হাজারীবাগের সব ট্যানারি বন্ধের নির্দেশ

94

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : সাভারে স্থানান্তরের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর হাজারীবাগে যেসব ট্যানারি রয়েছে, সেগুলো ট্যানারি অবিলম্বে বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেওয়া হয়।

আদালতে বেলার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ফিদা এম কামাল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও মিনহাজুল হক চৌধুরী। শিল্পসচিবের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রইস উদ্দীন আহমদ।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, কারখানাগুলো বন্ধ ও গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনা চেয়ে আবেদনটি করা হয়। আদালত অবিলম্বে ট্যানারিগুলো বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ৬ এপ্রিল দাখিল করতে বলা হয়েছে। ১০ এপ্রিল বিষয়টি পরবর্তী আদেশের জন্য আসবে।

বেলার করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০০১ সালে এক রায়ে ট্যানারি শিল্প হাজারীবাগ থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন।

এরপর ২০০৯ সালের ২৩ জুন আদালত আরেক আদেশে ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।

এরপরে কয়েকদফা সময় বাড়ানো হয়। ট্যানারি সরাতে সর্বশেষ সময় দেয়া হয় ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।

এরপরেও ট্যানারি স্থানান্তর না করায় পরিবেশবাদী ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে।

গত ১৬ জুন হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি না সরানো পর্যন্ত পরিবেশের ক্ষতি হিসেবে ১৫৪ কারখানার মালিককে রোজ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে।

পরে ট্যানারি মালিকেরা আপিল বিভাগে গেলে এনিয়ে কয়েকবার শুনানি শেষে গত বছরের ১৮ জুলাই আপিল বিভাগ ১৫৪ ট্যানারি মালিকের প্রত্যেককে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।

পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, ট্যানারি কারখানাগুলো হাজারীবাগের আছে, তবে জরিমানার অর্থ প্রদান করছে না। এ অবস্থায় আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়। শিল্পসচিব আদালতে হাজির হয়ে জানান, দেড়শ’র বেশি কারখানা রয়েছে, যাদের বকেয়ার পরিমাণ ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এরপর ২ মার্চ আদালত ওই সব কারখানাকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকারি কোষাগারে বকেয়া জরিমানা জমা দিতে নির্দেশ দেন।

এরপরেই এই নির্দেশনা দিল আদালত।