কাশবনে বেড়াতে যাওয়ার এখনই সময়!

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : এসেছে শরতকাল। আকাশে শুভ্র নরম তুলো মেঘেরা ভেসে বেড়াচ্ছে। শরতের এ সময়ে কাশবনের শুভ্রতা মুগ্ধ করে সবাইকে। তাইতো কাশবনে বেড়াতে যাওয়ার এখনই সেরা সময়! প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন- মোসাম্মৎ সেলিনা হোসেন ওয়ারিসা আফসিন নাওমি

গনগনে সূর্যটা বুকে নিয়েও আকাশের রঙ এখন শান্ত নীল। শরতের শুভ্রতা ছড়িয়ে পড়ছে সবুজ রঙ্গা ঘাসের বনে। দিকে দিকে ফুটতে শুরু করেছে কাশ ফুল। ফুলপ্রেমীরা তাই বিলম্ব না করেই ছুটছেন কাশবনের দিকে। জেনে নিন আপনার আশেপাশে কোথায় কোথায় আছে কাশ ফুলের শুভ্র সতেজতা।

দিয়াবাড়ি
কাশফুলের দিগন্ত বিস্তৃত সমাহারের জন্য গত কয়েক বছরে সারা দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে দিয়াবাড়ি। আগে এখানে যেতে কিছুটা বেগ পেতে হত বটে, কিন্তু এখন রেগুলার অটো, লেগুনা পেয়ে যাবেন। বিকেলে মানুষের প্রচন্ড ভিড় থাকলেও সকাল থেকে ফাকাই থাকে জায়গাটা। কাশবনে মনের সাধ মিটিয়ে এবছরের ফটোসেশনটা করতে চাইলে তাই সকাল সকালই চলে যান। দিয়াবাড়ি থেকে যত ভেতরের দিকে যাবেন তত ভিড় কম। তবে নিরাপত্তার জন্য দল বেঁধে যাওয়াই ভালো। কাশবন ছাড়াও আছে একটি নদী। নদীর অপর ব্রীজে শান্তি শান্তি হিমেল একটা বাতাস বয়! ফুচকা চটপটি থেকে শুরু করে দুপুরের খাবার সবই পাবেন এখানকার রেস্টুরেন্টে।

৩০০ ফিট সড়ক
কাশফুল আর রেস্তোরাঁর জন্য জনপ্রিয় ৩০০ ফিট। রেস্তোরাঁ সম্প্রতি উঠিয়ে দিলেও কাশবন, নদী, বিস্তৃত খোলা পরিবেশ সবই কিন্তু আছে ঠিক আগের মতোই। পিচঢালা সড়কের দুপাশে শুভ্রতার সমারোহ মনকে উদাস না করে পারে না।

আফতাবনগর
আফতাবনগরের কাশবন জনপ্রিয়তার ৩য় স্থানে আছে বলা যায়। রামপুরা ব্রিজ থেকে উত্তর পূর্ব দিকে জহুরুল ইশলাম সিটি দিয়ে সামনে এগিয়ে গেলে কিছুদূর গিয়েই পেয়ে যাবেন কাশবনের সমুদ্র। কাছাকাছি বেড়ানোর জন্য এইও জায়গাটিও কিন্তু চমৎকার।

মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ
আসলে যেখানে নদী তার তীরেই এখন কাশের মেলা জমতে শুরু করেছে। আর যদি মাইলের পর মেইল ফাকা জমি থাকে তাহলে তো কথাই নেই। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ ধরে এগিয়ে গেলেও তাই কাশের সাক্ষাত পেয়ে যাবেন আপনি। একটু ভেতরের দিকে চলে যান, বুড়িগঙ্গার তীরে। অথবা বসিলা সড়ক ধরে ওয়াশপুরের বিভিন্ন পল্টের ফাকা জমিতে দেখবেন কাশের অপূর্ব সমারোহ।

পদ্মা নদী
পদ্মার আশেপাশে এত জায়গায় এখন কাশ ফুটবে যে আলাদা নাম না বলে লিখলাম পদ্মা নদী। আপনি মাওয়া ঘাট চলে যেতে পারেন সানন্দ্যে। সেখান থেকে নৌকায় নদীর কোনো চরে চলে গেলেই হলো। ব্যাস! তবে এসব ট্যুর অবশ্যই গ্রুপে দেবেন। এই সময় নদীর চর ভ্রমণ এৎ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে অনেকে তাবু নিয়েও নদীতে চলে যায়।

ধলেশ্বরী নদী
নদীর নামটি ধলেশ্বরী আর তার দুই তীর ধরে সাদা ফুলেদের সমারোহ! ঢাকা থেকে মাওয়া সড়ক যেতে কুচিয়ামারা এলাকায় নদীর অংশে ফুল পাবেন। এখানে নেমে পড়তে পারেন।

টিপস :
* নিজের এলাকায় খোঁজ রাখুন। নদীতীর ছাড়াও পানির কাছাকাছি ফাকা জমিতে প্রচুর কাশ ফোটে।
* যাদের এলার্জি বা এজমা সমস্যা আছে তারা কাশবনে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। কাশফুল আপনার সমস্ত গায়ে জড়িয়ে যাবে। অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন।
* কাশফুল যেহেতু কাপড়ে জড়িয়ে যায় তাই সিন্থেটিক পোশাক পরুন। এতে কম জড়াবে। গাঢ় রঙের সুতি পোশাকে কাশ লেগে থাকলে বাড়ি ফিরতে বিব্রতকর অবস্থা হতে পারে।
* কাশের ঝাড়ে শক্ত ঘাস হয়। এছাড়া কাশের বিজও বেশ শক্ত। কাপড়ে তো লেগে যায়ই, বিঁধতে থাকে।
* যেখানেই কাশফুল দেখতে যান না কেন তার ২/৩ দিন আগে বৃষ্টি হয়েছে কিনা খেয়াল করুন। কাশ যেহেতু আঁশের মতো, তাই বৃষ্টিতে একদম নষ্ট হয়ে যায়।
* সব জায়গায় একই সময়ে ফুলে ফুলে সাদা হয়ে ওঠে না প্রান্তর। তাই আগে একটু খোঁজ দিয়ে যাবেন।

x

Check Also

এক সপ্তাহের ছুটিতে বেড়িয়ে আসুন দার্জিলিং

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : দার্জিলিং ভ্রমণ মানেই যেন মেঘের মাঝে বিচরণ। আমাদের দেশের মানুষ পারিবারিক ...

Scroll Up