শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলা

এমএনএ বিভাগীয় প্রতিনিধি : দেশের বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলা হয়েছে। তার মাথায় ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আজ শনিবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) ফেস্টিভ্যালের সমাপনী অনুষ্ঠান চলাকালে এ হামলা চালানো হয়।
ড. জাফর ইকবালকে দ্রুত উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক শিক্ষার্থীকে পিটুনি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটক করে রেখেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম পরিচয় জানা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জহির উদ্দিনকে বারবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেণে রাখার চেষ্টা করছে ক্যাম্পাসে দায়িত্বরত পুলিশ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট মহানগর উত্তরের উপপুলিশ কমিশনার ফয়সাল মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শাহজালাল বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠান চলার সময় মুহম্মদ জাফর ইকবাল আক্রান্ত হন।
তিনি জানান, মুহম্মদ জাফর ইকবাল তার বিভাগেরই ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চে বসা ছিলেন। আক্রমণকারী মঞ্চে উঠে তাকে আঘাত করে।
আক্রমণকারী সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে, বলেন ফয়সাল মাহমুদ।
তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন, একথা বলা হলেও তা কত গুরুতর এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু এখনো জানাতে পারেন নি পুলিশের ওই কর্মকর্তা।
তবে তিনি বলেন, ‘আঘাতটা সিম্পল না।’
২০১৬ সালের অক্টোবরে মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রীকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামে একটি সংগঠনের নামে মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল।
মি. ইকবাল এবং তার স্ত্রী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক এ বিষয়ে সিলেটের জালালাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করেছিলেন।
উল্লেখ্য, জাফর ইকবাল বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং তড়িৎ কৌশল বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জাফর ইকবাল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন। এক জরিপ তথ্যানুযায়ী, লেখক হিসেবে ড. জাফর ইকবাল বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে; জরিপে অংশগ্রহণকারী ৪৫০ জনের মধ্যে ২৩৫ জনই তার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
লেখক, পদার্থবিদ, ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫২ সালের ২৩ ডিসেম্বর, সিলেটে। তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান আহমেদ। মা আয়েশা আখতার খাতুন। আয়েশা ফয়েজ নামে তিনিও লেখালেখি করেন। বড় ভাই প্রয়াত কথাসহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। আর ছোট ভাই আহসান হাবীব রম্য ম্যাগাজিন ‘উন্মাদ’-এর সম্পাদক, লেখক ও কার্টুনিস্ট। তাঁর স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করছেন।
জাফর ইকবাল মাধ্যমিক পরীক্ষা দেন ১৯৬৮ সালে, বগুড়া জিলা স্কুল থেকে। ১৯৭০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন ঢাকা কলেজ থেকে। পদার্থ বিজ্ঞানে স্নাতক সম্মান করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, ১৯৭৩ সালে। আর তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, ১৯৭৪ সালে।
তাঁর পিএইচ-ডি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন থেকে, ১৯৮২ সালে। ‘Parity violation in Hydrogen Atom বিষয়ে পিএইচ-ডি করার পর তিনি ১৯৮২ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়া ইনিস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে (ক্যালটেক নামে বিখ্যাত) সাফল্যের সঙ্গে ডক্টরেট-উত্তর গবেষণা সম্পন্ন করেন।
কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৮৮ তে। সে সময় তিনি বিখ্যাত বেল কমিউনিকেশনস রিসার্চ (বেলকোর) এ গবেষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৯৪ পর্যন্ত সেখানেই কাজ করেন। ওই বছরেই তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদান করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই তিনি লেখালেখি করেন। একাধারে লিখে গেছেন উপন্যাস, ছোট গল্প, কিশোর উপন্যাস, কিশোর গল্প, শিশুতোষ গল্প, থৌতিক সাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি, ভ্রমণকাহিনি,মুক্তিযুদ্ধ এবং বিজ্ঞান ও গণিত বিষয়ক লেখা। তবে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ও কিশোর উপন্যাগুলোর জন্য তিনি নবীন প্রজন্মের কাছে অসাধারণ জনপ্রিয় একজন লেখক।
পাশাপাশি তাঁর লেখা কিছু নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে। তাঁর লেখা গল্প ও উপন্যাস আবার রেডিও ও টিভির নাটকেএবং চলচ্চিত্রের বিষয় হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পত্রপত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি সবসময় নানা সাংগঠনিক কার্যকলাপে তরুণদের উৎসাহ ও সহযোগিতা করেন। লিখে যান অন্যায়ের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড গড়ে তোলার পিছনে তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে।
তিনি ২০০৪ সালে প্রাপ্ত বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন।
x

Check Also

ভিকারুননিসা নূন স্কুলের শিক্ষার্থীরা আজও বিক্ষোভে

এমএনএ ক্যাম্পাস রিপোর্ট : রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর ...

Scroll Up