সৌদি আরবের বাদশাহ হচ্ছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান!

34
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : আগামী সপ্তাহে সৌদি আরবের নতুন বাদশাহ হিসেবে সিংহাসনে বসবেন ৩২ বছর বয়সী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তার আগে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ। ৮১ বছর বয়সী বাদশাহ পদত্যাগের পর সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হবেন তার ছেলে।
সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে এই খবর দিয়েছে ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দ্য ডেইলি মেইল’।
ক্ষমতা হস্তান্তরের পর বাদশাহ সালমানের ভূমিকা হবে অনেকটা ‘ইংল্যান্ডের রাণীর’ মতো। আলঙ্কারিকভাবে ‘রাষ্ট্রের প্রধান’ ও ‘পবিত্র দুই মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার পর থেকে পবিত্র কাবা ও মসজিদে নববীর তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছেন দেশটির বাদশাহ। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এই প্রথমবারের মতো বাদশাহ ছাড়া অন্য কারো হাতে মসজিদ দুটির দায়িত্ব থাকবে।
রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ ওই সূত্র পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণ ‘মেইল অনলাইনকে’ জানিয়েছে, ‘যদি অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না ঘটে তাহলে আগামী সপ্তাহেই ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন বাদশাহ সালমান।’
সূত্র মতে, বাদশাহ হওয়ার পরপরই ইরানের সঙ্গে চলমান বিরোধে দৃষ্টি নিবদ্ধ করবেন মোহাম্মদ বিন সালমান। এমনকি ইসরায়েলের সহাতায় লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের পরামর্শ উপেক্ষা করে যুবরাজ মোহাম্মদ ইরান ও হিজবুল্লাহকে নিশানা করতে চাইছেন বলে জানিয়েছে ‘মেইল অনলাইন’।
সম্প্রতি দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে বেশ কয়েকজন প্রিন্স, মন্ত্রী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিকে আটক করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তাদের রিয়াদের একটি পাঁচতারকা হোটেলে আটকে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালালও রয়েছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, শাসনব্যবস্থায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্যই ওই ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে।
এটাকে সৌদি আরবের রাজতন্ত্রে আধিপত্য নিয়ে চলমান নাটকের সর্বশেষ চাল বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা শুরু হয়েছিল ‍দুর্নীতি দায়ে প্রিন্স, সরকারের মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীদের আটকের মাধ্য দিয়ে। ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ বিন সালমানের একচ্ছত্র ক্ষমতাকে সুসংহত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
মোহাম্মদ বিন সালমান দায়িত্ব গ্রহণ করলেও ‘পবিত্র দুই মসজিদের জিম্মাদার’ হিসেবে থাকবেন সালমান বিন আব্দুল আজিজ।
সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো আরও জানায়, ক্ষমতা গ্রহণের পর ইরান হবে মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রধান টার্গেট।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে তেল সাম্রাজ্য নিয়ে সৌদি আরবের এ প্রতিদ্বন্দ্বীকে কাবু করতে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সহায়তা নিয়ে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনেরও আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে রাজপরিবারের সিনিয়র সদস্যদের পরামর্শের ধার ধারছেন না মোহাম্মদ বিন সালমান।
বর্তমানে একাধিক ফ্রন্টে তেহরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া সৌদি আরব মোহাম্মদ বিন সালমানের সময়ে আরও আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে।
প্রসঙ্গত, ‘হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে’ এমন অভিযোগ করে গত ৪ নভেম্বর লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ আল-হারিরি সৌদি আরবে বসে পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন।
সে সময় সৌদি আরবের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া বক্তব্যে হারিরি বলেছিলেন, তাকে হত্যা করা হতে পারে এই ভয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ইরান ও হিজবুল্লাহ তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।
এর আগে রিয়াদে বিমান বন্দর লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোঁড়া মিসাইলের জন্য ইরানকে দোষারোপ করে আসছিল সৌদি আরব।
যার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের পরাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল জোবায়ের বলেছিলেন, এ হামলার দায় অবশ্যই ইরানের এবং এ আক্রমণ ‘যুদ্ধ ঘোষণা’র শামিল।
উল্লেখ্য, গত জুনে ক্রাউন প্রিন্স নির্বাচিত হন মোহাম্মদ বিন সালমান। ২০৩০ সালের মধ্যে তেলনির্ভরতা কাটিয়ে, পদ্ধতিগত দুর্নীতি থেকে মুক্তি ও ধর্মীয় কট্টরপন্থা থেকে একটি ‘উদার’ সমাজে দেশকে উত্তরণের প্রতিজ্ঞা করেছেন তিনি।