খালেদা জিয়ার মামলার নথি হাইকোর্টে

এমএনএ রিপোর্ট : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে নিম্ন আদালতের ঘোষণা করা রায়ের নথি উচ্চ আদালতে পৌঁছেছে। আজ রবিবার দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে এ নথি উচ্চ আদালতের ডেসপাচ (আদান-প্রদান) শাখায় আসে। নথি গ্রহণ করেন হাইকোর্টের ডেসপাচ শাখার কর্মকর্তা কে এম ফারুখ হোসেন।
ফলে এ মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ প্রদানের বিষয়টি সুগম হল।
কে এম ফারুখ হোসেন জানান, ঢাকার পঞ্চম বিশেষ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোকাররম হোসেন ৫ হাজার ৩৭৩ পৃষ্ঠার নথি নিয়ে হাইকোর্টের ডেসপাচ শাখায় জমা দিয়েছেন। ডেসপাচ শাখা থেকে মামলার নথি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় যাবে।
নথি না পৌঁছানোর কারণে আজ রবিবার সকালে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আগামীকাল সোমবার আদেশ দেয়ার কথা জানান।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আক্তারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই আদালত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় আসামির সবাইকে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এ অর্থদণ্ডের টাকা প্রত্যেককে সমান অঙ্কে প্রদান করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায়ের পর থেকে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া।
বিদেশ থেকে আসা এতিমদের টাকা আত্মসাতের মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পঞ্চম বিশেষ আদালত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। ওই দিনই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। রায়ে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া রায়ে আসামিদের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা জরিমানা করা হয়। অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এ অর্থদণ্ডের টাকা প্রত্যেককে সমান অঙ্কে প্রদান করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
বিচারিক আদালতের দেয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়ার পর গত ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। আপিল আবেদনে নিম্ন আদালতের দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে ৪৪টি যুক্তি দেখানো হয়। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচারিক আদালতের দণ্ড স্থগিত চাওয়া হয়।
এরপর নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে আবেদন করলে গত ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেন এবং জরিমানা স্থগিত করেন। খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে জামিন আবেদনের শুনানিতে ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ১৫ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতের মামলার যাবতীয় নথি তলব করেন। হাইকোর্টের বেধে দেওয়া ১৫ দিনের সময়সীমার শেষ দিন আজ রবিবারেই নথি হাইকোর্টে জমা দেওয়া হয়েছে।
x

Check Also

আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর

এমএনএ রিপোর্ট : বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় কারাবন্দি তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির ...

Scroll Up