৩১৫ রানের টার্গেটে খেলছে বাংলাদেশ

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : সেমির স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে ৩১৫ রান করতে হবে বাংলাদেশকে। সেই লক্ষে ইতিমধ্যে ব্যাটিংয়ে নেমেছে টাইগারেরা। সাকিব-তামিম-মুশফিকুর রহিমদের ব্যাটের ছন্দটা ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে জয় কিন্তু খুব দূরে নয়।

তবে বুঝে-শুনে খেললে এজবাস্টনে এই রান তাড়া করা অসম্ভব নয়। বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম এবং সৌম্য সরকার সেভাবেই শুরু করেন। এরপরই সেট হয়ে আউট হন তামিম। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে এভাবে সেট হয়ে আউট হওয়ার ওষুধ পেলেন না তামিম। তার আউটের পরে দলকে ভরসা দেওয়া সৌম্য সরকারও ফিরে যান।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৬ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ৭৫ রান। তামিম ইকবাল ফিরেছেন ২২ রান করে। সৌম্য সরকার ৩৩ রানে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। সাকিব আল হাসান খেলছেন ১৬ রানে। তার সঙ্গী মুশফিকুর রহিম।

এর আগে ম্যাচের শুরুতে তামিমের হাত গলে স্কোয়ারে লেগে রোহিত শর্মার ক্যাচটা পড়ে গেল। উল্লাসে লাফিয়ে ওঠার অপেক্ষায় থাকা টাইগার ভক্তরা স্তম্ভিত। মাত্র নয় রানে জীবন পাওয়া সেই রোহিত ১০৪ রানে থামেন। কেএল রাহুলের সঙ্গে গড়েছেন এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ১৮০ রানের ওপেনিং জুটির রেকর্ড।

দুর্দান্ত ভিত্তি পেয়ে যাওয়া ভারত এজবাস্টনে ছুটছিল দুর্বার গতিতে। মধ্যে সেই রান চাকা টেনে ধরে বাংলাদেশ। বিরাট কোহলিরা ৯ উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে ৩১৪ রান। এই রান টপকে জেতা সম্ভব টাইগারদের এখন ব্যাট হাতে তা প্রমাণ করতে হবে।

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে বাংলাদেশকে করতে হবে ৩১৫ রান। বার্মিংহামে আজ মঙ্গলবার ভারত ৫০ ওভারে তুলেছে ৯ উইকেটে ৩১৪ রান।

বিশ্বকাপে এবার আগের তিন সেঞ্চুরির দুটিতেই শুরুর দিকে জীবন পেয়েছিলেন রোহিত। এই ম্যাচেও সেটির চড়া মূল্য বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রতিপক্ষকে। ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ৯২ বলে করেছেন ১০৪।

এবারের আসরে রোহিতের এটি চতুর্থ সেঞ্চুরি। এক বিশ্বকাপে চারটি সেঞ্চুরি আছে কেবল আর কুমার সাঙ্গাকারার।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ভারতকে উদ্বোধনী জুটিতে ১৮০ রান এনে দেন রোহিত ও রাহুল। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম জুটিতে সর্বোচ্চ রান এটিই।

দুর্দান্ত শুরুর পরও ভারত আরও বড় স্কোর গড়তে পারেনি মূলত মুস্তাফিজর রহমানের সৌজন্যে। তার বলেই শুরুতে ক্যাচ ছেড়েছিলেন তামিম। হতাশা পেছনে ফেলে পুরোনো বলে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন বাঁহাতি পেসার। ৫৯ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট।

এই প্রথম বিশ্বকাপে ৫ উইকেট পেলেন বাংলাদেশের কোনো পেসার। ক্যারিয়ারের প্রথম ৯ ওয়ানডেতেই ৩ বার ৫ উইকেট নেওয়া মুস্তাফিজ আরেকটি ৫ উইকেটের স্বাদ পেলেন ৪৩ ম্যাচ পর।

রোহিতের ঝলক শুরু হয়েছিল ম্যাচের ওভার থেকেই। মাশরাফির শর্ট বল সীমানার বাইরে ফেলেন পুল শটে। পুল শটেই রোহিত সুযোগ দিলেন পঞ্চম ওভারে। ডিপ স্কয়ার লেগ থেকে মিড উইকেটের দিকে ছুটে বলের নিচে যেতে পারলেও হাতে জমাতে পারলেন না তামিম।

পরের ওভারে সাইফকে এক্সট্রা কাভার দিয়ে গ্যালারিতে আছড়ে ফেলে রোহিত যেন উদযাপন করলেন নতুন জীবন। সেই জীবনে ছুটতে থাকলেন অপ্রতিরোধ্য গতিতে। ছন্দ পেয়ে যান রাহুলও। জুটিতে রান আসতে থাকে অনায়াসে।

