মধ্যবর্তী নয় নতুন নির্বাচন চায় বিএনপি

মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী (এমএনএ) : মধ্যবর্তী নয়, নতুন নির্বাচন চায় বিএনপি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রশ্ন তখনই আসে, যখন একটি নির্বাচিত সরকারের জনপ্রিয়তা যাচাই অথবা ওই সরকার কোনো সমস্যায় পড়লে তা থেকে উত্তরণের বিষয় সামনে আসে।

আজ রবিবার বিকালে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দলটির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন,  অনেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা বলছেন। কিন্তু ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেশে যে নির্বাচন হয়েছে তা স্বাভাবিক নির্বাচন ছিল না, অনিয়মতান্ত্রিক একটি নির্বাচন ছিল। আমার দল মনে করে, এই নির্বাচনটি সহি হয়নি, অবাধ হয়নি, জনগণ ভোট দিতে পারেনি। সুতরাং এখানে নতুন করে নির্বাচন দিতে হবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রশ্ন আসে না।

তিনি বলেন, আমরা নতুন নির্বাচন চাই। এমন একটি নির্বাচন চাই, সেখানে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে জনগণ ভয়ভীতির পরিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে অবাধে স্বাধীনভাবে তাদের ভোট প্রয়োগ করতে পারবে। অর্থাৎ আমার ভোট আমি দেবো, যাকে ইচ্ছা তাকে দেবো।

আজ রবিবার টুঙ্গীপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন বর্জন এখন আর রাজনীতিতে কার্যকর না। আবার যদি বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে, তাহলে তাদের অস্তিত্বই থাকবে না। আমরা বারবার বলেছি, আগামী নির্বাচন হবে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী। আমরা আশা করি, সবাই সেই নির্বাচনে অংশ নেবে।

আওয়ামী লীগ কোনো নির্বাচন বর্জন করেনি- আশরাফের এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে রিপন বলেন, তার (সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম) বক্তব্য সত্য নয়। আওয়ামী লীগও নির্বাচন বর্জন করেছে। এরশাদের অধীনে ১৯৮৮ সাল, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারি ও ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচন আওয়ামী লীগ বর্জন করেছিল। বর্জন করে তারা আবার নির্বাচনের মাঠে এসে ক্ষমতায়ও গিয়েছিল। সুতরাং নির্বাচনে না গেলে বিএনপি বিলুপ্ত হয়ে যাবে এটা মোটেও ঠিক নয়। বিএনপি গত নির্বাচনে যায়নি বলে ক্ষতি হয়েছে, এটা মোটেও ঠিক নয়।

নির্বাচন বর্জন করলে বিএনপির অস্তিত্ব থাকবে না আশরাফুল ইসলামের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বিএনপির প্রতি সৈয়দ আশরাফের এমন সহানুভূতির জন্য ধন্যবাদ জানাই। তবে তাকে জানিয়ে রাখি, বিএনপির ধ্বংস বা বিলুপ্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ এ দলের নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমানের আদর্শে জেগে থাকবে।

ঘুমের মধ্যে যে স্বপ্ন তুমি দেখ তা স্বপ্ন নয়, যে স্বপ্ন তোমাকে ঘুমাতে দেয় না, জাগিয়ে রাখে তাই সত্যিকার স্বপ্ন- ভারতের সদ্য প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের এই উক্তিটি উদ্ধৃত করে রিপন বলেন, রাজনীতিও তেমনি একটি স্বপ্ন। রাজনীতি হচ্ছে স্বপ্ন বাস্তবায়নের বাহন। বিএনপির যদি সেই স্বপ্ন থাকে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য যদি বাহন (নেতাকর্মী-সমর্থক) থাকে, তাহলে শহীদ জিয়ার আদর্শ পূরণে বিএনপি বেঁচে থাকবে। বিএনপি ধ্বংস হবে না। বিএনপি শুধু বেঁচেই থাকবে না, স্বপ্ন পূরণের জন্য জেগেও থাকবে। ইনশাল্লাহ জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসবে। এই সরকার অবশ্যই দেশে একটি নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা মেনে নেবে।

বেসরকারি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভ্যাট আরোপের প্রতিবাদ জানিয়ে রিপন বলেন, এর মাধ্যমে সরকার শিক্ষা নিয়ে বৈষম্য করছে। সরকার নিজেকে জনবান্ধব বলে দাবি করে। কিন্তু তারা শিক্ষা বা ছাত্রবান্ধব নয়। হলে শিক্ষা খাতে ভ্যাট আরোপ করত না। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ধনিক শ্রেণীর দিকে না তাকিয়ে নিু ও মধ্যবিত্তদের দিকে তাকান। কারণ পাবলিক প্রতিষ্ঠানগুলো আসন স্বল্পতার কারণে অনেক গরিব ছাত্রও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কষ্ট করে পড়াশোনা করে। বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করুন। এর বিরুদ্ধে ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিবাদ গড়ে তোলা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, নিলোফার চৌধুরী মনি, শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করিম শাহিন, আবদুল আউয়াল খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

x

Check Also

ভোজন রসিকদের পছন্দ ইলিশ খিচুড়ি

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : ইলিশ খিচুড়ি কার না পছন্দ। বিশেষ করে ভোজন রসিকদের কাছে পছন্দের ...

Scroll Up