হালকা গরমে পোশাক হোক আরামের

751

মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী (এমএনএ) ডেস্ক : সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাপমাত্রার এই বাড়তি মেজাজে তরুণরা ভুগছে অস্বস্তিতে। আর তাই এ হালকা গরমে পোশাক হোক আরামের বিষয়টি মাথায় রেখে আপনার পোশাক নির্বাচন করুন।

দিনকে দিন তাপমাত্রার এই মেজাজ আর চারপাশের যান্ত্রিকতা কেড়ে নিচ্ছে পরিবেশের স্বাভাবিক তারল্য।  তরুণদের স্বস্তি দিতে পারে এই সময় এমন পোশাক পরা উচিত। এ নিয়ে এবারের আয়োজনে লিখেছেন মোছাম্মৎ সেলিনা হোসেন ওয়ারিসা আফসিন নাওমি

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তরুণদের অন্যসব অভ্যাসের পাশাপাশি পোশাক-আশাকেও নানা পরিবর্তন আসে। গরমের কথা মাথায় রেখে তরুণরা চান আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল পোশাক পরতে। আরামদায়ক পোশাকের জন্য কেউ কেউ ঢুঁ মারছেন ফ্যাশন হাউসগুলোতে, কেউ আবার টেইলার্সের দোকান থেকে তৈরি করে নিচ্ছেন সুতি কাপড়ের পোশাক।

কিন্তু প্রকৃত অর্থে কেমন হওয়া উচিত গরমের পোশাক? এ নিয়ে প্রায়ই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগতে হয় তরুণদের। সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রথম শর্ত হচ্ছে এই গরমে অবশ্যই কৃত্রিম এসব পোশাক এড়িয়ে চলতে হবে। পাতলা সুতি কাপড়ের পোশাক পরলে একদিক থেকে যেমন গরম কম লাগবে, অন্যদিকে আরামও লাগবে। ফলে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করা যাবে। পাতলা তাঁত ও খাদি কাপড়ের পোশাকও এ সময় পরা যায়। গরম এলেই সুতি কাপড়ের প্রসঙ্গ চলে আসে।

মেয়েদের উচিত পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই ধরনটিকে প্রাধান্য দেওয়া। আর রং নির্বাচনেও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। এই গরমের পোশাকের ক্ষেত্রে সাদা, হালকা গোলাপি, হালকা বেগুনি, হালকা নীল, বাদামি, আকাশি, হালকা হলুদ, ধূসরসহ হালকা রঙের পোশাকগুলো প্রাধান্য পাবে। গরমে সাদা ও অন্যান্য হালকা রঙের পোশাক শুধু তাপ শোষণই করে না, সেই সঙ্গে চোখকে দেয় প্রশান্তি।

তবে গরমকালে সাদা রঙের পোশাকের জয়জয়কার সবসময়ই। আবার পোশাকে খুব বেশি টাইট ফিটিংস হলেও কিন্তু সেটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক হবে না। একটু ঢিলেঢালা হলেই বরং ভালো হয়। যারা হাইনেক পরেন তারা এ গরমে একটু কলার ছাড়া বড় গলা পরে দেখতে পারেন। আরাম পাবেন। আর হাতাও অবশ্যই ছোট দিতে হবে। গরমে ফুল স্লিভ কিংবা থ্রি-কোয়ার্টার আরামদায়ক নয়। গরমে খুব উজ্জ্বল আর গাঢ় রং মোটেও শোভন নয়। হালকা রঙের পোশাক পরলে আপনাকে যেমন দেখতে ভালো লাগবে তেমনি আপনি স্বস্তিতে চলাফেরা ও প্রয়োজনীয় কাজটাও করতে পারবেন।

