সোমালিয়ায় বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬৫

32
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে একটি ব্যস্ত এলাকায় গাড়ি বোমা হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
মোগাদিশুর সাফারি হোটেলের সামনে এ হামলায় আহত হয়েছে আরও তিন শতাধিক মানুষ। বোমা বিস্ফোরণে হোটেলটি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের কর্মকর্তা আবদুল কাদের আবদুর রহমান।
হামলা হওয়া হোটেলটির পাশে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রেস্তোরাঁ ও বহু দোকানপাট রয়েছে। বিস্ফোরণে ওই ভবনগুলোর সামনের অংশ বিধ্বস্ত হয় এবং রাস্তায় থাকা কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়।
এখন পর্যন্ত এ হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। তবে সোমালিয়ায় আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট আল-শাবাব গোষ্ঠী সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত এবং মোগাদিসু তাদের নিয়মিত টার্গেট। সে কারণে আল-শাবাব গোষ্ঠীকে সন্দেহ করা হচ্ছে।
২০০৭ সালে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই সোমালিয়া সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে আল শাবাব।
দেশটির প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ আবদুল্লাহি মুহাম্মদ ফারমাজো এ ঘটনায় তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন। গতকাল রবিবার সকাল থেকে শুরু হয়ে টানা তিনদিন চলবে শোক।
প্রেসিডেন্ট জানান, নিষ্পাপ মানুষজনের মৃত্যুর জন্য আমরা তিনদিনের শোক পালন করব। এ সময় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। এছাড়া নিহতদের জন্য শুভকামনাও করা হবে। সন্ত্রাসীরা কোনোদিনই জয়ী হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ওই বিস্ফোরণকে কয়েক বছরের মধ্যে শক্তিশালী হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আহতদের সহায়তার জন্য নাগরিকদের প্রতি অনুরোধও জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।
প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ আবদুল্লাহি মুহাম্মদ ফারমাজো জানান, আহতদের সহায়তা, রক্ত দান এবং আনুষাঙ্গিক সহায়তার জন্য আমাদের দেশের সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
আহতদের দেখতে হাসপাতালে গেছেন মোগাদিসু শহরের মেয়র থাবিত আবদে মুহাম্মদ। সেখানে পৌঁছে তিনি এক ব্যাগ রক্তও দিয়েছেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি রক্ত দানে সর্বসাধারণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রিয়জনের খোঁজে গতকাল রবিবার সকালেও অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন বলে খবর দিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা ইব্রাহিম মোহাম্মদ।
তিনি বলেন, “প্রায় তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে, কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”
বিবিসির এক সোমালিয়ান প্রতিবেদক জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে সাফারি নামের ওই হোটেল বিধ্বস্ত হয়ে গেছে, এর ধ্বংসস্তূপের নিচে লোকজন চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।