হরিণ হত্যায় দোষী সাব্যস্ত সালমান খান

34
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ২০ বছর ধরে চলে আসা কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন বলিউড অভিনেতা সালমান খান। ভারতের রাজস্থানের যোধপুরের আদালত আজ বৃহস্পতিবার এই মামলায় সালমান খানকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করেন আদালত।
এর আগে এই মামলায় বারবার নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন সালমান। কিন্তু তার কোনো যুক্তিই এবার আদালতে টেকেনি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত।
২০ বছর আগের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার রায় হলো আজ বৃহস্পতিবার। এই মামলায় আসামিদের মধ্যে থাকা বলিউড তারকা টাবু, নীলম, সোনালি বেন্দ্রে, সাইফ আলি খানকে আদালত বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আদালত থেকেই সরাসরি জেলে নিয়ে যাওয়া হতে পারে সালমান খানকে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের ৯/৫১ ধারায় দোষী প্রমাণিত হয়েছেন সালমান। এই আইনে সর্বোচ্চ সাজা ৬ বছর, আর সর্বনিম্ন সাজা ১ বছর।
জানা গেছে, সালমান খানের আইনজীবীরা তার সর্বনিম্ন সাজা প্রাপ্তির জন্য চেষ্টা করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সালমানকে রাজস্থান সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হতে পারে।
এদিকে রায় হওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে সালমান খানের আইনজীবী এইচ এম সারস্বত দাবি করেন, সরকারি কৌঁসুলি অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেননি। মামলা সাজাতে ভুয়া সাক্ষী দাঁড় করিয়েছেন। এমনকি বন্দুকের গুলিতেই যে কৃষ্ণসার দুটির মৃত্যু হয়েছিল, তা-ও সরকারি কৌঁসুলি প্রমাণ করতে পারেননি। গত ২৮ মার্চ নিম্ন আদালতে কৃষ্ণসার মামলার চূড়ান্ত পর্যায়ের শুনানি শেষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের দাবি, ১৯৯৮ সালের ১ ও ২ অক্টোবর যোধপুরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিং চলাকালে আলাদা আলাদা জায়গায় দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা করেন সালমান খান। ওই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাইফ আলী খান, নীলম, টাবু ও সোনালী বেন্দ্রেসহ একাধিক তারকার বিরুদ্ধে।
বিরল প্রজাতির কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রায় দু’দশক ধরে নানা উত্থান পতন হয়েছে ওই মামলার। অবশেষে আজ বৃহস্পতিবার মামলায় সালমান খানকে দোষী সাব্যস্ত করে আদেশ দিলেন আদালত।
রাজস্থানের যোধপুরের কঙ্কানি এলাকায় গ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার অধিবাসীদের অভিযোগ, গুলির শব্দ শুনে তাঁরা সালমানের জিপসি গাড়িটি ধাওয়া করেন। কিন্তু তাঁদের ধরা যায়নি। ওই সময় চালকের আসনে ছিলেন সালমান খান। গ্রামবাসীর দাবি, প্রবল গতিতে গাড়ি ছুটিয়ে সালমান খান আর তাঁর সঙ্গীরা পালিয়ে যান।
বেআইনিভাবে জঙ্গলে ঢোকার অভিযোগে সালমান খান আর অন্য তিন তারকার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৯ নম্বর ধারায় মামলা এখনো চলছে।
এদিকে সালমান খানের কারাদন্ড হওয়ায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন অনেক চিত্র প্রযোজক। কারণ, এরই মধ্যে এক হাজার কোটি রুপির বেশি লগ্নি করা হয়েছে এই নায়ককে ঘিরে। বলিউডের এই জনপ্রিয় তারকা জেলে যাওয়ার পর শুরুতেই সংকটে পড়বে ১০০ কোটি রুপি বাজেটের রেমো ডি’সুজার ‘রেস থ্রি’ ছবিটি।
এবার ঈদ উপলক্ষে আগামী ১৫ জুন ছবিটি মুক্তি দেওয়ার কথা। নির্মাতারা আশা করছেন, আগের দুটি ‘রেস’ সিরিজের ছবির থেকে এই ছবি কয়েক গুণ বেশি ব্যবসা করবে। কিন্তু ছবির নায়ক অপরাধী সাব্যস্ত হয়ে জেলে যাওয়ায় হোঁচট খাবে ছবির প্রচারণা।
‘রেস থ্রি’র পর পরিচালক আলী আব্বাস জাফরের নতুন ছবি ‘ভারত’-এর শুটিং শুরু করার কথা সালমান খানের। এর আগে আলী আব্বাস জাফর আর সালমানের দুটি ছবি ‘সুলতান’ ও ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ সুপারহিট হয়। কিন্তু ২০০ কোটি রুপি বাজেটের এই ছবির ওপর বড় বাজি ধরেছেন পরিচালক। শোনা যাচ্ছে, ‘ভারত’ ছবিতে নাকি পাঁচটি আলাদা লুকে দেখা যাবে সালমানকে।
‘দাবাং’ সিরিজের তৃতীয় ছবি ‘দাবাং থ্রি’। সিরিজের আগের দুটি ছবি বক্স অফিসের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল। আগামী বছর জানুয়ারি মাসে ‘দাবাং থ্রি’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা। সালমান খান জেলে গেলে ছবির শুটিং স্থগিত হয়ে যাবে। ‘কিক’ সিরিজের নতুন ছবি ‘কিক টু’। প্রথম ছবির মতো দ্বিতীয়টিতেও দেখা যাবে সালমান খান আর জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজকে। ২০১৯ সালের বড়দিনে মুক্তি পাওয়ার কথা ছবিটির।
ছোট পর্দায়েও দেখা যাওয়ার কথা সালমান খানকে। টিভির এই অনুষ্ঠানের নাম ‘দশ কা দম’। অনুষ্ঠানের প্রমো মুক্তি পেয়েছে। সালমান জেল গেলে সংশ্লিষ্ট টিভি চ্যানেল বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। ‘বিগ বস’ রিয়্যালিটি শোর ১২ নম্বর সিজনেরও সঞ্চালক সালমান খান। এ বছর শেষ দিকে অনুষ্ঠানটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা আছে। কিন্তু সালমান খান জেলে যাওয়ার পর তা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।