হালকা শীতের ফ্যাশনে হালকা চাদর

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : শীতের মৌসুম ফ্যাশনপ্রিয় মানুষের কাছে খুবই পছন্দের একটি সময়। খুব ভারী সোয়েটার কিংবা চাদরে জবুথবু হয়ে থাকার মতো শীত এখন নেই বললেই চলে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে। পাতলা, হালকা-ভারী পোশাকের মিশেলেই শীত পার করে দেওয়া যায়। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পাতলা চাদর পরার ধারা দেখা যাচ্ছে এখন। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন- মোসাম্মৎ সেলিনা হোসেন

কখনো রং মিলে যায়। আবার বিপরীত রং হিসেবেও নজর কাড়ে। তবে পাতলা কাপড়ের ওড়নার ওপরও ভারী কাজের নকশা এখন খুব নজর কাড়ছে। দিনের বেলায় এটি ওড়না ও চাদর দুটির কাজই করে দিচ্ছে। এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতোই।

ফ্যাশন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায় ইচ্ছামতো। একটু এদিক-ওদিক করে নিলেই তৈরি হয়ে যায় নতুন স্টাইল। যেমন এত দিন কামিজ ও সালোয়ারের ওপর ভিত্তি করে বেছে নেওয়া হতো চাদর বা ওড়না। নতুনত্ব আনতে এখন করা হচ্ছে উল্টোটা। চাদর আর ওড়নার নকশা নির্ধারণ করে দিচ্ছে সালোয়ার-কামিজের রং ও কাপড়।

বাংলার ইতিহাসে প্রাচীন যুগের অবসানের পর মুসলিম নবাবদের আগমন। পশ্চিম-এশীয় সংস্কৃতি এবং আরও পরে ইউরোপীয় সংস্কৃতির সংমিশ্রণের ফলে পোশাকের ওপর এর প্রভাব পড়ে। ওড়নাও এই বিবর্তন থেকে বাদ যায়নি। সময়ের আবর্তনে এখন ওড়না হয়ে উঠেছে পোশাকের এক অনুষঙ্গ। একটু ভারী কাজের হলে চাদর হিসেবে বিকেলের বাতাসে মন্দ নয় এটি। রাতের দাওয়াতেও একরঙা পোশাকের সঙ্গে বেশ জমকালো দেখাবে।

ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বলেন, বর্তমানে পাতলা চাদরকে ফুটিয়ে তুলে সালোয়ার-কামিজ তৈরি করা যায়। যেকোনো মেয়েকেই এ স্টাইলে ভালো লাগবে। এখানে রং মিলিয়ে পরার বিষয়টি নিয়েও ভাবতে হয় না। মানাবে কি মানাবে না, সেটি নিয়েও চিন্তা করতে হয় না। আড়ংয়ের ডিজাইনাররা জানান, এটি এ বছরের ফ্যাশনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে নজর কাড়ছে তরুণীদের। আড়ংয়ে জনপ্রিয় অনুষঙ্গের মধ্যে একটি হলো পাতলা চাদর। কিছু রয়েছে ঐতিহ্যবাহী আবার কিছু নতুন নকশার। হাতের কাজ করা নরম সিল্ক ও টাইডাইয়ের ওড়নাও এখন ফ্যাশনে বেশ জনপ্রিয়। দুই বা তিন রঙে টাইডাই করা হয়। জর্জেট ও সুতি—দুটি কাপড়েই টাইডাই করা পাতলা শাল বা ভারী কাজের ওড়না তৈরি হচ্ছে। সুতির কাপড়ের পাশাপাশি উজ্জ্বল ও নরম ভিসকস রয়েছে আকর্ষণে। জানালেন আড়ংয়ের ডিজাইনাররা।

এ ছাড়া রয়েছে লেসের ব্যবহার। অনেকে চওড়া বা সরু লেস ডিজাইন করে চাদরে বসান। মসলিন ও জর্জেটের ওপর সাধারণত লেস লাগানো হয়। সাধারণত জমকালো পোশাকের সঙ্গে এই চাদরগুলো ব্যবহার করা হয়।

