সামরিক শক্তি প্রদর্শন করল উত্তর কোরিয়া

50

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : উত্তর কোরিয়া সামরিক শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে সেনা জড়ো করেছে। আজ শনিবার পিয়ংইয়ংয়ে সামরিক কুচকাওয়াজ শুরু হওয়ার আগে তেদং নদীর তীরে সেনাভর্তি শত শত ট্রাকের সারি দেখা যায়।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয়টি ওয়াশিংটন ও সিউলের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। কিমের দাদা উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল-সুংয়ের আজ ১০৫তম জন্মদিন ‘সূর্যের দিন’ পালন উপলক্ষে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের এ আয়োজন করছে উত্তর কোরিয়া।

দিনটি উত্তর কোরিয়ায় ‘ডে অব দ্য সান’ হিসেবে পালিত হয়। এই দিনটি উপলেক্ষ্যে উত্তর কোরিয়া নতুন কোনো অস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে পারে, এমন সম্ভাবনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুধু সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, ওয়াশিংটন, সিউল, টোকিওর মতো শহরগুলোকেও কঠোর বার্তা পাঠাতে চায় উত্তর কোরিয়া।

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দেশটির নতুন অস্ত্রের পরীক্ষার জবাব যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে দিবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে ‘ধৈর্যচ্যুতি’ঘটেছে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক ও আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম—এমন যুদ্ধাস্ত্র বহনকারী রকেট তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে উত্তর কোরিয়ার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য তা ঠেকাতে বদ্ধপরিকর।

উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে পাঁচটি পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। ২০১৬ সালে দুটি পরীক্ষা চালানো হয়। একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি। এর মধ্যে তিনটি জাপানের কাছাকাছি জলসীমায় পড়েছে। উত্তর কোরিয়া শিগগিরই ষষ্ঠ পারমাণবিক পরীক্ষা চালাতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

হোয়াইট হাউস বলেছে, সামরিক ব্যবস্থার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে ইতিমধ্যে সেনাসহ রণতরি ইউএসএস কার্ল ভিনসন রওনা হয়েছে।

ইতোমধ্যে কোরীয় উপদ্বীপের পথে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী বহর। জাপানি যুদ্ধজাহাজও এই বহরের সঙ্গে যোগ দিবে এমন ঘোষণাও এসেছে।

সম্প্রতি সিরিয়ায় বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করে চালানো এক হামলার প্রতিক্রিয়ায় দেশটির একটি বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। এরপর থেকেই উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এরই মধ্যে আফগানিস্তানেও আইএস জঙ্গিদের ওপর ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামের অপারমাণবিক সবচেয়ে বড় বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন তিনি।

কোরিয়ান (উত্তর) পিপলস আর্মির জেনারেল স্টাফের এক মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ বলেছে, ডিপিআরকে-র প্রতি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে শত্রুতামূলক নীতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের যেসব দস্যুতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে সেগুলোর পাল্টা ও সমুচিত জবাব দিবে ডিপিআরকে-র সেনাবাহিনী ও জনগণ। যুক্তরাষ্ট্র ও তার নৌবাহিনীকে চরম প্রত্যাঘাতের মাধ্যমে এমন নির্দয় জবাব দেওয়া হবে যে হানাদাররা বাঁচারই সুযোগ পাবে না।

কেসিএনএ বলেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘গুরুতর সামরিক হিস্টিরিয়া একটি বিপজ্জনক পর্যায়ে’ পৌঁছে গেছে ‘যাকে আর অগ্রাহ্য করা যাচ্ছে না।

ডিপিআরকে বা ডেমোক্র্যাটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া উত্তর কোরিয়ার দাপ্তরিক নাম।

ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে ট্রাম্প বলেছেন, আমরা একটি আর্মাডা পাঠাচ্ছি। এটি খুব শক্তিশালী। তিনি (কিম) খারাপ কাজ করছেন। বড় ধরনের ভুল করছেন।

এদিকে কোরিয় উপদ্বীপে চলমান উত্তেজনায় জড়িত সবাইকে ধৈর্য ধরার পাশাপাশি এ ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে মস্কো।

রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ক্রেমলিনে সাংবাদিকদের বলেন, কোরিয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় মস্কো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এবং আমরা সব দেশকে ধৈর্য ধরার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ উস্কানি পায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

সম্প্রতি কোরিয় উপদ্বীপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। উত্তর কোরিয়ার একের পর এক পরমাণু পরীক্ষায় আমেরিকা উদ্বিগ্ন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়া তার দেশের জন্য সমস্যা তৈরি করছে। এবং এর সমাধান করতে হবে। তাছাড়া কোরিয়াকে ঠেকাতে যে কোনো কিছু করবে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প। তারই অংশ হিসেবে কোরিয় দ্বীপে একটি বিশাল বিমানবাহী রণতরীসহ একটি স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠিয়েছে আমেরিকা।

আমেরিকা চীনকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যদি চীন নাও আসে তবে আমেরিকা নিজেই উত্তর কোরিয়াকে প্রতিহত করবে।

তবে উত্তর কোরিয়া বলছে, আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত কর‍ার জন্য এসব অস্ত্র দেশটিকে আত্মরক্ষ‍া করতে সাহায্য করবে। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।