আপন জুয়েলার্সের মালিকের গাড়ি জব্দ

এমএনএ রিপোর্ট : আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের একটি মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের গাড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সিলেটের জিন্দাবাজার এলাকা থেকে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদে ও তাঁর ছেলে শাফাত আহমেদের একটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয় বলে জানান শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান। মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের এই গাড়িটির মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।

দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, অস্বচ্ছ অর্থের উৎসের সন্ধান করতে গিয়ে প্রথমে শুল্ক ফাঁকি ধরা পড়ে। এরপর দেখা যায় গাড়িটির ম্যানুফ্যাকচার ২০১১ সালের কিন্তু ২০০২ সালের দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা। তাই গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গাড়িটি চৌকিদেখি এলাকায় শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। যে বাড়ি থেকে গাড়ি আটক করা হয়, সেটি দিলদার আহমেদের মামার বাড়ি। দিলদারের পৈতৃক বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউপির নগরগ্রামে।

যোগাযোগ করলে সিলেট শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার প্রভাত কুমার সিংহ গণমাধ্যমকে বলেন, গাড়িটি শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে রাখা হয়েছে এবং পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান বলেন, গাড়িটিতে যে কাগজপত্র পাওয়া গেছে সেখানে মালিক হিসেবে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ ও তাঁর ছেলে শাফাত আহমেদ। কাগজে দেখা যায় গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ২০১১ সালে করা। অথচ পিন কোড দেখে জানা যায়, গাড়িটি ২০০২ সালে আনা হয়েছে।

গত ২৮ মার্চ রাতে রাজধানীর বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে রাতভর ধর্ষণের শিকার হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী। ধর্ষণের ঘটনার ভিডিওচিত্র ধারণ করে ঘটনার এক নম্বর আসামি আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার হোসেনের ছেলে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন। আরেক ধর্ষক নাঈম আশরাফ।

দুই ধর্ষকের সহযোগী সাদমান সাকিফ ‘রেগনাম গ্রুপের’ ব্যবস্থাপনা পরিচালক। অপর আসামি আবুল কালাম আজাদ হলো সাফাতের দেহরক্ষী। ধর্ষক ও তাদের সহযোগীদের অব্যাহত হুমকি ও লোকলজ্জায় এক মাসের বেশি সময় পর ৬ মে দুই ছাত্রী বনানী থানায় মামলা করেন।

মালিকের ছেলের অপকর্মের সূত্র ধরে এখন আপন জুয়েলার্সের স্বর্ণ-ডায়মন্ডের উৎস বৈধ কি-না, তার খোঁজে জোরালোভাবে মাঠে নামে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। ধর্ষণের ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত সাফাত আহমেদের বাবা দিলদার আহমেদের মালিকানাধীন আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি বিক্রয়কেন্দ্রে একযোগে অভিযান শুরু করে শুল্ক গোয়েন্দারা।

x

Check Also

ঘুষ নেওয়া সেই সাব রেজিস্ট্রার বরখাস্ত

এমএনএ রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সরকারি কক্ষে বসে ঘুষ গ্রহণের দায়ে সাব রেজিষ্টার এসহাক আলী ...

Scroll Up