সালমান খানের ৫২তম শুভ জন্মদিন আজ

46
এমএনএ বিনোদন ডেস্ক : আজ ২৭ ডিসেম্বর, বুধবার সালমান খানের ৫২তম জন্মদিন। ১৯৬৫ সালের এই দিনটিতে জন্মেছিলেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। বর্তমানে যিনি বলিউড ভাইজান নামে বহুল পরিচিত। কোটি ভক্তের হৃদয়ের মণি তিনি।
বলিউডে তার জন্মদিনকে ঘিরে আনন্দের উপলক্ষ চলছে। সহকর্মীরা নানা রকম উপহার, শুভেচ্ছা পাঠাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও বইছে শুভেচ্ছা আর ভালোবাসার বন্যা।
তবে নিজের জীবনের বিশেষ দিনটিতে হয়তো সেরা উপহারটি তিনি পেয়েছেন বন্ধু শাহরুখ খানের কাছ থেকেই। বন্ধু সালমানের জন্মদিনে গান গেয়ে শুভেচ্ছা জানালেন বলিউড বাদশা।
১৯৬৫ সালের এই দিনে ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইনদোরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা বলিউডের জনপ্রিয় চিত্রনাট্যকার সেলিম খান এবং মা সালমা খান। সালমানের প্রকৃত নাম আব্দুল রশিদ সেলিম সালমান খান। নিজেকে হিন্দু এবং মুসলমান দুই ধর্মের মানুষ বলেই পরিচয় দেন এ অভিনেতা। সালমানের সৎ মা অভিনেত্রী হেলেন। তার ভাই আরবাজ খান, সোহেল খান এবং বোন আলভিরা খান। এছাড়া অর্পিতা খান নামে তার একজন পালক বোন আছে।
সালমানের বলিউডে অভিষেক হয় ১৯৮৮ সালে ‘বিবি হো তো এহসি’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে। এই ছবিতে তিনি একটি গৌণ চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর ১৯৮৯ সালে সুরাজ বার্জাতিয়া পরিচালিত ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন। পরের বছর মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘বাঘি: অ্যা রেবেল ফর লাভ’ দিয়ে বাজিমাৎ করলেন তিনি।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সালমানকে। ‘সাজন’, ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’, ‘করণ অর্জুন’, ‘জড়ুয়া’, ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’, ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’, ‘তেরে নাম’, ‘জান-এ-মান’, ‘পার্টনার’, ‘দাবাং’, ‘এক থা টাইগার’, ‘ওয়ান্টেড’, ‘রেডি’, ‘বডিগার্ড’, ‘কিক’, ‘বজরঙ্গি ভাইজান’, ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ ও ‘সুলতান’সহ অনেক সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়ে ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তিনি।
সালমানের সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’। মুক্তির পরই সিনেমাটি দারুণ সাফল্য পাচ্ছে। সপ্তাহ না ফুরাতেই ছবিটি প্রায় ২০০ কোটি আয় করে নিয়েছে।
দীর্ঘ ২৫ বছরের ক্যারিয়ার জীবনে সালমান খান অভিনয় করেছেন ৮০টিরও বেশি সিনেমায়। অভিনয়ের দক্ষতা দিয়ে অনেক অর্জনই নিজের ঝুলিতে তুলে নিয়েছেন সালমান খান। এর মধ্যে রয়েছে- ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস, স্টার স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডস, আইফা অ্যাওয়ার্ডস, জি সিনে অ্যাওয়ার্ডস, অপসরা ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন প্রডিউসার গিল্ড অ্যাওয়ার্ড, স্টারডাস্ট অ্যাওয়ার্ডস, বিগ স্টার এন্টারটেইনমেন্ট অ্যাওয়ার্ডসসহ আরও বিভিন্ন পুরস্কার।
শুধু সিনেমাজগত নয়, টিভি পর্দায়ও সালমানের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। ‘দশ কা দম’, ‘বিগ বস’ অনুষ্ঠানগুলো দিয়ে ছোট পর্দাতে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।
বলিউড পাড়ার অন্যতম চর্চিত বিষয় সালমান খানের ব্যক্তিগত নানান ঘটনা। সাবেক প্রেমিকা ঐশ্বরিয়া রাই-এর সঙ্গে প্রেম, এরপর বিচ্ছেদ নিয়ে অনেক সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। পরবর্তীতে ক্যাটরিনা কাইফ, সঙ্গীতা বিজলানি, সোমি আলির সঙ্গে তার প্রেমের গল্পে মুখরিত ছিলো বলিউড অঙ্গন। বর্তমানে সালমানের লুলিয়া ভান্টুরের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছে বলিউডে।
