২৮ কোম্পানির ওষুধ উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ

104

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুসরণ করে উৎপাদনে ব্যর্থ ২৮ ওষুধ কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক (পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন) স্টেরয়েড ও ক্যান্সার প্রতিরোধক ওষুধের উৎপাদন ও বিপণন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদেশ পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব, শিল্প সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়া দুই সপ্তাহের মধ্যে এই আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতেও বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি আতাউর রহমান খান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার রুল জারিসহ এই আদেশ দেন।

এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যর্থ ২০টি কোম্পানির সব ওষুধ এবং ১৪টি কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ। ফলে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের ৫২টি ওষুধ কোম্পানি উপাদন বন্ধের বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়েছে।

নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ২৮ কোম্পানি: অ্যামিকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, অ্যাজটেক ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, বেঙ্গল টেকনো ফার্মা লিমিটেড, বেনহাম ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ডিসেন্ট ফার্মা লিমিটেড, ডা. টিমস ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, গ্লোবেক্স ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, গ্রিনল্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ইনোভা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ম্যাক্স ড্রাগস লিমিটেড, মেডিমেট ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, মডার্ন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, মিসটিক ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, অর্গানিক হেলথকেয়ার লিমিটেড, ওয়েস্টার ফার্মা লিমিটেড, প্রিমিয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, প্রাইম ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, সীমা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, হোয়াইট হর্স ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, মমতাজ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ইউনিক ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ইউনাইটেড ক্যামিকেলস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, এফএনএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, টেকনো ড্রাগস লিমিটেডের ইউনিট-১, ইউনিট-২ ও ইউনিট-৩।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (জিএমপি) অনুসরণ না করে উল্লেখিত ২৮ কোম্পানি নিম্নমানের অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড ও ক্যান্সার প্রতিরোধক ওষুধ উৎপাদন ও বিপণন করছে—এমন দাবি জানিয়ে গতকাল রবিবার জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট করেন মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

রিটে বলা হয়, স্পিকারের অনুমতিক্রমে গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করে বলেছে ২৮টি কোম্পানি নিম্নমানের অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড ও ক্যান্সার প্রতিরোধক ওষুধ উৎপাদন বন্ধের সুপারিশ করছে। কিন্তু এর পরেও এসব কোম্পানির ওষুধ উৎপাদন ও বিপণন বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অথচ ১৯৮২ সালের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশের ১৫ (১) ধারায় বলা হয়েছে, প্রতিটি ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানি অবশ্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জিএমপি অনুযায়ী ওষুধ উৎপাদন করবে। আবার ১৫ (২) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ওষুধ কোম্পানি জিএমপি অনুসরণ না করে, তাহলে সেই কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল অথবা স্থগিত করা যেতে পারে। এ ছাড়া অধ্যাদেশের ১৭ ধারায় নিম্নমানের ওষুধ প্রস্তুত, মজুদ, অথবা বিক্রির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন।

রুলে মানহীন ২৮টি কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক স্টেরয়েড ও ক্যান্সার প্রতিরোধক ওষুধের উৎপাদন ও বিপণন বন্ধের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব, শিল্প সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ওষুধ উৎপাদন মালিক সমিতির সভাপতিসহ বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে হবে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী মনজিল মোরসেদ নিজেই। আদেশের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জিএমপি অনুসরণ না করে ২৮টি কোম্পানি নিম্নমানের অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড ও ক্যান্সার প্রতিরোধক ওষুধ উৎপাদন ও বিপণন করছে। এতে জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি সুপারিশ করলেও সংশ্লিষ্টরা এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার জিএমপি নীতিমালায় ওষুধের মান ঠিক রাখতে উৎপাদন পদ্ধতি, লোকবল, কারখানার অবস্থান, পদ্ধতি, মোড়কজাতকরণসহ অনেক বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। কিন্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদেন এসেছে এসব ওষুধ কোম্পানি তা যথাযথভাবে অনুসরণে ব্যর্থ হয়েছে।

মনজিল মোরসেদ জানান, জিএমপি নীতিমালা দেশের প্রচলিত আইন দ্বারা স্বীকৃত। ফলে জিএমপি লঙ্ঘন করে ওষুধ উৎপাদন সম্ভব নয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যর্থ ২০টি কোম্পানির সব ওষুধ এবং ১৪টি কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ।

২০ কোম্পানি হলো: এক্সিম ফার্মাসিউটিক্যাল, এভার্ট ফার্মা লিমিটেড, বিকল্প ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ডলফিন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ড্রাগল্যান্ড লিমিটেড, গ্লোব ল্যাবরেটরিজ (প্রাইভেট) লিমিটেড, জলপা ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, কাফমা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, মেডিকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ন্যাশনাল ড্রাগ ফার্মা লিমিটেড, নর্থ বেঙ্গল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, রিমো কেমিক্যালস লিমিটেড (ফার্মা ডিভিশন), রিড ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, স্কাইল্যাব ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, স্পার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, স্টার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, সুনিপুণ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, টুডে ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ট্রপিক্যাল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং ইউনিভার্সেল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধের নির্দেশপ্রাপ্ত ১৪টি কোম্পানি: আদদ্বীন ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড, আলকাদ ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, বেলসেন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, বেঙ্গল ড্রাগস অ্যান্ড কেমিক্যালস (ফার্মা) লিমিটেড, ব্রিস্টল ফার্মা লিমিটেড, ক্রিস্ট্যাল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, মিল্লাত ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, এমএসটি ফার্মা অ্যান্ড হেলকেয়ার লিমিটেড, অরবিট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ফার্মিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, পনিক্স কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি লিমিটেড, রাসা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ও সেভ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।