হন্ডুরাসে ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামির আশঙ্কা

39
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ক্যারিবীয় অঞ্চলের রাষ্ট্র্র হন্ডুরাসের উত্তরাংশে ৭.৬ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পরপরই সুনামি-সতর্কতা জারি করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূকম্প জরিপ ও পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউএসজিএস প্রথমে ভূমিকম্পের মাত্রা ৭.৮ মাত্রার জানালেও পরে ৭.৬ মাত্রার বলে জানায়।
ইউএসজিএস’র রিপোর্ট অনুযায়ী, ভূকম্পনটি হন্ডরাসের বাররা পাতুকার ২০২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব এবং কেইম্যান আইল্যান্ডের জর্জটাউন শহরের ৩০৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কেন্দ্রীভূত ছিল।
অতি উচ্চমাত্রার এই ভূমিকম্পের পরপরই সুনামি-সতর্কতা জারি করা হয়। অবশ্য পরে তা উঠিয়ে নেয়া হয়।
সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রাথমিক খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পের ধাক্কায় হন্ডুরাসের রাজধানী শহর তেগুচিগালপার দরজা-জানালা থরথর করে কেঁপে ওঠে। তবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অবশ্য ভূমিকম্পটি খুবই উচ্চমাত্রার বলে বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
দমকল বাহিনী জানায়, শহরটির দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা হঠাৎই তাদের বাড়িঘর কাঁপতে দেখে আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন। পরবর্তী কম্পনের আশঙ্কায় মানুষজন এখনো বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করছে।
হন্ডুরাসের কন্টিনজেন্সিস কমিশনের পরিচালক লিসান্দ্রো রোসালেস বলেন, সারাদেশের বেশিরভাগ স্থানে প্রবল এই ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে আমাদের কাছে খবর এসেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির কোনো খবর এখনো আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি।
হন্ডুরাস ছাড়াও মেক্সিকোসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। মেক্সিকোর সিভিল প্রটেকশন ডিরেক্টরের ভাষ্য, হন্ডুরাসের উত্তরে মেক্সেকোর কিন্তানা রো প্রদেশে এটি অনুভূত হয়। সেখানকার বাসিন্দারা কম করেও তিনবার কম্পন অনুভব করেন।
রদ্রিগো আনাইয়া রদ্রিগেস নামের এক মেক্সিকান জানান, মনে হচ্ছিল যেন সামনে দিয়ে সবকিছ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে কোনো বুলডোজার যাচ্ছে।
তিনি দৌড়ে ঘরের বারান্দায় ছুটে গিয়ে দেখেন বিদ্যুতের খুটি ও তার প্রবলভাবে কাঁপছে।
পাশের দেশ বেলিজেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। কোনো জায়গা থেকেই প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
বেলিজের আপদকালীন দুর্যোগ মোকাবেলা বিষয়ক মন্ত্রী এডমন্ড কাস্ত্রো স্থানীয় বেতার থেকে দেয়া এক সতর্কতা বার্তায় নিচু এলাকা ও উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের বড় ধরনের সামুদ্রিক জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে উল্লেখ করেন। এজন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার তাগিদ দেন তিনি।