খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি আজ

এমএনএ  রিপোর্ট : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর আজ রবিবার দুপুর ২টায় হাইকোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ শুনানির জন্য এ দিন ধার্য রেখেছেন।
খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনটি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের আজ রবিবারের দৈনন্দিন কার্যতালিকার ৩৬ নম্বর ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গতকাল শনিবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়। এদিকে জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে হাইকোর্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আবেদনে এ মামলায় আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জামিন চাওয়া হয়েছে। দুদকের মামলা শুনানির জন্য হাইকোর্টের সংশ্নিষ্ট বেঞ্চে প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার দিন ধার্য থাকলেও গত বৃহস্পতিবার এ আদালতের বিচারক আজ রবিবার দুপুর ২টায় শুনানির দিন ধার্য করেন।
এর আগে ওইদিন ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের এ বেঞ্চে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন উপস্থাপন করা হলে আদালত আপিল শুনানির জন্য আবেদন গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন। পাশাপাশি নিম্ন আদালতে দেওয়া খালেদা জিয়ার অর্থদণ্ড স্থগিত করেন।
এ ছাড়া বিচারিক আদালতে দেওয়া মামলার যাবতীয় নথি তলব করেন আদালত। আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর ১৫ দিনের মধ্যে এ কপি হাইকোর্টে দাখিল করতে বলা হয়।
হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ওই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। খালেদার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এ জে মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।
জামিন আবেদনে যা আছে : গত ৩০ বছর তার পায়ে গেটে বাত। ডায়াবেটিস ২০ বছর ধরে। ১০ বছর ধরে ভুগছেন উচ্চ রক্তচাপ আর আয়রন স্বল্পতায়। আছে দুই হাঁটু প্রতিস্থাপনের কারণে হওয়া প্রচন্ড যন্ত্রণাও। হাইকোর্টে দাখিল করা জামিন আবেদনে এমন নানা শারীরিক জটিলতার কথা উল্লেখ করেছেন খালেদা জিয়া।
জামিন আবেদনে আরও বলা হয়, তার বয়স ৭৩ বছর। তিনি শারীরিক বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।
১৯৯৭ সালে তার বাঁ হাঁটু এবং ২০০২ সালে ডান হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে আবেদনে আরও বলা হয়, হাঁটু প্রতিস্থাপনের কারণে তার গিঁটে ব্যথা হয়, যা প্রচণ্ড যন্ত্রণাদায়ক। এমনকি হাঁটাহাঁটি না করতেও চিকিৎসকের পরামর্শ রয়েছে। এসব শারীরিক জটিলতার কারণ বিবেচনায় তার জামিন মঞ্জুরের আরজি জানানো হয়।
উপমহাদেশ ও দেশের উচ্চ আদালতের দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা আবেদনে উল্লেখ করে বলা হয়, যখন আসামি একজন নারী হয়, তখন তার অনুকূলে জামিন বিবেচনা করা হয়ে থাকে। সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আবেদনকারীর জামিন আবেদন মঞ্জুর করা হোক। আর জামিন আবেদনকারী বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন। তা ছাড়া যে মামলায় তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক।
এর আগে, ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল (আপিল নম্বর ১৬৭৬/২০১৮) করেন। আপিলের ফাইলিং আইনজীবী আবদুর রেজাক খান। ৪৪টি যুক্তি তুলে ধরে এ আপিল করা হয়।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামির ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।
রায় ঘোষণার ১১দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা রায়ের সার্টিফায়েড কপি হাতে পায়। অন্যদিকে, গত রবিবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার হাজিরার জন্য আবেদন করা হয়েছে। এ মামলায় তিনি আজ রবিবার পর্যন্ত জামিনে রয়েছেন।
খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে গত বৃহস্পতিবার বিচারিক আদালতে আবেদন করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী। কিন্তু আবেদনের বিষয়ে আদালত কোনো আদেশ দেননি। আদালতের আদেশ না পাওয়ায় খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে পুলিশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও করেনি।
দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজিরের জন্য আবেদন করেছি। এখন তাকে হাজির করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।
আদালতের পেশকার মোকাররম হোসেন বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজিরের বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার দুদক আবেদন করেছে। তবে আদালত এ বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজিরের জন্য বিচারকের অনুমতি লাগবে। তবে আদালত এখনও এ বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি বলেই জানি।
এর আগে, গত ১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।
জানা যায়, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক।
২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিয়ের সাবেক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
x

Check Also

খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তির নির্দেশ

এমএনএ রিপোর্ট : দুর্নীতির মামলায় সাজা পেয়ে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দ্রুত ঢাকার ...

Scroll Up