সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার মামলায় ১০ জনের ফাঁসি

এমএনএ রিপোর্ট : ২০০১ সালে রাজধানীর পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় করা মামলায় হরকাতুল জিহাদের (হুজি) ১০ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম আলোচিত এ মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত জীবিত ১২ আসামির মধ্যে দুইজনকে খালাস দিয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- মুফতি মঈন উদ্দিন শেখ, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মহিবুল মুত্তাকিন, আমিনুল মুরসালিন, নূর ইসলাম, মুফতি আব্দুল হাই ও মুফতি শফিকুর রহমান।

এদের মধ্যে মুফতি মঈন উদ্দিন শেখ, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বাকি আসামিরা পলাতক।

আর খালাসপ্রাপ্ত দুই জন হলেন- মো. মশিউর রহমান ও রফিকুল ইসলাম মিরাজ। হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানও ছিলেন এ মামলায় অভিযুক্ত আসামি। অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এ মামলার অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, এই জঙ্গিরা সিপিবিকে কাফের মনে করতো। তাদের নস্যাত করার জন্য তারা ওই হামলা চালায়।

এর আগে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার সকাল থেকেই আদালতপাড়ায় নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা। সবাইকে তল্লাশি করে ঢোকানো হয় আদালতে। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে কারাগারে থাকা চার আসামিকে আদালতে আনা হয়।

১৯ বছর আগে ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির লাল পতাকা সমাবেশে এই বোমা হামলা হয়েছিল। হামলায় ঘটনাস্থলেই মারা যান, পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরো একজন। এছাড়াও আহত হয়েছিলেন শতাধিক।

নৃশংস ওই হামলার ঘটনায় সিপিবির তৎকালীন সভাপতি মনজুরুল আহসান খান মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। দুই বছর পর ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোমিন হোসেন। এরপর আদালতের আদেশে ২০০৫ সালে আবার মামলাটির তদন্ত শুরু হয়। সাত তদন্ত কর্মকর্তার হাত ঘুরে ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর সিআইডি পরিদর্শক মৃণাল কান্তি সাহা ১৩ আসামির বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

গত বছরের ১ ডিসেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে এ মামলার রায়ের জন্য ২০ জানুয়ারি দিন ঠিক করে দেন বিচারক। ঘটনার ১৯ বছর পর একই তারিখে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হলো।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সালাউদ্দিন হাওলাদার জানান, ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১০৬ সাক্ষীর মধ্যে ৩৮ জন সাক্ষ্য দেন। তবে আসামিপক্ষে কেউ সাফাই সাক্ষ্য দেননি।

x

Check Also

আওয়ামী লীগ

দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের

এমএনএ জাতীয় রিপোর্টঃ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের ...

Scroll Up