এমব্রয়ডারি করা শালও পাওয়া যায়। জর্জেট ও সুতির চাদরে এমব্রয়ডারি বেশি দেখা যায়। নানা রকমের পাড় ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন চাদরে। সুতি, ক্রুশের কাজ, নেটের কাজ করা পাড়ও দেখা যায়। এ ছাড়া রয়েছে নেটের চাদর। এগুলো সাধারণত কিছুটা জমকালো হয়ে থাকে। ওড়নাগুলোতে দেওয়া হচ্ছ ভারী কাঁথাস্টিচ, ভেজিটেবল ডাই, স্ক্রিনপ্রিন্টের কাজ।

দামি ও ভারী কাপড়ের ওড়না বা চাদরের সঙ্গে সালোয়ার-কামিজের কাপড়ও হতে হবে মানানসই। অ্যান্ডি-সিল্ক, ডুপিয়ান, অ্যান্ডি-সুতি, মসলিন, শিফনের সঙ্গে সুপার বলাকা, সিল্ক, অ্যান্ডি-সিল্ক অথবা মসলিনের কাপড়ের কামিজ ভালো মানাবে।

কামিজের সঙ্গে মিলিয়ে বা না মিলিয়েও পরা যায়। নীল ও সবুজ রংগুলো সাদা বা হলুদরঙা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে মানাবে। তেমনি এটি নীল রঙের কামিজের সঙ্গেও বেশ যায়। তবে কামিজের কাজ হতে হবে একেবারেই হালকা। রঙের সঙ্গে মানানসই করতেও যেন কিছুটা ভিন্নতা চলে এসেছে। আবার কখনো সালোয়ার বা কামিজের প্রিন্ট, ব্লক বা নকশার ভেতরের কোনো একটি রং বেছে নিয়ে সেই রঙেরই চাদর বা ওড়না পরছেন তরুণীরা।

বিশ্ব-রঙসহ অন্যান্য শোরুমে নানা রঙের যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে একই চাদরে অনেক রঙের সমাবেশ। এর সুবিধা হচ্ছে, একটি চাদর দু-তিনটি পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পরা যায় সহজেই। শেডের চাদরের চাহিদাও রয়েছে বেশ। উজ্জ্বল রঙের কামিজের সঙ্গে এক শেড গাঢ় বা হালকা রঙের চাদর বা ওড়না ভালো লাগবে। শুধু এক রঙের সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে নিন মাল্টিকালার। সুতির পোশাকের সঙ্গে সুতি ভালো মানায়। অন্য দিকে সিল্কের সঙ্গে নিতে পারেন সিল্ক, মসলিন, ধুপিয়ান এমনকি জর্জেট কাপড়ের তৈরি ওড়না। শুধু কামিজ নয়; ফতুয়া, কুর্তা, টপ, টি-শার্ট ও শার্টের সঙ্গেও পরতে পারেন নানা রঙের পাতলা চাদর। তবে সব পোশাকে বড় চাদর মানায় না। মানিয়ে যায় ছোট পাতলা শাল।

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে জমকালো দাওয়াত—সব উপলক্ষকেই রঙিন করতে পারে নানা রঙের শাল। দিনের বেলার দাওয়াতে কিন্তু ভারী কাজের ওড়নাগুলো বেশ মানিয়ে যাবে।

পাওয়া যাবে

বিশ্ব-রঙ, আড়ং, প্রবর্তনা, দেশী দশ শোরুম, সপুরা সিল্ক, নগরদোলা, দেশালসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে এসব পাওয়া যাবে।

দরদাম

খাদি ১৫০-৪০০ টাকা, সার্টিন ৭০০, মসলিন ৫০০-৭০০, হ্যান্ড প্রিন্ট ৮০০, বলাকা সিল্ক ৬৫০-৮৫০, সফট সিল্ক শিফন ২৫০-৫০০, হাতের কাজ ১০০০, জুট কটন ১৫০-৩৫০ ও মসলিন ৩৫০-৬৫০ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন মার্কেটে ২০০-৪০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।

লেখিকা : মোসাম্মৎ সেলিনা হোসেন, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, ঢাকা।

x

Check Also

মেহেদির ছোঁয়ায় রাঙিয়ে তুলুন হাত

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : আর কয়েকদিন পরেই ঈদ। তাই এ আনন্দ-উৎসবকে ঘিরে চলছে ব্যাপক আয়োজন। নতুন ...

Scroll Up