জারবেরা চাষে আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : জারবেরা ফুলটি বহুবর্ষজীবী। বিদেশি ফুল হলেও বাংলাদেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। জারবেরা চাষে দেশে বহুসংখ্যক মানুষ আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন করেছেন। প্রথম সারির ১০টি ফুলের মধ্যে জারবেরা অন্যতম। এছাড়া ফুলটি বেশিদিন ফুলদানিতে সতেজ থাকে। তাই জেনে নিন জারবেরা চাষের নিয়ম-কানুন।

প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন আমাদের বিশেষ প্রতিবেদক সৌম্য শাহদীন

পরিচিতি
জারবেরা অ্যাসটারেসি পরিবারভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ফুল। জার্মান পরিবেশবিদ ট্রগোট জারবারের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়। এটি আন্তর্জাতিক ফুল বাজারে কাট ফ্লাওয়ার হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

আকৃতি
এটি দেখতে সূর্যমুখী ফুলের মতো। এর পাতা অনেকটা পালং শাকের পাতার মতো। বিশ্বে ৩০ ধরনের জারবেরা ফুল পাওয়া যায়। এরমধ্যে রয়েছে- লাল, হলুদ, কমলা, সাদা, গোলাপি, বেগুনি রঙের আকর্ষণীয় ফুল।

পুঁজি
জারবেরা চাষ করতে হলে প্রাথমিকভাবেই ১৫-২০ লাখ টাকা পর্যন্ত পুঁজি দরকার হয়। যদি জমি ও ঘেরাওয়ের জন্য বাঁশসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি আপনার নিজস্ব সংস্থানে করা সম্ভব হয় সেক্ষেত্রে খরচ আরও অনেক কম হবে।

মাটি
সুনিষ্কাশিত, উর্বর দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটি জারবেরা চাষের জন্য উত্তম। মাটির পিএইচ মান ৫.৫-৭.০ এর মধ্যে থাকা উচিত। জারবেরার জমিতে প্রচুর জৈব সার থাকা দরকার। এজন্য পরিমিত পরিমাণে গোবর সার, পাতাপচা সার, কোকোডাস্ট ইত্যাদি প্রয়োগ করতে হবে।

প্রস্তুত প্রণালি
চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করে নিতে হয়। একটু উঁচু জমি জারবেরা চাষের জন্য ভালো। নিয়ম করে গাছ পরিষ্কার, পানি ও সার দিতে হয়। একটি গাছ ৫-৬ বছর বেঁচে থাকে। একটু যত্ন নিলেই গাছটির পুরো আয়ুষ্কাল পর্যন্ত ফুল আরোহন করা যায়।

বাজার
বিয়ে, গায়ে হলুদ, নববর্ষসহ যেকোনো বড় বড় অনুষ্ঠানে এ ফুলের কদর বাড়ছে। দেশের ফুলের বাজারে জারবেরার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। এখন জারবেরাই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষন হিসেবে নারীদের কাছে দারুন কদর লাভ করেছে।

লাভ
একটি গাছ থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি ফুল পাওয়া যায়। প্রতিটি ফুলের দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা। মাসে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। যা থেকে আপনি সহসাই আর্থিক সচ্ছলতা লাভ করতে পারেন।

x

Check Also

মাথাপিছু আয় বেড়ে ১ হাজার ৯০৯ ডলার

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৮ ...

Scroll Up