল জায়গা বলতে তাদের বোলিং। আকিলা ধনঞ্জয়াকে দিয়ে ঢাকার মাঠে বাজিমাত করতে পারলেও কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে তিনি হতাশ করেছেন হাথুরুকে।
তাই বলে বাংলাদেশের সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়াটা সম্ভবত ঠিক হবে না। কারণ প্রেমাদাসায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচের স্মৃতি। মাশরাফির টি-টোয়েন্টি থেকে বিদায়ের সেই ম্যাচটা জয় দিয়েই রাঙিয়েছিল বাংলাদেশ।
দেখা যাক, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সেই সুখ স্মৃতিটা তাজা হয় কিনা আজ? টাইগাররা ফিরতে পারে কিনা ছন্দে?