স্কুলের গাছ কেটে সাবাড় করলেন সভাপতি

এমএনএ নবীনগর প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের নাছিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ কেটে নিয়ে গেছেন স্কুলের সভাপতি জাহাঙ্গীর খাঁন। এ ব্যাপারে উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে বিচারের আশায় একাধিকবার ধর্ণা দিয়েও কোন ফায়দা হয়নি।

এলাকাবাসীদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অনুমতি ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ কিভাবে কেটে ফেললেন স্কুলটির সভাপতি। আমরা বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এর রহস্য উদঘাটন হোক এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।

অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর খাঁন নাছিরাবাদ গ্রামের ইউনুস ওরফে মিনু খানের ছেলে এবং শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমির হোসেন বাবুলের আপন খালাতো ভাই।

সূত্র জানায়, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে স্কুলটির গাছ কেটে ফেলা সম্পর্কে ওই গ্রামের মোঃ শাহীন গণমাধ্যমকে বলেন, আমি প্রতিবাদ করতে গেলে জাহাঙ্গীর খাঁন তার সহযোগীদের নিয়ে আমাকে জানে মেরে ফেলার হুমকি-ধামকি প্রদান করে।

পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য মেহেদী হাসান জালালকে জানালে তিনি বলেন, আমি তাকে কিছু বললে সে আমার কথা শুনবে না। পরবর্তীতে আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসার আঃ আওয়াল এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুমের নিকট গত ১৩ ই জুন পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করি কিন্তু প্রায় দেড় মাস হলো কোন প্রতিকার পাইনি।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুম ঘটনার সততা স্বীকার করে মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী (এমএনএ) -এর প্রতিনিধিকে বলেন, আমাদের নিকট এমন একটি অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি অতিসত্তর তদন্ত করে দেখা হবে।

অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর খাঁনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় ইউপি সদস্য মেহেদী হাসান জালাল এমএনএকে বলেন আমি বিষয়টি অবগত আছি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন বাবুলের আপন খালাতো ভাই এই জাহাঙ্গীর খাঁন। একারণে ইচ্ছে থাকলেও কোন কিছু করা সম্ভব নয়।

ঘটনা সম্পর্কে স্কুলটির প্রধান শিক্ষিকা শামসুন্নাহার (স্বপ্না) বলেন, আমি ছুটিতে ছিলাম এসে দেখি কাঠাল গাছ গুলো কাটা। এর বেশী আমি কিছু বলতে পারবোনা।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় স্কুলটির সামনের দুটি কাঁঠাল গাছের ছোট ডাল পরিস্কার করতে একজন সরকারি আমলা মৌখিক অনুমতি দিলে জাহাঙ্গীর খাঁন ডালের বদলে আস্ত কাঁঠাল গাছ দুটিই কেটে নিয়ে যান। এছাড়াও আরও বেশ কিছু গাছের ডালপালা কেটে নিয়ে নিজের বাড়ীতে নিয়ে যান। ঘটনার বেশ কিছু দিন পর কেটে ফেলা কাঁঠাল গাছ দুটি নিজের কাছে রেখে সামান্য কিছু ডাল স্কুলের এক পাশে রেখে যান অভিযুক্ত সভাপতি।

স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, স্কুলের পাশে জাহাঙ্গীর খানের মালিকানাধীন একটি দোকান রয়েছে। স্কুলের শিক্ষার্থী বাচ্চারা তার দোকান থেকে কিছু না কিনে ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে কেনাকাটা করায় সভাপতির ক্ষমতাবলে জাহাঙ্গীর খান নিজের দোকান ঠিক রেখে স্কুলের আশেপাশের অন্যসব অস্থায়ী দোকান ও ফেরিওয়ালাদের উচ্ছেদ করেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় জনগণ প্রতিবাদ করলেও কোন ফায়দা হয়নি। স্থানীয় জনগণ অতিসত্তর জাহাঙ্গীর খানের এই কাজের শাস্তি এবং স্কুল কমিটির সভাপতি পদ থেকে তার অপসারণ দাবী করেন।

x

Check Also

তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ৬৬ যুদ্ধবিমান বিক্রি

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : চীনের সঙ্গে চলমান ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’সহ বিভিন্ন সংকটের মধ্যেই তাইওয়ানের কাছে ৬৬টি ...

Scroll Up