রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতায় নির্বাচনে কারচুপি ও সহিংসতা

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে অনিয়ম কম হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সন্তোষ প্রকাশ করলেও তা নিয়ে আমরা যথেষ্ট আশাবাদী হতে পারছি না। প্রথম দুই ধাপের পর তৃতীয় ধাপে এসে সহিংসতা কমেছে, কিন্তু প্রাণহানি তার পরও ঘটেছে। পাশাপাশি ব্যাপক কারচুপির অভিযোগও উঠেছে। রাজনৈতিক দলের অসহিষ্ণুতায় সহিংসতা হচ্ছে—নির্বাচন কমিশনের এ উপলব্ধি সত্য হলে প্রশ্ন হচ্ছে, সহিংসতা প্রতিরোধে কমিশন আরো তত্পর হয়নি কেন?

আমাদের দেশের তৃণমূলের নির্বাচনে উৎসবের আমেজ বিরাজ করলেও সংঘাতে তা ব্যাহত হয়। ছয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৪০ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আমরা জানি, যেকোনো নির্বাচনের আগে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা থেকে ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী এলাকা সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনেরও নিজস্ব পর্যবেক্ষণ থাকে। প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে নির্বাচন কমিশন এবার কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। যেসব কেন্দ্র ও ইউনিয়ন পরিষদ ঝুঁকিপূর্ণ বলে আগে থেকেই ইঙ্গিত দেওয়া ছিল, সেই কেন্দ্র ও এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিলে কি অনেক সংঘাত এড়ানো সম্ভব হতো না? তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের দিন দেশের বিভিন্ন জেলায় সহিংসতায় অন্তত ৩০০ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া UP-Poll-14গেছে। তিন পুলিশ সদস্য, শিশু ও নারীসহ ১৬ জনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতের সংখ্যা ২। অন্তত ৩০টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে। ভোটের আগের দিন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার এক ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে ও গুলি করে আহত করা হয়েছে।

আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশন গাজীপুর জেলার এসপি ও দুই ওসিকে প্রত্যাহারের কথা বলেছে। আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে ১৬৪ জনকে চার লাখ ১০ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে তারা সমান দৃঢ়তার পরিচয় কি দিতে পেরেছে? নির্বাচনের আগে আসা সব অভিযোগ কি সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে নির্বাচন কমিশন? যে তিন ধাপে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে কি সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল?

নির্বাচনী সহিংসতা রোধ করতে কমিশনকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচন চলাকালে নির্বাচনী এলাকায় পুলিশ ও প্রশাসন থাকে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। কাজেই পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনযন্ত্র ব্যবহার করে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। গাজীপুরের এসপি ও দুই ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, এমন আরো অনেক উদাহরণ সৃষ্টি করা যেত। আরো তিন ধাপের নির্বাচন সামনে। আগামী নির্বাচন সহিংসতামুক্ত করতে নির্বাচন কমিশনকে সচেষ্ট হতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো সক্রিয় করতে হবে। সহিংসতাপ্রবণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতা বাড়িয়ে চিহ্নিত দুষ্কৃতীদের খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। আমরা আশা করব, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতা ও নির্বাচন কমিশনের কঠোর ব্যবস্থাপনা সামনে নির্বাচনী সহিংসতা হ্রাসে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

-সম্পাদক

x

Check Also

নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা : প্রয়োজন অর্থবহ সংলাপের উদ্যোগ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত রোডম্যাপে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার ব্যাপারে সন্দিহান ক্ষমতাসীন ...

Scroll Up