সিনেমায় ধর্ষণ দৃশ্য বন্ধে আইন অনুমোদন

50

এমএনএ বিনোদন ডেস্ক : সিনেমায় সরাসরি ধর্ষণ দৃশ্য বন্ধে জাতীয় চলচ্চিত্র নীতিমালা ২০১৭ এর অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া ওই নীতিমালায় নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বৈষম্যমুলক আচরণ বা হয়রানিমুলক কর্মকাণ্ড উদ্বুদ্ধ হয় এমন দৃশ্য প্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আজ ৩ এপ্রিল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী কোনো চলচ্চিত্রেই রাষ্ট্র ও জনস্বার্থবিরোধী বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। সমুন্নত রাখতে হবে মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা। এ ছাড়া পরিহার করতে হবে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা।

শফিউল বলেন, কোনো অশোভন উক্তি, আচরণ এবং অপরাধীদের কার্যকলাপের কৌশল প্রদর্শন, যা অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতির প্রবর্তন ও মাত্রা আনতে সহায়ক হতে পারে, এমন দৃশ্য পরিহার করতে হবে।

সুস্থ্য, শিক্ষামূলক ও বিনোদনধর্মী চলচ্চিত্র নির্মাণ, বিতরণ ও প্রদর্শন করতে সরকারি এবং বেরকারি পর্যায়ে নীতিগত ও অবকাঠামোগত ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

চলচ্চিত্রে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য পরিবেশন করা যাবে না জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, চলচ্চিত্রে দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভাবধারার সুষ্ঠু প্রতিফলন এবং এর সঙ্গে জনগণের নিবিড় যোগসূত্র স্থাপন ও সাংস্কৃতিক ধারাকে দেশপ্রেমের আদর্শে অনুপ্রাণিত করার প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে।

চলচ্চিত্রে ক্ষু-নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভাবধারার সুষ্ঠু প্রতিফলন ঘটাতে হবে। সকল ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে এবং ধর্মীয় সহিংসতারোধে জনগণকে উজ্জীবিত করতে হবে।

এ ছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি কমিটি চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, এ ছাড়া তথ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের জাতীয় চলচ্চিত্র বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটি থাকবে, যে কমিটি নীতিমালার আলোকে চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন সুপারিশ দেবে।

শফিউল বলেন, সেন্সর শব্দটি একটু নেতিবাচক, নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট বহন করে। এজন্য বিভিন্ন দেশে সেন্সরের ক্ষেত্রে সার্টিফিকেশন শব্দটি ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশেও পর্যায়েক্রমে সেন্সর সিস্টেম বাদ দিয়ে সার্টিফিকেশন সিস্টেম প্রবর্তন করা হবে।

চলচ্চিত্রের সৃজনশীলতা বজায় রাখতে কপিরাইট ও অন্যান্য মেধাস্বত্ব সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও নীতিমালায় নির্দেশনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের মানোন্নয়ন ও উৎকর্ষ সাধনে যৌথ বিনিয়োগ উৎসাহিত ও বাজার সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট দেশের চলচ্চিত্রের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, প্রযোজক সমন্বয়ে যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রের নির্মাণ উৎসাহিত করা হবে।

তিনি বলেন, চলচ্চিত্রের জন্য বড় সমস্যা হচ্ছে প্রেক্ষাগৃহ। প্রেক্ষাগৃহগুলো বাণিজ্যিক ভবন হয়ে যাচ্ছে, দোকানপাট হয়ে যাচ্ছে।

এ ছাড়া প্রেক্ষাগৃহ সঙ্কটের বিষয়ে সচিব বলেন, এজন্য গভর্মেন্ট পেট্রোনাইজ করবে। ৬৪ জেলায় একটি করে সরকারি তথ্য ভবন নির্মাণ করে তাতে একটি সিনেপ্লেক্স রাখা হবে। এ ছাড়া সরকারি অনুদান দিয়েও বিভিন্ন জেলায় ডিজিটাল সিনেপ্লেক্স করা হবে।