ঘরেই তৈরি হোক সুস্বাদুতম ফুচকা

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : ঘরেই তৈরি হোক সুস্বাদুতম ফুচকা। ফুচকার নাম শুনে জিবে পানি আসেনা, এমন পাষাণ হৃদয় মানুষ কয় জন আছে বলুন? এত সব বিদেশী ফাস্ট ফুডের মাঝেও বিকাল হলেই ফুচকার জন্য মন আনচান করে ওঠে অনেকেরই। আবার অনেকেই এড়িয়ে যান “অস্বাস্থ্যকর” মনে করে। কিন্তু তাই বলে কি বন্ধ থাকবে বাঙ্গালির ফুচকা বিলাস? একদমই না!! বরং চলুন না, ঘরেই বানিয়ে নেয়া যাক ফুচকা!

ফুচকা পরিচিতি-

ফুচকা একটি দক্ষিণ এশীয় খাদ্য বিশেষ সে তো আমরা সকলেই জানি। ফুচকার জন্ম ভারতবর্ষে, সেই ব্রিটিশ আমলেরই আশে পাশে। দেশভাগ হয়েছে, ভাষাগত পার্থক্যের কারণে বদলে গেছে নাম। তবে একটুকু কমেনি ফুচকার আবেদন।

আটার/ময়দার তৈরি মুচমুচে ফুলকো পাপড়ির মাঝে মশলা মাখানো কাবলি ছোলা আর তেঁতুলের টক মিশিয়ে পরিবেশন করা ছোট ছোট স্বাদের অ্যাটম বোম… ফুচকা বলতে আমরা এটাকেই বুঝি, তাইনা? ভারতের অনেক জায়গাতেই, যেমন পশ্চিমবঙ্গে কাবলি ছোলার বদলে ব্যবহৃত হয় মশলা মাখানো আলু। ভেতরে পুরের কেবল জিরা পানি দিয়েও পরিবেশিত হয় মহারাষ্ট্র অঞ্চলে, নাম তার “পানি পুরি”। উত্তর ভারতে এই ফুচকারই নাম আবার গোল গাপ্পা।

আমাদের দেশীয় ফুচকার মোট পাঁচটি অংশ-
কাবলি ছোলার চাট
চাট মশলা
ফুচকা
চুরমুর
তেঁতুলের টক

এই পাঁচটি উপকরণ পৃথক ভাবে তৈরির পর একত্রে পরিবেশনকেই বলা হয় ফুচকা। আসুন ধাপে ধাপে জেনে নেই তৈরির পদ্ধতি।

কাবলি ছোলার চাট তৈরি-
কাবলি ছোলা ২ কাপ কমপক্ষে ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে পরে সিদ্ধ করে নিন। নতুবা ১ চা চামচ বেকিং পাউডার দিয়ে সিদ্ধ করে নিন, তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হবে। পানি পুরোপুরি শুকাবেন না, বেশ একটু ভেজা ভেজা থাকবে।

২টি আলু ও ৩টি ডিম সিদ্ধ করে গ্রেট করে নিন। পিঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, ও ধনে পাতা কুচিয়ে রাখুন।

এবার সিদ্ধ ছোলার সাথে অর্ধেক পরিমাণ আলু ও ডিম মিশিয়ে নিন। স্বাদ মতন পিঁয়াজ, মরিচ, ধনেপাতা, লবণ ও ২ টেবিল চামচ চাট মশলা মাখিয়ে পুর তৈরি করে নিন। চাইলে বেশিও দিতে পারেন।

চাট মশলা যেভাবে তৈরি করবেন-
২ টেবিল চামচ ধনিয়া, ২ টেবিল চামচ জিরা, ১ টেবিল চামচ পাঁচ ফোড়ন, ৮/১০ টি শুকনা মরিচ ভালো করে তাওয়ায় টেলে মিহি গুঁড়ো করে নিন। চাইলে সাথে দিতে পারেন সামান্য হিং। ব্যাস, তৈরি আপনার চাট মশলা।

ফুচকা তৈরি করতে-
ময়দা ২ কাপ ও আধা কাপ সুজির মাঝে ১ চাচামচ তাল মাখনা মিশিয়ে পরিমাণ মত লবণ দিন। অল্প তেল ও পানি মিশিয়ে শক্ত খামির তৈরি করে নিন। আধ ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। এবার সেই খামির থেকে পাতলা রুটি বেলে ছোট ছোট গোল পাপড়ি কেটে নিন এবং গরম তেলে ভেজে নিন। ভাজার সময় হাল্কা করে চাপ দিন খুন্তি দিয়ে, দেখবেন সুন্দর ফুলে উঠবে।

চুরমুর তৈরি-
চুরমুর আর কিছুই নয়, ফুচকার ভাঙ্গা টুকরো। যে ফুচকা গুলি ভালো মতন ফুলবে না, তাদেরকে ভেঙ্গে চুরমুর তৈরি করে নিন।

তেঁতুলের টক তৈরিতে-
শুকনো তেঁতুল গরম পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। ভিজে উঠলে ভালো করে চটকে নিন, এবং ছেঁকে ফেলুন। এই পানির সাথে সামান্য চাট মশলা মিছিয়ে নিন ও পরিমাণ মত লবণ মেশান। চাইলে একটি ডিমের কুসুম ভেঙ্গে মিছিয়ে দিতে পারেন এই টকের সাথে। তাতে টক হয়ে উঠবে আরও মজাদার।

অবশেষে ফুচকা পরিবেশন-
কাবলি ছোলার পুরের মাঝে শেষ মুহূর্তে কিছু চুরমুর মেশান। এরপর আঙ্গুলের সাহায্যে ফুচকার মাঝে ছোট গর্ত করে পুর ভরুন। ওপরে ছিটিয়ে দিন অল্প করে আলু, পিঁয়াজ, ধনেপাতা, মরিচ কুচি। সবার শেষে দিন ডিম ঝুরি ও আরও খানিকটা চুরমুর। দেখতে যেমন সুন্দর হবে, তেমনি ভিন্ন ভিন্নই টেক্সচারের আস্তরণ তৈরি হবে।

এভাবে বেশ কয়েকটি ফুচকা তৈরি করে বাটিতে টক ভরে সাজিয়ে দিন।

তারপর আর কি, একটা ফুচকা আর অনেকখানি টকের যুগল বন্দী… এমন স্বাদ তৈরি হবে যে কখনও আর বাইরের ফুচকা চেখেই দেখবেন না!!

x

Check Also

বৃষ্টির দিনে মজাদার তিনপদের খিচুড়ি

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : বৃষ্টি পড়বে ঝমঝমিয়ে সারাদিন… সারারাত…আর বাড়িতে খিচুড়ি রান্না হবে না তাই ...

Scroll Up