৩৯তম বিশেষ বিসিএসে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ

এমএনএ রিপোর্ট : ৩৯তম বিসিএস হবে ‘বিশেষ বিসিএস’। এতে প্রায় পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৩৯তম বিসিএসে ৪ হাজার ৫৪২ জন সহকারী সার্জন আর ২৫০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জেন্ট নেওয়া হবে। সব মিলে প্রায় ৫ হাজার চিকিৎসক নেওয়া হবে এই বিসিএসে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
চলতি বছরে নভেম্বরের শেষ অথবা ডিসেম্বরে এই বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি জারি করবে সরকারি কর্ম কমিশন  (পিএসসি) ।  জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর পিএসসির সচিবকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপ-সচিব মো : মফিদুর রহমান স্বাক্ষরিত একপত্রে জানান হয়, ‘স্বাস্থ্য বিভাগে বিদ্যমান চিকিৎসক স্বল্পতার কারণে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে সহকারি সার্জনের ৪৫৪২টি এবং সহকারি ডেন্টাল সার্জনের ২৫০টি পদ পূরনের নিমিত্ত একটি বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো’।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ৩৮ তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পর ৩৯ তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি জারির পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দ্রুত চলমান সব কয়টি বিসিএসের কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
পিএসসির চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘৩৬তম বিসিএসের নন–ক্যাডারে নিয়োগের জন্য শূন্যপদের চাহিদা চেয়ে সব মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি সবার কাছ থেকে ইতিবাচক ফলাফল পাব। এর আগে ৩৫তম বিসিএসে নন–ক্যাডার থেকে অপেক্ষমাণ প্রায় সবাই চাকরি পেয়েছেন।’
পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। ৩৮তম বিসিএসের জন্য আবেদন করেছেন ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩২ জন প্রার্থী। এই প্রার্থীরাই প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে জনপ্রশাসনে ২ হাজার ২৪ জন ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসন ক্যাডারের ৩০০, পুলিশ ক্যাডারের ১০০টি পদসহ ৩৮তম বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারে মোট ৫২০টি, কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে ৫৪৯টি এবং শিক্ষা ক্যাডারে ৯৫৫টি পদ থাকছে।
পিএসসির চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে বলেন, এই বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রতিটি খাতা দুজন পরীক্ষক মূল্যায়ন করবেন। তাঁদের নম্বরের ব্যবধান ২০ শতাংশের বেশি হলে তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে খাতা পাঠানো হবে। এর ফলে পরীক্ষার্থীদের মেধা যথাযথভাবে মূল্যায়িত হবে বলে মনে করছে পিএসসি।
এই বিসিএস থেকে বাংলাদেশ বিষয়াবলির ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় আলাদা করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে ৫০ নম্বরের প্রশ্ন রাখা হবে। কেউ চাইলে ইংরেজিতেও এই বিসিএস দিতে পারবেন। সাত বিভাগের পাশাপাশি এবার নতুন বিভাগ ময়মনসিংহেও পরীক্ষা নেওয়া হবে।
মন্ত্রনালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে পিএসসি ৩৯ তম বিশেষ বিসিএস বিজ্ঞপ্তি জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এছাড়াও চলতি মাসেই ৩৬ ও ৩৭ তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিএসসি। এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহের পর দু’টি বিসিএসের ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
প্রথমে ৩৬ তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর ৩৭ তম বিসিএসের লিখিত ফলাফল প্রকাশ করা হবে। নভেম্বর মাসে ৩৮ তম বিসিএসের প্রিলিমিনারী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে পিএসসি সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
x

Check Also

সাড়ে ৩ লাখ অভিবাসীর জন্য দুয়ার খুলল কানাডা

এমএনএ রিপোর্ট : উন্নত জীবনযাপনের জন্য অনেক মানুষ নিজ দেশে ছেড়ে পরদেশে পাড়ি জমায়। যারা ...

Scroll Up