সৌন্দর্য্য, ঐতিহ্য ও আভিজাত্যে হীরার ফ্যাশন

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : সবচাইতে মূলবান কি? সহজ পার্থিব উত্তর- হীরা। হ্যাঁ, হীরক বা হীরা সবচেয়ে মূল্যবান রত্ন। আরে, কয়লার সমগ্রােত্রীয় হীরার এতো দাম কি করে হয়? দুটোই তো তৈরি হয় কার্বণ দিয়ে! উত্তরটাও সহজ- কাঠ পোড়ালেই কয়লা হয়, তবে হীরা তৈরি হতে সময় নেয় ১ থেকে ৩.৩ বিলিয়ন বছর। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৪০ থেকে ১৯০ কি.মি. নিচে পৃথিবীর কেন্দ্র ও পৃথিবীর আবরণের মাঝে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের কারণেই তৈরি হয় হীরা। হয়তো তাই এই বহুমূল্য রত্নটি ব্যবহৃত হয় সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে এবং আভিজাত্য প্রকাশে।

মানুষের জানা সকল প্রাকৃতিক পদার্থর চেয়ে হীরা অনেক বেশি শক্ত। আর এই কঠিন ধাতুকে ব্যবহার করেই ফ্যাশন, সৌন্দর্য্য, আভিজাত্য ও ঐতিহ্যে অবদান রাখছে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড। হীরার গহনা বলতেই মাথায় আসে বাংলাদেশে হীরা সম্রাজ্যর নাম। ধনী কিংবা উচ্চবিত্ত নয়, হীরার ব্যবহার মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যেও জনপ্রিয় করে তুলেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

গুলশান ১ এর হীরার সাম্রাজ্য ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডে ঢুকলে যে কারোরই মনে হতে পারে বুঝি কোন ব্যাংকের ভল্টে ঢুকেছেন। সরাসরি কোন সিঁড়ি নেই। বিল্ডিং তৈরির সময় থাকলেও আজ পরিত্যাক্ত। একটি ছোট্ট লিফটে চড়তে হবে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডে যেতে। লিফট থেকে বের হলেই সামনে বিশাল কারুকাজ করা দরজা। পাহারাদারের স্বাগতম গ্রহণ করে দরজা পার হলেই হীরার চমকে ঝলসে যায় চোখ। অন্দরসজ্জায় ব্যবহৃত রঙিন আলো পলকাটা হীরা দ্যুতি ছড়ায় প্রতিনিয়ত।

কথিত আছে সর্বপ্রথম ভারতবর্ষেই হীরা উত্তোলন শুরু হয়। তার মানে ৩ থেকে ৬ হাজার বছর ধরেই এই ভূখণ্ডের মানুষের কাছে পরিচিত এই রত্নটি। পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের হীরা উত্তোলন করা হয়। বিশ্বের সকল রত্নপ্রেমী, সুন্দরী রমণী এবং অভিজাত পরিবারের চাহিদা মেটায় ২৬০০০ কেজি খনিজ হীরা। আর তাই দামে নেই কোন ছাড়। এই তথ্য জেনে সাধারণ মানুষ ভয় পেতে পারেন ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডে ঢুকতে। হীরার সম্রাজ্য বলে কথা! দামের পাগলা ঘোড়ার নাগাল পাওয়া যাবে কি? এমন শঙ্কা উড়ে যাবে সেখানে গেলে। সামর্থ্যের মধ্যেই অর্জন করা যাবে হীরক আভিজাত্য।

শুধু হীরা নয়, বাংলাদেশের একমাত্র প্লাটিনামের গহনা পাওয়া যায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডে। ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশের প্রথমসারির গহনা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন কর্ণধার দিলীপ কুমার আগরওয়াল। ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের পলিসিতে রয়েছে ক্রেতাদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা। ফলে খুব সহজেই দেশের সৌন্দর্য সচেতন নারী এবং অভিজাত পরিবারের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে। বর্তমানে সারা দেশে এখন ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ৮টি আউটলেট রয়েছে।

এবারের ঈদ উপলক্ষ্যে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড তার ক্রেতাদের জন্য নিয়ে এসেছে ৩০ শতাংশ ডিসকাউন্ট। তবে ১০ সেন্টের নিচে যেসব নাক ফুল রয়েছে, তাতে ডিসকাউন্ট সুবিধা পাওয়া যাবে না। মূল্য ছাড়ের সঙ্গে রয়েছে লাকি কূপন। ভাগ্যে থাকলে মিলে যেতে পারে মালয়েশিয়া ভ্রমণের সুযোগ অথবা ১৫ হাজার টাকা মূল্যের ৫০টি গহনার যেকোন একটি গহনা। আর প্রথম পুরস্কার হিসেবে ব্যান্ড নিউ টাটা ন্যানো গাড়ি তো রয়েছেই।

হীরার মূল্য কেমন হবে তা নির্ভর করে চারটি বিষয়ের উপর। রং কেমন, কীভাবে কাটা হয়েছে, কতটা স্বচ্ছ প্রকৃতির এবং কত ক্যারেট ওজনের। স্বর্ণের ক্ষেত্রে ক্যারেট বিশুদ্ধতার একক আর রত্নপাথরের ক্ষেত্রে ক্যারেট হচ্ছে ভরের একক। এক্ষেত্রে ১ ক্যারেট বললে বোঝা যায় .২ গ্রাম বা ২০০ মিলিগ্রাম। খনিজ হীরা এবং অলঙ্কারের জন্য প্রস্তুত কাটা হীরার মাঝে মূল্য পার্থক্য অনেক।

২৯০০ টাকার হীরার নাকফুল থেকে শুরু করে ৫৫ লাখ টাকা দামের নেকলেস- পাওয়া যাবে হীরার সম্রাজ্যে। ক্রেতাদের সুযোগ সুবিধার দিকে রয়েছে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের স্বযত্ন লক্ষ্য। জুয়েলারী কিনে চাইলেই আবার পরিবর্তন করে নিতে পারবেন। এছাড়া এখানকার নিয়মিত ক্রেতারা তার গহনাটির ক্যারেট ঠিক আছে কিনা, তা ফ্রিতে চেক করে নিতে পারবেন। অনলাইনেও ক্রেতারা যেকোন গহনা কিনতে পারবেন। এজন্য ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের নিজস্ব ই-কমার্স ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করতে হবে। চাইলেই ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের নিজস্ব অ্যাপলিকেশন ডাউনলোড করে অ্যাপল ফোন বা এন্ড্রয়েড ফোনে ইনস্টল করে নিতে পারেন। অ্যাপ্লিকেশনটি ইতোমধ্যেই সার্কের দেশগুলোয় প্রথম ও এশিয়ার দ্বিতীয়তম মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

শুধুমাত্র হীরা দিয়েই কাটা যায় হীরা। আর হীরার সঙ্গেই মিশে আছে পরিশ্রম, ঘাম, চোখের পানি, রক্তের ইতিহাস। শুধু লাল রঙের দুষ্প্রাপ্য হীরার জন্য নয়, এমন ইতিহাসের কারণেও হীরাকে বলা হয় রক্তহীরক। তবুও উৎসব ও আভিজাত্যে বিকল্প নেই এই রত্নের।

x

Check Also

আজ শুক্রবারের দিনটি আপনার কেমন যাবে?

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : আজ ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার। নতুন সূর্যালোকে আজ শুক্রবারের দিনটি আপনার ...

Scroll Up