সুতি কাপড়ের সাথে লিনেন, দুপিয়ান, ভয়েল, মসলিন, চিকেন ও তাতের কাপড় গরমের জন্য বেশ উপযোগী। উত্সবে পরতে পারেন কৃত্রিম মসলিন বা পাতলা চোষা কাতান। আমাদের দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো বেশিরভাগই সুতি কাপড় দিয়ে তাদের পোশাক তৈরি করে থাকেন। কাজেই আপনার পছন্দসই পোশাক কিনে নিতে পারেন যেকোনো ফ্যাশন হাউস থেকে। আবার চাইলে আপনি নিজেই হতে পারেন আপনার পোশাকের ডিজাইনার। বাজারে এরই মধ্যে এসে গেছে গরমের উপযোগী রং ও ডিজাইনের থান কাপড়।

সেখান থেকেও পছন্দের কাপড়টি কিনে ইচ্ছামতো ডিজাইন করে টেইলার থেকে বানিয়ে নিতে পারেন পোশাক। ডিজাইনে বৈচিত্র্য আনার জন্য লাগিয়ে নিতে পারেন লেইস কিংবা পাইপিন, বর্ডার। এতে আপনি শুধু স্বস্তিদায়ক পোশাক যে পাবেন তাই-ই না, নিজের পোশাক নিজে ডিজাইন করার জন্য এক ধরনের আত্মতৃপ্তিও পাবেন।

 এ তো গেল পোশাকের কথা। কিন্তু সাজ? এই গরমে পোশাকের পাশাপাশি চাই মানানসই সাজও। গরমে ভারী মেকআপ একদমই বেমানান। ঘাম, ধুলোবালিতে মেকআপ গলে একেবারে বাজে অবস্থা হয়। তাই মেকআপ করার আগে অবশ্যই কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। এ সময়ে লিক্যুইড ফাউন্ডেশন না দেওয়া ভালো। আর দিলেও অবশ্যই ওয়াটার বেইজড হতে হবে।

দরদামের রকম ফের

সময়োপযোগী কাপড় বুটিক হাউসগুলো ঘুরে কিনতে পারেন। এছাড়াও আইডিয়া দিয়ে নিজের পছন্দ অনুযায়ী পোশাকটা বানিয়ে নিতে পারেন। গরমের পোশাকটা হালকা ও আরামদায়ক হওয়াই ভালো। খেয়াল রাখতে হবে পোশাকটা যেন তাপশোষণ করে কম। তাই প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য সুতি কাপড়ই আরামদায়ক। বাজারে গজ কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। আছে মসলিন, এমব্রয়ডারি করা সুতি কাপড়, লেস লাগানো সুতি কাপড়, চিকেন কাপড়, ওয়াটার প্রিন্ট ইত্যাদি।

এছাড়া লিনেন, দুপিয়ান, ভয়েল ও তাতের কাপড় গরমের জন্য বেশ উপযোগী। উৎসবে পরতে পারেন কৃত্রিম মসলিন বা পাতলা চোষা কাতান। গরমে চোখের আরাম বলেওএকটা কথা আছে। সেদিক থেকে ভাবলে সাদা রঙই আদর্শ। তারপরও হালকা গোলাপি, জলপাই সবুজ, শ্যাওলা সবুজ, হালকা নীল, হালকা হলুদ, ঘিয়ে এসব রঙের হালকা শেডএবং টারশিয়ারি রঙগুলোও গরমে উপযোগী। কালো বা গাঢ় রঙের পোশাক একেবারেই নয়।

কারণ এসব রঙ অতিরিক্ত তাপ শোষণ করে। দরদামের রকম ফের বাজারে গজ কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। আছে মসলিন, অ্যামব্রয়ডারি করা সুতি কাপড়, লেসলাগানো সুতি কাপড়, চিকেন কাপড়, ওয়াটার প্রিন্ট ইত্যাদি। মসলিন কাপড় প্রতিগজ ১২০ থেকে ১৫০, অ্যামব্রয়ডারি করা সুতি কাপড় ২৫০ থেকে ৪০০, লেসসহ সুতিকাপড় ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। চিকেন কাপড়ের মধ্যে দেশি-বিদেশিসহ আছে নানাভ্যারিয়েশন। প্রতি গজের দাম পড়বে ১৮০ থেকে ১২০০ টাকা। লেসসহ সুতি চেক ২০০থেকে ৩৫০, কাতান মোটিফের সুতি কাপড় প্রতি গজ ৪০০, পয়সা মোটিফের প্রতি গজ২৩০, পাড়সহ বুটি দেয়া প্রতি গজ সুতি কাপড় ২২০, প্রতি গজ সিল্কের দাম ১৫০থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। স্বর্ণ কাতান ১২০ টাকা। তাঁতের কাপড়কোয়ালিটি অনুযায়ী প্রতি গজ ৫০ থেকে ১৩০ টাকা।

