সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস আর নেই

69

এমএনএ রিপোর্ট : ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস আর নেই(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার সকাল ৬টার দিকে তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

মিজারুল কায়েসের শ্যালক মোকাররম হোসাইন পিন্টু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মিজারুল কায়েসের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

ব্রাসিলিয়াতে তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে আছেন। তাদেরসহ মিজারুল কায়েসের মরদেহ ঢাকায় ফেরত আনা হবে।

এক মাসের ছুটি শেষে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে ব্রাজিলে ফেরার পরই মিজারুল কায়েস অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এরপর হাসপাতালে ভর্তি হলে তাকে কিডনির জটিলতা, শ্বাসকষ্টসহ নানা কারণে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রাখা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

কিশোরগঞ্জের সন্তান মিজারুলের বয়স হয়েছিল ৫৭ বছল। তিনি স্ত্রী নাইমা চৌধুরী ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।

মিজারুল কায়েসের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মিজারুল এর আগে ২০১২ সালে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ও রক্তে ইনফেকশনের মতো প্রাণঘাতী সেপটেসেমিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।

সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সেসময় সুস্থ হয়েছিলেন তিনি।

ব্রাজিলে যাওয়ার আগে মিজারুল বাংলাদেশের লন্ডন মিশনে হাই কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। তখন তার কার্যক্রম বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। এরপর তাকে ব্রাজিলে পাঠানো হয়েছিল।

মালদ্বীপ ও রাশিয়ায় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনের পর ২০০৯ সালের জুলাইয়ে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্বে এসেছিলেন মিজারুল। তিন বছর পর তিনি হাই কমিশনারের দায়িত্ব নিয়ে লন্ডন গিয়েছিলেন। সেখানে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ছিলেন তিনি।

এ ছাড়া মিজারুল কায়েস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালক হিসেবে সার্ক, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, আনক্লস ও বহিঃপ্রচার অনুবিভাগের দায়িত্বও পালন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্টে পড়াশোনা করা মিজারুল বিসিএসে ১৯৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ নানা পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউটেও তিনি পড়িয়েছিলেন।

শিল্পকলার একজন সমঝদার ব্যক্তি হিসেবেও খ্যাতি রয়েছে মিজারুলের, চিত্রকর্ম সংগ্রহে তার ছিল বিশেষ ঝোঁক। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও চিত্র প্রদর্শনীতে বিচারকের ভূমিকা পালন করেছিলেন এই কূটনীতিক। ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সদস্য ছিলেন তিনি।