সুপেয় পানি সংকটের সমাধান জরুরি

আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা অত্যধিক হওয়ায় সুপেয় পানি সংকটে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে পানি সমস্যা থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে হবে। জীবের জীবনীশক্তির একটি প্রধান নিয়ামক হচ্ছে পানি। পানির অপর নাম জীবন। সেই পানিই প্রাণ সংহারের কারণ হয়, যদি তা বিশুদ্ধ না হয়।

জয়েন্ট মনিটরিং রিপোর্ট ২০১৭ অনুযায়ী, এদেশের শতকরা ৫৬ ভাগ মানুষ নিরাপদ পানি পাচ্ছে। বাকি ৪৪ ভাগ অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীই বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকা, চর এলাকা, বিল ও হাওর এলাকা, শহুরে বস্তি এবং ফুটপাতের পার্শ্ববর্তী পানির উৎসগুলোতে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা রীতিমতো উদ্বেগজনক। দূষিত পানি উদ্বেগের একটি বড় কারণ। এ থেকে নানা পানিবাহিত জটিল রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে; যেমন কলেরা, ডায়রিয়া, হেপাটাইটিস, পোলিও, চর্মরোগ।

পানি দূষিত হয়ে থাকে বিভিন্ন কারণে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কলকারখানার বর্জ্যরে অব্যবস্থাপনা, নিম্নমানের স্যানিটেশন, আর্সেনিক দূষণ, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অত্যধিক ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবসৃষ্ট বিভিন্ন বর্জ্য, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জনসচেতনতার অভাব। প্রতিবছর ৫ বছরের নিচে ২০০০ শিশু মৃত্যুবরণ করে ডায়রিয়ার কারণে, যা মূলত দূষিত পানি এবং নিম্নমানের টয়লেট ব্যবহার থেকে সৃষ্ট। অধিকাংশ মানুষের মৌলিক স্যানিটেশন নেই। টয়লেট ব্যবহারের পর পরিষ্কারক সামগ্রী ব্যবহারেও অনীহা দেখা যায়। অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাত পরিষ্কারের ব্যবস্থা নেই।

দেশে ২ কোটি মানুষ রয়েছে আর্সেনিক ঝুঁকিতে। শহর অঞ্চলের পানি দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে পানির পরিবহন অব্যস্থাপনা এবং কলকারখানার বর্জ্য। এসব বর্জ্য বিভিন্ন নদীতে অবমুক্ত করা হয়। ফলে পানি দূষিত হয় এবং এদেশের মৎস্য সম্পদও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর পানি কালসিটে হয়ে গেছে। পানি থেকে এমন দুর্গন্ধ নির্গত হয় যেন এটি ময়লার ভাগাড়।

পানির স্তর ক্রমেই নিম্নমুখী হচ্ছে। ঢাকায় প্রতিবছর পানির স্তর ৩ মিটার এবং সারা দেশে ৫০-১০০ সেন্টিমিটার নিচে নেমে যাচ্ছে। ঢাকা ওয়াসার ১৩ শতাংশ পানির উৎস হল ঢাকাস্থ নদীগুলো। পানি উত্তোলন প্রক্রিয়াও ত্রুটিপূর্ণ। বিভিন্ন জায়গায় ওয়াসার পানি সম্পর্কে নানা অভিযোগ উঠেছে। কেউ ওয়াসার পানিকে শরবত সদৃশ বলে ব্যঙ্গ করছে। এসব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ঝারছেন অনেকেই।

সরকারের সঠিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগই পারে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট নিরসন করতে। দেশের অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে নিরাপদ পানির বিকল্প নেই। কারণ বিশুদ্ধ পানিই হচ্ছে সঞ্জিবনী শক্তির আধার। আমাদের বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা সুসংহত করতে হবে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে হবে। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারে জনগণকে সচেতন হতে হবে।

                                                                                                                                                                                   -সম্পাদক

x

Check Also

রমজানে বাজার তদারকি যেন ফলপ্রসূ হয়

আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সাত সংস্থাকে বাজার তদারকির দায়িত্ব দেয়ার বিষয়টি সময়োপযোগী। জানা ...

Scroll Up