ঢাকার গজ কাপড়ের বড়মার্কেটগুলোর মধ্যে আছে : নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনীচক, ইসলামপুর ওমৌচাক। ইস্টার্ন প্লাজা, বসুন্ধরা সিটি, পিংক সিটি, মাসকট প্লাজা, নর্থটাওয়ার, রাইফেলস স্কয়ারেও পাওয়া যাবে এসব কাপড়। গজ কাপড় কেনার ক্ষেত্রেবহরটা জেনে নিতে হবে। দুই থেকে সাড়ে তিন হাত পর্যন্ত বহর হয় এ কাপড়ের। ছেলেরা শার্টের জন্য পিস হিসেবে কাপড় কিনতে পারেন। দেখে নিন গরমে পরারউপযোগী কিনা। দাম নির্ভর করবে কাপড়ের মানের ওপর।

প্রতি পিস ইয়ার্ন ডাইড চেকফেব্রিকের দাম ৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা। এক কালার কটন ২৫০ থেকে ৮০০, প্রিন্টেডফেব্রিক ৩০০ থেকে ১৫০০ ও সুতি স্ট্রাইপ ৬০০ থেকে ২৫০০ টাকা। কাপড়ের বহর ৬০ইঞ্চি হলে হাফ শার্টে দেড় গজ ও ফুল শার্টের জন্য প্রায় ২ গজ কাপড় লাগবে।বহর যদি ৪৫ ইঞ্চি হয় তবে হাফ শার্টে ২ গজ ও ফুল শার্টে আড়াই গজ, বহর ৩৬ইঞ্চি হলে হাফ শার্টে ৩ গজ ও ফুল শার্টে সাড়ে তিন গজ কাপড় লাগবে। এসবকাপড়ের বড় মার্কেট এলিফ্যান্ট রোড ও বঙ্গবাজার। এছাড়া বিভিন্ন টেইলারিংশপেও শার্টের কাপড় কেনা যায়।

গরমে নালন্দায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়
দেশসেরা ডিজাইনারদের ডিজাইনে গরমে উপযোগী আরামদায়ক টি-শার্ট ও পলো-শার্ট নিয়ে ৮০ আজিজ সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় সেজেছে নালন্দা। এছাড়া মেয়েদের অ্যাপলিক ও হাতের কাজের থ্রিপিস, হ্যান্ড পেইন্টেড ফতুয়া, ছেলেদের এমব্র্রয়ডারি ও হাতের কাজের পাঞ্জাবি এবং বাচ্চাদের বিভিন্ন নকশাদার পোশাকের নির্দিষ্ট কিছু ডিজাইন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে। ঠিকানা : নালন্দা, ৮০ আজিজ সুপার মার্কেট (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।

রনজিতের তাঁতের শাড়ি
টাঙ্গাইলের তরুণ ডিজাইনার রনজিত কুমার সরকার এ সময়ের জন্য তৈরি করেছেন নানা ধরনের আকর্ষণীয় ডিজাইনের শাড়ি। প্রতিটি শাড়িতে করা হয়েছে ছয়টি উজ্জ্বল রঙের আধুনিক ধারার মোটিফ। সময়োপযোগী শাড়ির ডিজাইন করা হয়েছে। ঢাকার মমতাজ প্লাজার ঊষার শোরুমে পাওয়া যাবে রনজিতের শাড়ি আর পাইকারি বিক্রয় কেন্দ্র : সরকার অ্যান্ড কোং, চণ্ডি, পাথরাইল, টাঙ্গাইল।

