১১৭ দেশের মধ্যে ক্ষুধার সূচকে বাংলাদেশ ৮৮তম

এমএনএ রিপোর্ট : বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ১১৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান গত বছরের চেয়ে দুই ধাপ নিচে নেমে গেছে। ২০১৯ সালের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮, গত বছরে যা ছিল ৮৬। তবে ক্ষুধা দূর করার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান, ভারত ও আফগানিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। তবে নেপাল, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে পিছিয়ে আছে।

এবারে বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ১১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম। চলতি বছরের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ভারতের অবস্থান ১০২তম আর পাকিস্তান ৯৪তম। বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক-২০১৯তে এ তথ্য মিলেছে।

মানবিক সহায়তার জন্য কাজ করে এমন দুটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি এই তালিকা প্রকাশ করেছে। এই সূচকে সবচেয়ে ভালো স্কোর হচ্ছে শূন্য অর্থাৎ সে দেশে ক্ষুধা বা খাবারের অভাবে দিন কাটাচ্ছেন এমন কেউ নেই। আর ১শ পয়েন্ট পাওয়া মানে পরিস্থিতি খুবই খারাপ। ক্ষুধার সূচকে সেই দেশের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। আর স্কোর কমতে থাকা মানে সেখানে খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

ক্ষুধা ও অপুষ্টির হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক উন্নতি অব্যাহত থাকলেও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের অবস্থান আটকে আছে একই বৃত্তে।

গতকাল মঙ্গলবার খাদ্যনিরাপত্তা–বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও জার্মানভিত্তিক সংস্থা হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ডের প্রকাশ করা চলতি বছরের বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ১১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এবছর ৮৮তম।

২০১৮, ২০১৭ ও ২০১৬ সালে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল যথাক্রমে ৮৬, ৮৮ ও ৯০ নম্বরে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ক্ষুধার রাজ্যে নেপাল, মিয়ানমার ও শ্রীলংকার চেয়েও পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। তবে পাকিস্তান, ভারত ও আফগানিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।

প্রতিটি দেশের পরিস্থিতি বিচার করে গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) তৈরি হয়েছে চারটি মাপকাঠিতে।

অপুষ্টির হার, ৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কম ওজনের শিশুর হার, ৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কম উচ্চতার শিশুর হার, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার- এই চারটি মাপকাঠিতে প্রতিটি দেশের স্কোর হিসাব করা হয়েছে ১০০ পয়েন্টের ভিত্তিতে।

ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট বলছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে ধারাবাহিকভাবে।

মোট স্কোর গতবারের ২৬.১ থেকে কমে হয়েছে ২৫.৮। তার পরও বাংলাদেশ বৈশ্বিক অবস্থানে দুই ধাপ পিছিয়েছে। কারণ অন্যদের উন্নতি ঘটছে আরও দ্রুত গতিতে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার নির্ধারিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, একটি শিশুর প্রতিদিনের গ্রহণ করা খাদ্যের পুষ্টিমান গড়ে ১৮০০ কিলোক্যালরির কম হলে বিষয়টিকে ক্ষুধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

চলতি বছরসহ ৫ বছরে অবস্থানে খুব সামান্য তারতম্য হলেও দীর্ঘমেয়াদী চিত্রে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের ক্রমোন্নতির চিত্র। ২০০০ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১০০’র মধ্যে ৩৬ দশমিক ১, অর্থাৎ ‘ভীতিকর’। এর ৫ বছর পর, ২০০৫ সালের সূচকে সেই স্কোর কমে ৩০ দশমিক ৭-এ দাঁড়ায়। অর্থাৎ বাংলাদেশ ‘ভীতিকর’ থেকে ‘তীব্র’ ক্ষুধাপীড়িত দেশের পর্যায়ে চলে আসে। আরও ৫ বছর পর অর্থাৎ ২০১০ সালে স্কোর সামান্য একটু কমে ৩০ দশমিক ৩ হয়। আর তারপর টানা ৯ বছরের ব্যবধানে এবারের সূচকে বাংলাদেশ পেল ২৫ দশমিক ৮।

ক্ষুধা সূচক বলছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ অপুষ্টির শিকার; পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ১৪ দশমিক ৪ শতাংশের উচ্চতার তুলনায় ওজন কম; ওই বয়সী শিশুদের ৩৬ দশমিক ২ শতাংশ শিশুর ওজন বয়সের অনুপাতে কম এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার ৩ দশমিক ২ শতাংশ।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সূচকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে শ্রীলংকা। ১৭.১ স্কোর নিয়ে শ্রীলংকার অবস্থান সূচকের ৬৬ নম্বরে। এরপরে মিয়ানমারের অবস্থান ৬৯তম। এছাড়া নেপাল রয়েছে ৭৩তম স্থানে।

আর সাত দেশের মধ্যে ৩৩.৮ স্কোর নিয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা আফগানিস্তানের অবস্থান সূচকের ১০৮ নম্বরে।

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক-২০১৯তে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থাকা দেশগুলো হলো- বেলারুস, বসনিয়া, চিলি ও কোস্টারিকা। আর চরম ক্ষুধার মধ্যে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- মধ্য আফ্রিকা, মাদাগাস্কার, ইয়েমেন ও চাদ।

x

Check Also

শীত এলেই পিকনিক : ঢাকার কাছে যত স্পট

এমএনএফিচার ডেস্ক : শীতের মৌসুম প্রায় এসেই পড়েছে। বাচ্চাদের পরীক্ষা শেষ হতে হতে জমিয়ে উঠবে শীতানন্দ। ...

Scroll Up