উৎপাদনের বদলে লোডশেডিং উপহার : রিজভী

এমএনএ রিপোর্ট : আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলে জনগণের পকেট থেকে লাখো কোটি টাকা বের করে নিয়ে জনগণকে লোডশেডিং উপহার দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহীর মতো বড় বড় শহর-নগরে দফায় দফায় ভয়াবহ লোডশেডিং হচ্ছে। জ্যৈষ্ঠের খরতাপে মানুষের যখন স্বস্তি দরকার, তখন এই সরকারের দীর্ঘক্ষণ লোডশেডিং উন্নয়নের জলজ্যান্ত উদাহরণ।

গ্রামাঞ্চল ও মফস্বল শহরে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এ বিএনপি নেতা।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ স্থাপন করে মূলত লুটপাটেরই সুযোগ দেয়া হয়েছে, আর কেটে নেয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের পকেট। অনুন্নয়নের শরীরে প্রসাধনী মাখালেই উন্নয়ন হয় না, সেটি হয় ধাপ্পাবাজি। আওয়ামী সরকার সেই কাজটি করছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকটে সারা দেশের মানুষের যখন ত্রাহি দশা, তখন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ওয়েবসাইট দিচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, পিডিবির ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, গতকাল সোমবার ও এর আগের কয়েকদিন দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে।

ওয়েবসাইটের বরাতে তিনি জানান, ২১ মে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৮ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট, উৎপাদন ছিল ৮ হাজার ৮৩০ মেগাওয়াট। ২০ মে চাহিদা ছিল ৮ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট, উৎপাদন ছিল ৮ হাজার ৮১৯ মেগাওয়াট।

পিডিবির এই তথ্য ডাহা মিথ্যাচার দাবি করে রিজভী বলেন, সরকার জনগণকে ধোকা দিচ্ছে। আমরা সরকারের এহেন মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি।

পিডিবির ওয়েবসাইটের প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর বক্তব্যের ভিন্নতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এই মুহূর্তে আমরা দিতে পারব না। এটা হতে আমাদের আরও ৩/৪ বছর লাগবে। অথচ সরকারের প্রতিষ্ঠান পিডিবি বিদ্যুৎ নিয়ে দিচ্ছে এরকম তথ্য, আর প্রতিমন্ত্রী বলছেন ভিন্ন কথা।

এদিকে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে পুলিশের তল্লাশির প্রতিবাদে আগামী বুধবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ ডেকেছে বিএনপি।

এ সমাবেশের অনুমতির ব্যাপারে রিজভী বলেন, আমরা আশা করছি, সরকার আমাদেরকে অনুমতি দেবেন। দেখি তারা (ডিএমপি-গৃহায়ন অধিদফতর) কী সিদ্ধান্ত দেয়।

সমাবেশ সফল করতে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ শাখা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের গেটের সামনে থেকে প্রতিদিন বেধড়কভাবে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের তুলে নিয়ে গ্রেপ্তার করে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। যখন হঠাৎ করে জনতার ঢল নামবে এই কারণে আগাম ভীতি সৃষ্টি করার জন্য সরকার এই কাজটি করছে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কেন এই গ্রেপ্তার? কীসের ভয় আপনাদের?

রিজভী বলেন, ‘এভাবে বেআইনি পুলিশি গ্রেপ্তার যদি চলতে থাকে তাহলে এর বিরুদ্ধে জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আর বেশিদিন চুপ করে বসে থাকা যাবে না।

এসময় বিএনপি নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, তাইফুল ইসলাম টিপু, সুলতানা আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

x

Check Also

জোর করে ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছা আ’লীগের নেই : কাদের

এমএনএ রিপোর্ট : জোর করে রাষ্ট্র ক্ষমতা ধরে রাখার কোনো অভিপ্রায় আওয়ামী লীগের নেই বলে ...

Scroll Up