মুমু মারিয়া
ফ্যাশন হাউস মুমু মারিয়া নিয়ে এসেছে সালোয়ার, কামিজ, টপস, কাফ্ান ও বিভিন্ন রকমের শাড়ি। নিয়মিত এবং পার্টিতে ব্যবহার যোগ্য সুতি, লিলেন, মাসলিন, এন্ডি সিল্ক, জর্জেট কাপড়ে মনোরম রঙের সমাবেশ ঘটানো হয়েছে প্রতিটি পোশাকে। ঠিকানা : রোড-২৭, বাড়ি-৯, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা। ফেসবুক পেজ : facebook/mumumaria

ধানশালিক
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সচেতন ব্যক্তিরা পোশাকেও নিয়ে আসে পরিবর্তন। তাই গরম আসামাত্রই বুটিকস হাউস ধানশালিক এনেছে গরমের নতুন পোশাক। বিশেষ আয়োজন হিসেবে রয়েছে সুতি কাপড়ের তৈরি টি-শার্ট, পলো টি-শার্ট। এছাড়া শার্ট, পাঞ্জাবি ও লেডিস টপস ইত্যাদি। ঠিকানা : ১১৭, ১১৭/এ আজিজ সুপার মার্কেট (২য় তলা), শাহবাগ, ঢাকা।

ইজি
ইজি এক্সক্লুসিভ ফ্যাশন ওয়্যার এনেছে নতুন সামার কালেকশন। এবারের আয়োজন হিসেবে রয়েছে টি-শার্ট, পলো টি-শার্ট, ক্যাজুয়াল শার্ট, ফরমাল শার্ট, প্যান্ট ও পাঞ্জাবিসহ রকমারি পোশাক। সাধারণ ক্রেতাদের কথা চিন্তা করে পোশাক তৈরি করে ইজি। তরুণদের পোশাক ফ্যাশনেবল করার জন্য আকর্ষণীয় নতুন ডিজাইন ও বাহারি রঙ নিয়ে কাজ করে ইজির পোশাকের ডিজাইনার তৌহিদ চৌধুরী। পোশাকের দাম রাখা হয়েছে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই। খুচরা এবং পাইকারিও বিক্রি করা হয়। এলিফ্যান্ট রোড, শাহবাগ, আজিজ সুপার মার্কেট, শান্তিনগর, সিলেট, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর ও উত্তরায় ইজির শোরুম রয়েছে। www.easyfashionbd.com

সমীকরণ
এবারের গরমে সমীকরণ এনেছে নতুন ডিজাইনের পোশাক। এবারও বেশক’টি নতুন ডিজাইনের পোশাক এসেছে সমীকরণে। এছাড়া সময়োপযোগী আধুনিক পোশাকের বিশাল আয়োজন রয়েছে।

সমীকরণের পোশাকের ডিজাইন করে থাকে এ. হান্নান। সমীকরণে পাওয়া যায় টি-শার্ট, পলো শার্ট, ক্যাজুয়াল শার্ট, ফরমাল শার্ট, থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট, প্যান্ট ও পাঞ্জাবি। সব ধরনের পোশাক খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করা হয়। ঠিকানা : ৬২, ৬৩ আজিজ সুপার মার্কেট (৩য় তলা), ঢাকা।

কারুপল্লী
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তাঁতের শাড়ি, তাঁতের সালোয়ার-কামিজ, বিছানার চাদর, গামছা, নকশীকাঁথা, নকশী বিছানার চাদর, টেবিল কভার, কুশন কভার, ওয়ালমেট, কাপড়ের ব্যাগ, পার্স, পাটের ব্যাগ, চামড়ার ব্যাগ, মাটির গয়নাসহ বিভিন্ন কাপড়, গৃহসজ্জার সামগ্রী এবং উপহার সামগ্রীর বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র কারুপল্লী। এসব পণ্যের অধিকাংশ উত্পাদক ও সরবরাহকারীই হচ্ছেন নারীরা এবং তারা দেশের গ্রামীণ সমাজের। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করেন কারুপল্লীর এসব নারী উদ্যোক্তা।

