বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি বিএনপির

এমএনএ রিপোর্ট : আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে বিএনপি।

আজ রবিবার দুপুরে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দাবি করেন।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, গুপ্তহত্যার সঙ্গে সরকার নিজে জড়িত। এজন্য রিমান্ডে নেয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মাদারীপুরে জঙ্গি সন্দেহে আটক গোলাম ফায়হুল্লাহ ফাহিমকে ক্রসফায়ারে দেয়া হল।

তিনি বলেন, আমরা আগেও দেখেছি, রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক জঙ্গিদের ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। সরকারের লোকজন এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত, এসব তথ্য দেশবাসী জেনে যাবে বলেই হত্যা করা হয়েছে। আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই।

বিএনপির এ নেতা বলেন, ক্রসফায়ারের হুমকিতে মানুষ এখন ক্লান্ত। পুলিশ সরকারের পক্ষ থেকে মানুষ হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছে।

এ সময় তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

Mirza-Fakrulমির্জা ফখরুল বলেন, গণগ্রেফতার ও ক্রসফায়ার নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এটি আড়াল করার জন্যই প্রধানমন্ত্রী জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে বিষোধগার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুধু অরুচিকর, কুৎসাপূর্ণ, উস্কানিমূলক ও ভয়ংকর প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশই নয়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি স্বৈরতান্ত্রিক আক্রমণের এক নতুন দৃষ্টান্ত। তার বক্তব্য অহংকার, ঔদ্ধত্য ও অপরিণামদর্শী। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের মানুষ স্তম্ভিত।’

গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের ইফতারে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি এবং জামায়াত উভয়েই প্রকাশ্য দিবালোকে মানুষ হত্যায় সিদ্ধহস্ত। এটাই তাদের চরিত্র। তারা জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে এবং ব্রিটিশ এমপি টিউলিপকে যুক্তরাজ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছে।’

দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে লন্ডনে অবস্থানরত খালেদা জিয়ার পুত্র এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একজন কুলাঙ্গার ছেলে যে, লন্ডনে বসে আছে। ব্রিটিশ সরকার কেন তাকে সেখানে জায়গা দিয়েছে জানি না।’

প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, হত্যার জন্য হুমকি-ধমকি আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্য। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে এটি কোনোক্রমেই সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, লন্ডনে বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কাউকে হত্যার হুমকি দেয়, সেই ব্যক্তি কী আইনের হাত থেকে রেহাই পেতে পারে? সেখানে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কী পাইকারী হারে মিথ্যা মামলা দেয়া যায়?

তিনি বলেন, ব্রিটেনে আইনের শাসন চলে, আওয়ামী শাসন নয়। সেখানে বাস করে কীভাবে তারেক রহমান তাদের দেশের একজন এমপি ও তার মা-খালাকে হত্যার হুমকি প্রদান করবে, এটা পাগলেও বিশ্বাস কের না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আবদুল্লাহ আল নোমান, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

x

Check Also

সিরাজগঞ্জে হানিফ পরিবহনের ২ বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩

এমএনএ জেলা প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ এলাকায় বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে হানিফ পরিবহনের ...

Scroll Up