সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ হচ্ছে

139

এমএনএ রিপোর্ট : সৌদি সরকারের সহযোগিতায় সারা দেশে নির্মাণ হচ্ছে ৫৬০টি মডেল মসজিদ। দেশের সব জেলা, সিটি কর্পোরেশন ও উপজেলায় এসব মসজিদ নির্মাণ করা হবে।

ইসলামী মূল্যবোধের উন্নয়ন এবং ইসলামী সংস্কৃতি বিকাশের উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী এই মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র জানিয়েছে, এসব মসজিদ নির্মাণে মোট প্রস্তাবিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৮ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা থাকবে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ এর অনুদান।

এগুলোর মধ্যে ৬৪টি জেলায় ও উপকূলীয় এলাকায় ১৬টি চারতলা বিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ করা হবে। অবশিষ্ট মসজিদগুলো হবে তিনতলা বিশিষ্ট। এসব মসজিদে প্রতিদিন চার লাখ ৪০ হাজার ৪৪০ জন পুরুষ ও ৩১ হাজার ৪০০ জন নারীর নামাজের ব্যবস্থা থাকবে।

তিন ক্যাটাগরিতে মসজিদগুলো নির্মিত হবে। এ-ক্যাটাগরিতে ৬৮টি চারতলা বিশিষ্ট মডেল মসজিদে থাকবে লিফট। এগুলো নির্মাণ হবে ৬৪টি জেলা শহরে এবং চারটি সিটি কর্পোরেশন এলাকায়। এগুলোর আয়তন হবে দুই লাখ ৮১ হাজার ৫৮৪ বর্গমিটার। এক লাখ ৬৪ হাজার ৭৪২ বর্গমিটার আয়তনের বি-ক্যাটারির মসজিদ হবে ৪৭৬টি। আর ৬১ হাজার ২৫ বর্গমিটার আয়তনের সি ক্যাটাগরির মসজিদ হবে ১৬টি।

লাইব্রেরি সুবিধাও থাকবে মডেল মসজিদগুলোতে। প্রতিদিন ৩৪ হাজার পাঠক এক সঙ্গে কোরআন ও ইসলামিক বই পড়তে পারবেন। ইসলামিক বিষয়ে গবেষণার সুযোগ থাকবে ৬ হাজার ৮০০ জনের। ৫৬ হাজার মুসল্লি সব সময় দোয়া, মোনাজাত করাসহ তসবিহ পড়তে পারবেন।

মসজিদগুলো থেকে প্রতি বছর ১৪ হাজার হাফেজ তৈরির ব্যবস্থা থাকবে। আরো থাকবে ইসলামিক নানা বিষয়সহ প্রতিবছর ১ লাখ ৬৮ হাজার শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা। ২ হাজার ২৪০ জন দেশি-বিদেশি অতিথির আবাসন ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে প্রকল্পের আওতায়। পবিত্র হজ পালনের জন্য করা হবে ৫০ শতাংশ ডিজিটাল নিবন্ধনের ব্যবস্থা।

এসব মসজিদে আরো থাকবে ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, মৃতকে গোসল করানোর কক্ষ। উপকূলীয় এলাকার মসজিদগুলোতে নিচ তলা ফাঁকা থাকবে।

প্রতিটি মসজিদ হবে একই মডেলের। ৩ থেকে ৪ তলা বিশিষ্ট এই মডেল মসজিদের জন্য জায়গা লাগবে প্রায় ৪০ শতক। প্রতিটি মসজিদ তৈরিতে প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এসব মসজিদ নির্মাণে ইতিমধ্যে ৮০ ভাগ জায়গা নির্বাচন করা হয়েছে। অধিকাংশ উপজেলায় বর্তমানে যেখানে ছোট মসজিদ রয়েছে, কিন্তু জরাজীর্ণ এমন জায়গায় এ মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে বিদ্যমান ওই জরাজীর্ণ ছোট মসজিদ ভেঙে সেখানে নতুন করে এই মডেল মসজিদ তৈরি করা হবে। কোনো কোনো উপজেলায় উপজেলা কমপ্লেক্সের ভেতরের খালি জায়গায় করা হবে এই মসজিদ। আবার কোনো কোনো উপজেলায় নাগরিকরা মসজিদের জন্য জায়গা দান করেছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে এসব মসজিদ পরিচালিত হবে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এ মসজিদের নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এ নকশা স্থাপত্য অধিদপ্তরের ভেটিংয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

সূত্র জানায়, ক’বছর আগেই সৌদি অনুদানে এসব মসজিদ নির্মাণের কথা ছিলো। কিন্তু অনুদান না পাওয়ায় দীর্ঘদিন প্রকল্পটি ঝুলে ছিলো।

গত বছর জুনে (৩-৭ জুন) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব সফর করেন। সেই সফরে প্রধানমন্ত্রী সৌদি বাদশাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় প্রতি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন-সংক্রান্ত প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়। সৌদি আরব সরকার শেখ হাসিনার প্রস্তাব গ্রহণ করেন। সফর শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী এই মডেল মসজিদের নকশা তৈরিসহ সামগ্রিক বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মাধ্যমে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে পাঠালে সৌদি সরকার তাতে সম্মতি দিয়েছে।

সর্বশেষ আজ বুধবার ভোরে বাংলাদেশে আসা মক্কা ও মদিনার দুই ইমামসহ ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সৌদি আরবের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পবিত্র কাবা শরিফ ও মসজিদে নববীর সম্মানিত ইমাম, খতিব এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট শায়খ ড. মুহাম্মদ বিন নাসির আল খুজাইম।

প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন মসজিদের নববীর সম্মানিত ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আবদুল মহসিন বিন মুহাম্মদ আল কাসিম, সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ২ জন কর্মকর্তা, সৌদি আরবের উচ্চ পর্যায়ের আলেম ও সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল সাংবাদিকদেরকে বলেন, এই ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণে আমাদের সরকার ১ হাজার ২৯ কোটি দেবেন ভূমি অধিগ্রহণের জন্য। সৌদি বাদশার অনুদানের বিষয়টি অনেকটাই চূড়ান্ত হয়ে গেছে। সৌদির দুই ইমাম বাংলাদেশে এসেছেন অনুদানের বিষয়টা আরও এগিয়ে যাবে। আমরা আশা করছি আগামী একনেক (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটি) প্রকল্পটি সভায় ‘ইস্টাবিলিসিং ৫৬০ মডেল মস্ক অ্যান্ড ইসলামিক কালচার সেন্টার ইন জেলা অ্যান্ড উপজেলা অব বাংলাদেশ’ প্রকল্প উত্থাপন করবো। আশা করছি দ্রুত সময়েই প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে।