বন্ধ হচ্ছে প্রথম মোবাইল অপারেটর সিটিসেল!

এমএনএ অর্থনীতি ডেস্ক : সরকারের পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় দেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেল যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আজ রবিবার গ্রাহকদের উদ্দেশে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিকল্প সেবা গ্রহণের জন্য গ্রাহকদের আহ্বান জানিয়েছে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজস্ব বকেয়া বাকি এবং পরিশোধে গড়িমসি করায় যে কোনো সময় সিটিসেলের লাইসেন্স ও তরঙ্গ বাতিল এবং অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ করে অপারেটরটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে সরকার।

Citycell-Logoএ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ জানান, এই কোম্পানিটির কার্যক্রম যে কোনো সময় বন্ধ করতে পারে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ।

সেক্ষেত্রে আগামী ১৬ অগাস্টের মধ্যে এই অপারেটরের গ্রাহকদের বিকল্প সেবা বা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে জানিয়ে দেবে বিটিআরসি।

ক্রমাগত গ্রাহক কমতে থাকায় বড় ধরনের সঙ্কটে পড়া বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র সিডিএমএ মোবাইল অপারেটর সিটিসেলের কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। একাধিকবার নোটিশ ও তাগাদা দেওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি ওই বকেয়া অর্থ পরিশোধ করেনি।

বিটিআরসির হিসেবে, গত জুন মাস শেষ নাগাদ এই অপারেটরের গ্রাহক সংখ্যা মাত্র ৭ লাখ; যা বাংলাদেশের মোট মোবাইল ফোন গ্রাহকের এক শতাংশেরও কম।

২০১২ সালে ৮ দশমিক ৮২ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নবায়ন করলেও লাইসেন্স শর্ত অনুযায়ী তরঙ্গ নবায়ন ফির দ্বিতীয় এবং তৃতীয় কিস্তি এখনও পরিশোধ করেনি সিটিসেল। এ খাতে ২২৯ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বিটিআরসির, বার্ষিক লাইসেন্স ফি বাবদ পাওনা ১০ কোটি টাকা।

এছাড়া বার্ষিক তরঙ্গ ফি ( ২০১৩ থেকে ২০১৬) ২৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা, রেভিনিউ শেয়ারিং ( ২০১৪ থেকে ২০১৬) ২৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল ( ২০১১ থেকে ২০১৬) ৮ কোটি ৯২ কোটি টাকা এবং প্রযোজ্য ভ্যাট বাবদ ৩৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা ও বিলম্ব ফি ১৩৫ কোটি টাকা মিলে সর্বমোট ৮৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা পাওনা বিটিআরসির।

Citycellবিটিআরসি কর্মকর্তা বলেন, বকেয়া রাজস্ব জমা না দেওয়ায় কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার কারণ দর্শানোর নোটিসও দেওয়া হয়েছিল এই অপারেটরকে।

গত ৫ বছরে সিটিসেল ১০ লাখের বেশী গ্রাহক হারিয়েছে। ২০১০ সালের শেষের দিকে সিটিসেলের গ্রাহক সংখ্যা ছিল প্রায় ২৩ লাখ। কমতে কমতে তা গত জুন মাসে ৭ লাখে দাঁড়ায়।

বিটিআরসির হিসাবে জুন শেষ নাগাদ গ্রাহকের হাতে থাকা মোট মোবাইল সিমের সংখ্যা ১৩ কোটি ১৩ হাজারের বেশি।

১৯৮৯ সালে দেশের প্রথম মোবাইল অপারেটর হিসেবে বিটিআরসি থেকে টেলিযোগাযোগ সেবার লাইসেন্স পায় সিটিসেল বা প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড।

বর্তমানে এই কোম্পানির ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক বিএনপি নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান মালিকানাধীন প্যাসিফিক মোটরস।

সিটিসেলের সবেচেয়ে বেশি ৪৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিংটেল এশিয়া প্যাসেফিক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের হাতে। এছাড়া ফার ইস্ট টেলিকম লিমিটেড ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ারের মালিক।

x

Check Also

বিকালে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন মির্জা ফখরুল

এমএনএ রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিতদের বিক্ষোভ ও দেশব্যাপী প্রতীক বরাদ্দের ডামাডোলের ...

Scroll Up