স্কুলে অযৌক্তিক টিউশন ফি বৃদ্ধি কাম্য নয়

নতুন বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকুরেদের বেতন বাড়ার যুক্তি দেখিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বেসরকারি স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাড়ানো হয়েছে ব্যাপক হারে, যার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন অভিভাবকরা। মোদ্দাকথা হলো এভাবে বেসরকারি স্কুলেগুলোতে অযৌক্তিক টিউশন ফি বৃদ্ধি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ব্যাপারে সরকারের যথাযথ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত করতে সরকারের চেষ্টার অন্ত নেই। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনা মূল্যে বই বিতরণ করা হচ্ছে। বছরের প্রথম দিন থেকে শিক্ষাপঞ্জি শুরু করতে পেরেছে সরকার। এর ফলও পাওয়া গেছে। প্রাথমিক সমাপনী থেকে শুরু করে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট, এসএসসি ও এইচএসসিতে পাসের হার বেড়েছে। সরকারের উপবৃত্তির সহায়তায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে এসেছে। শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন জোয়ার এসেছে।

সব অভিভাবকেরই একান্ত চাওয়া—তাঁদের সন্তান ভালো স্কুলে লেখাপড়া করবে। রাজধানীর নামকরা স্কুলগুলোতে তাই ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীদের চাপ বেড়ে যায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্কুলগুলো অযৌক্তিকভাবেই বাড়িয়ে দিয়েছে টিউশন ফি ও ভর্তি ফি। অনেক স্কুল দ্বিগুণ ফি আদায় করছে। দিশাহারা অভিভাবকরা এর প্রতিকার চাইতে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিকেই ফি বাড়ানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করছে স্কুলগুলো। অভিভাবকদের অভিযোগ, বাড়তি টাকা নিজেদের পকেটে ভরবেন এসব স্কুলের পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।

Vikarunnisa School 2016

এমনকি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও বলেছেন, স্কুলগুলো যে পরিমাণ ফি বাড়ায়, এর চার ভাগের এক ভাগও শিক্ষকদের পেছনে ব্যয় করে না। নীতিমালার বাইরে কারো যাওয়ার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। বাস্তবতা হচ্ছে, বেসরকারি স্কুলে টিউশন ফির কোনো নীতিমালা নেই। সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের খরচে রয়েছে বিস্তর ফারাক। যেখানে একটি সরকারি স্কুলে ভর্তি ফি মাত্র এক হাজার ২৫০ টাকা, সেখানে বেসরকারি স্কুলে এর কয়েক গুণ বেশি ভর্তি ফি আদায় করা হচ্ছে। সরকারি স্কুলে টিফিন ফি বাদে মাসিক বেতন নবম-দশম শ্রেণির জন্য ১৫ টাকা। কিন্তু বেসরকারি স্কুলে এসব শ্রেণিতে এক হাজার টাকারও বেশি টিউশন ফি নেওয়া হয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাঁদের বেতন বেড়েছে তাঁদের জন্য হয়তো এটা কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এমন অভিভাবকদের এই বর্ধিত ফি বড় ধরনের বোঝা হবে। বিষয়টি নিয়ে এখনই ভাবতে হবে। শিক্ষা কোনো বাণিজ্যিক মাধ্যম না হলেও মানসম্মত স্কুলের অভাবে শিক্ষাকে অনেকটাই বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে গড়ে উঠছে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। শিক্ষকতার নামে অনেকেই এখন শিক্ষা-বাণিজ্যের দিকে ঝুঁকেছেন। এ অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে একটি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। বাণিজ্যিক মনোভাব দেখা দিলে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। টিউশন ফি বা ভর্তি ফির ওপর মানসম্মত শিক্ষা নির্ভর করে না। এর জন্য প্রয়োজন শিক্ষকের একাগ্রতা।

এটাও ঠিক, শিক্ষককে ক্ষতিগ্রস্ত করে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যাবে না। আবার সন্তানের শিক্ষা যেন অভিভাবকদের জন্য বোঝা হয়ে না যায় সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। আমরা আশা করব, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহল ভেবে দেখবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষাকে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করবে না—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

-সম্পাদক

x

Check Also

জাকাতের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে এগিয়ে আসুন

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হচ্ছে জাকাত। প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক মুসলমান নর-নারীকে প্রতিবছর স্বীয় আয় ...

Scroll Up