কারুপল্লী বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনাধীন একটি হস্ত ও কুটির শিল্পের প্রতিষ্ঠান। এখানে শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি-পিস, ফতুয়া, শার্ট, পাঞ্জাবি, শিশুদের পোশাকসহ নানারকম হস্তশিল্প সামগ্রী পাওয়া যায়। এসব পণ্যের রং ও নকশায় উপস্থাপন করা হয় শতভাগ দেশীয় আমেজ। ঠিকানা : পল্লী ভবন, ৫নং কাওরানবাজার, ঢাকা।

বার্ডস আই
গরমকে সামনে রেখে শত শত নতুন ডিজাইনের টি-শার্ট, পলো শার্ট, ফতুয়া ও শর্ট-পাঞ্জাবি নিয়ে এসেছে দেশীয় ডিজাইনে সেরা ফ্যাশন হাউস বার্ডস আই। নিজস্ব ডিজাইনারদের নকশায় তৈরি এসব পোশাক পাইকারি ও খুচরা পাওয়া যাচ্ছে ঢাকার আজিজ সুপার মার্কেটে বার্ডস আইয়ের দুটি শোরুমে। আকর্ষণীয় এসব পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে গরমোপযোগী আরামদায়ক কাপড়। বার্ডস আইয়ের শোরুমে সব ধরনের পোশাক সারাদেশে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করা হয়। ঠিকানা : বার্ডস আই, ২৬ ও ৮ (২য় তলা), আজিজ সুপার মার্কেট, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০।

নকশা ও সাজসজ্জা

ক্রুশের লেসের জালি জালি নকশাটা গরমের জন্য ভালো। হালকা এক রঙা গজ কাপড়কিনে গলায় বা জামার সামনের অংশে এবং হাতে ক্রুশ কাঁটার লেস বসালে ভালোলাগবে। আবার সালোয়ারের নিচ থেকে ছয় ইঞ্চি ওপরেও লেস বসাতে পারেন। কামিজেরহাতা সস্নিভলেস বা ম্যাগি করতে পারেন।

রোদ এড়াতে থ্রি কোয়ার্টার বা ফুলহাতা বানানো যায়। সে ক্ষেত্রে জামার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে মসলিনের কাপড়ব্যবহার করুন।

ডিজাইনটাও একটু অন্যরকম হবে। একরঙা পোশাক পরতে না চাইলে সুতিচেক কাপড়ের কামিজ বানানো যেতে পারে। তবে চেক কাপড়ে কামিজের চেয়ে ফতুয়াইবেশি ভালো লাগবে। এছাড়া বাটিক, চিকেন বা টাইডাইয়ের পোশাকও গরমে আরামদায়ক। ছেলেদের পোশাকে গরমে প্রিন্টেড বা চেক কাপড়ের শার্ট আরামদায়ক।

কাপড়ের কনস্ট্রাকশনটা শতভাগ সুতি হলেই ভালো। আর ধরনটা হবে হাওয়াই। এ শার্টের সাইডওপেন থাকে ও হাফ হাতার হয়। একটু ঢিলেঢালা শার্ট পরলে ঘামে কাপড় নষ্ট হবেনা।

হালকা রঙের কাপড় ব্যবহার করাই ভালো, যেমন সাদা, হালকা বেগুনি, প্রিন্ট্রেড ফেব্রিক ও লাইট চেক। সাদার মধ্যে আবার আছে নানা ভ্যারিয়েশন।একরঙা ব্যান্ড কলারের ফতুয়াও পরতে পারেন। সাইড ওপেন ফতুয়া গরমে স্বস্তিকর।

গরমে মেয়েদের সাজসজ্জার ক্ষেত্রে কানে মুক্তার ছোট দুল এবং গলায় সরু চেইনেরসঙ্গে মুক্তার লকেট পরতে পারেন।

তাছাড়া পাথরের টপ বা ছোট ঝুমকা পরতে পারেন। বড় দুল একদম এড়িয়ে চলুন। হাতে হালকা একটা ব্রেসলেট থাকতে পারে। পায়েআংটি বা পায়েল থাকতে পারে। চুল উঁচু করে পনিটেলও করতে পারেন বা পাঞ্চক্লিপ দিয়েও আটকে রাখতে পারেন চুলটা।