ব্যক্তিগত জীবনে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত এ অভিনেতা। ‘বিইং হিউম্যান’ নামে তার একটি দাতব্য সংস্থা রয়েছে। এটি সমাজ ও মানুষের সহযোগিতায় কাজ করে।
২০১৫ সালে সালমান খানের ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশ পায় তার প্রথম আত্মজীবনী। বইটি লিখেছেন জসিম খান নামের দিল্লির একজন সাংবাদিক। পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া থেকে প্রকাশিত সালমানের আত্মজীবনীমূলক বইটির নাম ‘বিইং সালমান’।
ব্যক্তিগত জীবনে সালমান খান এখনও অবিবাহিত। এজন্য বলিউডের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাচেলরের খেতাবটা তার নামের পাশেই শোভা পায়।
বলিউডের বেশ কয়েকটি ব্যবসা সফল ছবিতে “প্রেম” চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভাইজান খ্যাত সালমান খান। এই সুপারস্টারের ৫২তম জন্মদিন উপলক্ষে সেগুলোর ফিরিস্তি নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এ বিশেষ প্রতিবেদন।
ফিরে দেখা যাক, ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া থেকে শুরু করে ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ ছাড়া সালমান কোন ১৫টি ছবিতে প্রেম চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
প্রেম নামটি নিতান্তই সালমান খানের সঙ্গে মানায় পুরোপুরিভাবে। হৃতিক রোশন ও অভিষেক বচ্চন ‘ম্যায় প্রেম কি দিওয়ানি হু’ আর শহিদ কাপুর ‘বিবাহ’ ছবিতে প্রেম চরিত্রে কাজ করেছেন ঠিকই, কিন্তু সালমান প্রেম ছিলেন, থাকবেন সবসময়। ১৯৮৯ সালে ব্লকবাস্টার ছবি ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’র মাধ্যমে প্রথম বড় সাফল্য পাওয়ার ২৮ বছর পেরিয়েছে, আজও প্রেম হিসেবে সালমান অতুলনীয়।

* ম্যায়নে পেয়ার কিয়া (১৯৮৯)
এটি প্রেম চৌধুরী (সালমান) ও সুমানের (ভাগ্যাশ্রী) তুমুল জনপ্রিয় ভালোবাসার গল্প। এর মাধ্যমে প্রথমবার প্রেম চরিত্রে বড় পর্দায় এসেছিলেন সল্লু। সবদিক দিয়েই নিজেকে যথাযথ রোমিও হিসেবে উপস্থাপন করেন তিনি।
* হাম আপকে হ্যায় কৌন..! (১৯৯৪)
‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’র পর আবার সুরজ বরজাতিয়ার পরিচালনায় এ ছবির মাধ্যমে প্রেম হয়েছেন সালমান। ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’ সবদিক দিয়েই রেকর্ড গড়েছে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। তিনি হয়ে ওঠেন বলিউডের সুপারস্টার। প্রেম ও নিশার (মাধুরী দীক্ষিত) জাদুময় রসায়ন, সংলাপ, পোশাক, গান ও নাচের মুদ্রা- সবই দর্শক মাতিয়েছে। ছবিটি মুক্তির ২১ বছর পেরিয়েও এই জনপ্রিয়তা কমেনি কিঞ্চিৎ।
* আন্দাজ আপনা আপনা (১৯৯৪)
সালমান অভিনীত অন্যান্য প্রেম থেকে ‘আন্দাজ আপনা আপনা’র প্রেম একটু আলাদা। ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ ও ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন..!’ তাকে লাভার-বয় ভাবমূর্তি এনে দিলেও এ যাত্রায় তার কৌতুকাভিনয় মুগ্ধ করেছে সবাইকে। বক্স অফিসে হিট না হলেও আমির ও সালমানের দুর্দান্ত অভিনয় আজও দর্শকদের আনন্দ দেয়। ছবিটিতে অতিসরল প্রেম ভোপালিকে সহজে ধোঁকা দিতে পারে আমির অভিনীত অমর চরিত্রটি।
* জড়ুয়া (১৯৯৭)
এ ছবিতে একসঙ্গে দুই সালমানকে পাওয়া গেছে! এর মধ্যে রাজা হলো ছিঁচকে চোর, আর তার যমজ ভাই গায়ক প্রেম মালহোত্রা ধনী। জন্মের সময় দু’জন আলাদা হয়ে যায়। কিন্তু দেখতে একই রকম হওয়ায় দু’জনের দেখা হয়ে যায় গল্পে। সালমানের পাশাপাশি কারিশমা কাপুর ও অনুপম খেরের হাস্যরসধর্মী অভিনয় সব বয়সী দর্শককে আনন্দ দিয়েছে।
* দিওয়ানা মাস্তানা (১৯৯৭)
এ ছবির দুই মূল নায়ক অনিল কাপুর ও গোবিন্দ প্রেমে পড়েন সুন্দরী জুহি চাওলার। তার মন জয় করতে চেষ্টার ত্রুটি রাখেন না তারা। কিন্তু জুহির মন তো আর গলে না। উল্টো প্রেম কুমার হিসেবে সালমানকে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। জুহি নাকি তার প্রেমেই মশগুল, বিয়েও করবেন তাকেই। ছবিটির নায়ক না হলেও সবশেষে নায়িকাকে তিনিই পেয়েছেন!