১০৫ বলে আসে জুটির শতরান, পরের পঞ্চাশে লাগে কেবল ৩৫ বল। রোহিত ফিফটি স্পর্শ করেন ৪৫ বলে। পরের পঞ্চাশেও লেগেছে ঠিক ৪৫ বল। বিশ্বকাপের পঞ্চম ও ওয়ানডেতে ২৬তম সেঞ্চুরি।

অনেক সময়ই সেঞ্চুরির পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন রোহিত। এ দিন সুযোগটি দেননি সৌম্য সরকার। স্লোয়ার উড়িয়ে মারতে গিয়ে ফেরেন রোহিত।

সঙ্গীকে হারানোর পর বেশি দূর যেতে পারেননি রাহুল। স্লোয়ারে ফেরেন তিনিও। ৯২ বলে ৭৭ রান করা ওপেনার বিশ্বকাপে এবার রুবেলের প্রথম শিকার।

চোখধাঁধানো কয়েকটি শটে বিরাট কোহলির রান রথ ছুটতে শুরু করেছিল। ইনিংসের বাংলাদেশের সেরা সময়টুকু আসে তখনই। মুস্তাফিজের দুটি কাটার দলকে উপহার দেয় দুটি উইকেট। পুল শট সীমানায় সোজা ফিল্ডারের হাতে তুলে দেন কোহলি। নতুন ব্যাটসম্যান হার্দিক পান্ডিয়া দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে ফেরেন স্লিপে সৌম্য সরকারের দারুণ ক্যাচে।

ডাবল উইকেট মেডেনে যে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন মুস্তাফিজ, পরের ওভারেই তা আলগা করে দেন সাইফ। হাফ ভলি, শর্ট পিচ, স্টাম্পের বাইরে জায়গা, টানা তিনটি চারে চাপ সরিয়ে দেন রিশাভ পান্ত।

৪১ বলে ৪৮ রান করা পান্তকে পরে বিদায় করেন ইনিংস জুড়ে দারুণ বোলিং করা সাকিব। মহেন্দ্র সিং ধোনির ৩৩ বলে ৩৫ ভারতকে নিয়ে যায় তিনশর ওপারে।

শেষ ওভারে দুটি উইকেট নিয়ে মুস্তাফিজ পূরণ করেন ৫ উইকেট। শেষ ১০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ভারত তুলতে পেরেছে কেবল ৬৩ রান।

শেষটা এত ভালো হলো বলেই লক্ষ্য যায়নি বাংলাদেশের নাগালের বাইরে। বিশ্বকাপে টিকে থাকতে চ্যালেঞ্জ এবার ব্যাটসম্যানদের।

সাকিব আল হাসানের ব্যাট এবারের আসরে খাপখোলা তলোয়ার হয়ে উঠেছে। গত ছয় ম্যাচে ৪৭৬ রান করেছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। রানের গড় ৯৫! ভারতের বিপক্ষেও জ্বলে উঠতে হবে সাকিবকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবা ইংল্যান্ডের বিপক্ষের সাকিবকে যদি ভারতের বিপক্ষেও দেখা যায় তাহলে কিন্তু ভারতবধ অসম্ভব নয়।

রান সংখ্যায় সাকিবের চেয়ে ঢের পিছিয়ে থাকলেও ব্যাট হাতে কিন্তু মোটেও কম যাননি মুশফিকুর রহিম। ৬ ম্যাচে করেছেন ৩২৭। ভারতের বিপক্ষে এই ম্যাচে মিডল অর্ডারে বড় ইনিংস খেলতে হবে মুশিকে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ না থাকায় এই ম্যাচে বাড়তি চাপ থাকছে মুশফিকের ওপর। চাপের মধ্যেই চ্যাম্পিয়নরা নিজেদের সেরাটা বের করে আনেন। আজ সেরাটা দিতে হবে মুশফিককেও।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

ভারত : ৫০ ওভারে ৩১৪/৯ (রাহুল ৭৭, রোহিত ১০৪, কোহলি ২৬, পান্ত ৪৮, পান্ডিয়া ০, ধোনি ৩৫, কার্তিক ৮, ভুবনেশ্বর ২, শামি ১, বুমরাহ ০*; মাশরাফি ৫-০-৩৬-০, সাইফ ৭-০-৫৯-০, মুস্তাফিজ ১০-১-৫৯-৫, সাকিব ১০-০-৪১-১, মোসাদ্দেক ৪-০-৩২-০, রুবেল ৮-০-৪৮-১, সৌম্য ৬-০-৩৩-১)।

x

Check Also

টাকার অবমূল্যায়ন শুরু করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

এমএনএ রিপোর্ট : দীর্ঘদিন বিনিময়মূল্য ধরে রাখার পর মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন শুরু করেছে ...

Scroll Up