নৌকায় ভোট দিয়ে আগামীতেও দেশ সেবার সুযোগ দিন : হাসিনা

এমএনএ রিপোর্ট : অতীতের মতো আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে আগামীতেও দেশ সেবার সুযোগ দেয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, অতীতের মতো আগামী নির্বাচনেও নৌকার পাশে থাকুন। আমরা দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছি, আগামীতেও করবো।
আজ রবিবার যশোর ঈদগাহ ময়দানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম মিলন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী যশোরে ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন হয়, আর বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশকে পিছিয়ে দেয়। খুন, গুম, জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বাংলা ভাইয়ের রাজত্ব জয়ী হয়। ৬৩ জেলার ৫০০ স্থানে একসঙ্গে জঙ্গি হামলা হয়।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসে অদ্ভূত হয়ে আর ভূতের মতো চলে। ভূতের পা পেছনে চলে। তাই বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন না হয়ে আরও ক্ষতি হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আর অবহেলার পাত্র নয়। বিশ্বের অনেকেই এখন বাংলাদেশকে সমীহ করে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই ছেলে দেশের মানুষের টাকা মেরে বিদেশে পাচার করেছে। এটা বিদেশি সংস্থার লোক এসে সাক্ষী দিয়ে যায়। তাদের মা-ও কম যান না। এতিমের টাকা মেরে খান।
জাতির জনককে হত্যার পর এ দেশ হত্যা, ক্যু, কারফিউয়ের দেশে পরিণত হয়েছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল এ দেশে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা কারফিউ জারি করে দেশ চালাতো। জিয়া কারফিউ দিয়ে ভীতিকর পরিবেশে দেশ চালাতেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা। কিন্তু ঘাতকরা সেই স্বপ্ন পূরণ করতে দেয়নি। পঁচাত্তর পরবর্তীতে জিয়া ক্ষমতা দখল করে। জিয়ার গণতন্ত্র ছিল যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন আর প্রতি রাতে কারফিউ জারি করে দেশ শাসন।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, জিয়ার গণতন্ত্র ছিল যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে। যে যুদ্ধাপরাধীরা এ দেশের স্বাধীনতা চায়নি, এ দেশের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করেছে, পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে তুলে দিয়েছে, নৃশংসভাবে গণহত্যা চালিয়েছে, সেই যুদ্ধাপরাধীদের বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করে পুরস্কৃত করাটা ছিল জিয়ার বহুদলীয় গণতন্ত্র।
দেশের কেউ অন্ধকারে থাকবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সাল নাগাদ দেশের প্রতিটি ঘর আলোকিত হবে। যেসব ঘরে বিদ্যুতের আলো যাবে না সেখানে সোলার প্যানেল দেয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় এসে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৬শ মেগাওয়াট থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছিলাম। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে তা আরও কমিয়ে ফেলে। বর্তমানে আমরা বিদ্যুতের উৎপাদন ১৬ হাজার ৮শ মেগাওয়াট বৃদ্ধি করেছি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকে। মানুষ শান্তিতে থাকে। তাই এই ধারা অব্যাহত রাখতে প্রতিবার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য জনগণকে আহ্বান জানান তিনি।
x

Check Also

জিএম কাদের জাপার চেয়ারম্যান নন : রওশন

এমএনএ রিপোর্ট : দেবর জিএম কাদেরকে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হিসেবে স্বীকৃতি দেননি তার ভাবি ...

Scroll Up