* সির্ফ তুম (১৯৯৭)
ছবিটিতে অতিথি শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন সালমান। মূল তিন চরিত্রে ছিলেন সঞ্জয় কাপুর, প্রিয়া গিল ও সুস্মিতা সেন। আরতির (প্রিয়া গিল) প্রেমে পড়ে প্রেম। তাকে বিয়ের প্রস্তাবও দেয় প্রেম। কিন্তু আরতি তা প্রত্যাখান করে। কারণ সে ভালোবাসে সঞ্জয়কে। ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ ও ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন..!’ ছবির প্রেমের মতোই এই প্রেম।
* হাম সাথ সাথ হ্যায় (১৯৯৯)
এই গল্পটা একটি যৌথ পরিবারের, যারা থাকে একসঙ্গে। বেড়ানো কিংবা নাচ-গানও করেন তারা সম্মিলিতভাবে। এখানে প্রেম একধারে ভাই, প্রেমিক, শ্যালক ও পুত্র হিসেবে সবার প্রিয়। সালমান ছাড়া এমন চরিত্রে আর কাউকেই হয়তো মানাতো না! এটিও পরিচালনা করেন সুরজ বরজাতিয়া।
* বিবি নাম্বার ওয়ান (১৯৯৯)
এ ছবিতে কে নেই! সালমান খান, কারিশমা কাপুর, সুস্মিতা সেন, অনিল কাপুর ও টাবু- তারকায় সয়লাব। বক্স অফিসে ভালো সাফল্য না পেলেও গানগুলো জনপ্রিয় হয়েছে ঠিকই। এখানে প্রেম পড়ে দুই নারীর মাঝে। একজন তার স্ত্রী, অন্যজন তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সুপারমডেল। কাকে তার মনে ধরেছে, তা বুঝতে বুঝতেই ছবি শেষ হয়ে যায়!
* চল মেরে ভাই (২০০০)
ডেভিড ধাওয়ান পরিচালিত এ ছবিতে সঞ্জয় দত্তের ছোট ভাইয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেন সালমান। তারা একই মেয়ের (কারিশমা কাপুর) প্রেমে পড়েন। তাদের মধ্যে প্রেম ওবেরয় প্রাণচঞ্চল। তবে কাজ করতে তার মোটেই ভালো লাগে না। অন্যদিকে তার বড় ভাই কাজপাগল মানুষ। ছবিটি ক্লাইম্যাক্স দর্শকদের মনে করিয়ে দেয় ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন..!’ ছবির কথা।
* কাহি পেয়ার না হো জায়ে (২০০০)
উচ্চকাঙ্ক্ষী গায়ক প্রেম কাপুর থাকে তার বোন কাশ্মিরা শাহকে নিয়ে। তার দুই প্রেমিকা তাকে ছেড়ে বিয়ে করে ধনী প্রবাসীকে। তবে প্রিয়ার (রানী মুখার্জি) মাঝে সত্যিকারের ভালোবাসা খুঁজে পায় প্রেম।
* নো এন্ট্রি (২০০৫)
এখানে প্রেম হলো নারী পটানো পুরুষ। সে বিয়ে করে সরল একটি মেয়েকে (এশা দেওল)। প্রেম যে প্রতারণা করছে তা মোটেই টের পায় না মেয়েটি।
* পার্টনার (২০০৭)
এ ছবির আকর্ষণীয় দিক হলো সালমান খান ও গোবিন্দকে একসঙ্গে পাওয়া। এখানে প্রেম কাজ করে লাভ গুরু হিসেবে। ক্যাটরিনা কাইফের মন জয় করার জন্য ভাস্করকে (গোবিন্দ) নানান বুদ্ধি দেয় সে। এটি হলো হলিউডের ‘হিচ’ ছবির রিমেক।
* ম্যারিগোল্ড (২০০৭)
উইলার্ড ক্যারল পরিচালিত এ ছবিতে সালমানের সহশিল্পী আলি কার্টার। গল্পটা আমেরিকান এক অভিনেত্রী ভারতে আসার গল্প। এখানে প্রেম রাজপুতের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় তার। সে নৃত্য প্রশিক্ষক প্রেমের প্রেমে পড়ে।
* রেডি (২০১১)
ছবিটিতে সালমানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন দক্ষিণী চলচ্চিত্র থেকে আসা ‘গজিনি’ তারকা অসিন। গল্পে প্রেম কাপুর একাই সবকিছুর সমাধান করে ফেলতে পারে। এখানে প্রেম অনেক রসিক। অনেকটা ‘আন্দাজ আপনা আপনা’র মতো।
* প্রেম রতন ধন পায়ো (২০১৫)
‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’, ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন..!’ ও ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির পর সুরজ বরজাতিয়া ও রাজশ্রী প্রোডাকশন্সের সঙ্গে দীর্ঘ ১৬ বছর পর কাজ করলেন সালমান। ফিরে এলেন প্রেম হিসেবে। এতে তাকে দেখা গেছে দ্বৈত চরিত্রে। আরেকজনের নাম বিজয়। এ ছবির মাধ্যমে পারিবারিক নাটকীয়তায় সাজানো ছবিতে ফিরলেন তিনি। এতে তার নায়িকা হয়েছেন হাঁটুর বয়সী সোনম কাপুর।