ঋণ কেলেঙ্কারিতে ভরাডুবির পথে জনতা ব্যাংক

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট :  একের পর এক ঋণ কেলেঙ্কারিতে ভরাডুবির পথে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক। দুর্নীতি আর ঋণ কেলেঙ্কারি জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে ব্যাংকটি এখন খাতের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে।
একক ঋণসীমা অতিক্রম করে দুই ব্যবসায়ীকে ৮ (৫+৩) হাজার কোটি টাকা দেয়া ছাড়াও ব্যাংকটিতে পদে পদে অনিয়ম-দুর্নীতির খক্ষহস্ত জারি আছে। আর সবকিছু ছাপিয়ে এখন সমালোচনার শীর্ষে অবস্থান করছে এনোনটেক্সের ইউনুছ বাদলকে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়ার বিস্ময়কর ঘটনা।
জনমনে প্রশ্ন উঠেছে- কোন জাদুরকাঠির বলে তিনি জনতা ব্যাংক থেকে একক ঋণসীমা অতিক্রম করে বড় অঙ্কের ঋণ বাগিয়ে নিতে সক্ষম হন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনতা ব্যাংকের আজকের পরিস্থিতির জন্য ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ এমডি, ডিএমডি ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা দায়ী। এদের অদক্ষতা, অযোগ্যতা ও দুর্নীতির কারণেই এমনটি হয়েছে। সমাজে ঋণখেলাপি ও লুটপাটকারী হিসেবে যারা পরিচিত তাদের ঋণ নিতে বেগ পেতে হয় না। যত বাধা আপত্তি ভালো গ্রাহকদের ক্ষেত্রে।
অভিযোগ উঠেছে, বিশেষত ব্যাংকটির দু’জন পরিচালকের কারণে ভালো গ্রাহকরা ঋণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। এরা হলেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মসিহ মালিক চৌধুরী এবং একে ফজলুল আহাদ। পর্দার আড়ালে আছেন আরও অনেকে।
এ বিষয়ে জানতে জনতা ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহার সঙ্গে গত রবি ও সোমবার একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এরপর বিষয় উল্লেখ করে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ গণমাধ্যমকে বলেন, এসব
ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকেরও দায় আছে। নিশ্চয় সুপারভিশনে দুর্বলতা ছিল। কারণ ব্যাংকটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া আছে।
তিনি সুপারভিশন ভালোভাবে করতে পারেননি। তা না হলে এত বড় ঘটনা ঘটত না। এছাড়া অনেক সময় তদন্ত হয় না। আবার কখনও তদন্ত হলেও শাস্তি হয় না। সে কারণে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে।
কয়েকজন বিশ্লেষক গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিটি ব্যাংকের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির দায় নিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংককে। কেননা ব্যাংকের ভালো-মন্দ দেখার সার্বিক দায়িত্ব এ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিদের। গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষাসহ প্রতিটি অনিয়ম-দুর্নীতির বিচার-বিশ্লেষণের দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের। এজন্য তাদের যথেষ্ট ক্ষমতা দেয়া আছে।
তারা যদি এ সারির ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারে, তাহলে কেন পারছেন না তা জনগণের সামনে পরিষ্কার করতে হবে। কিন্তু প্রভাবশালীদের জন্য নিয়মনীতির বালাই নেই, আর অন্যদের বেলায় আইন-কানুনের শেষ নেই- এমন দ্বৈতনীতি কেউ মেনে নেবে না।
সূত্রগুলো বলছে, এসব ঋণ অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় ব্যাংকের বর্তমান এমডি, ডিএমডিসহ শাখা কর্মকর্তাদের যোগসাজশের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকও এর দায় এড়াতে পারে না।
কারণ যখন এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়, তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তা ব্যাংকটির নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। তাহলে হয় তিনি সঠিক দায়িত্ব পালন করেননি, না হয় দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ছিল।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র দেবাশিস চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে বলেন, এসব ঘটনা বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এগুলো এখনও প্রক্রিয়াধীন। নতুন করে বলার মতো কিছু নেই।
এদিকে আর্থিক বিভিন্ন সূচকেও জনতা ব্যাংক নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে। যেমন- বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ, অবলোপন, মূলধন ঘাটতিসহ অন্যান্য সূচক।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাত্র ২-৩টি ঋণ জালিয়াতির চিত্র যদি এমন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে তাহলে সব তথ্য ফাঁস হলে নির্ঘাত ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সার্বিক বিবেচনায় ব্যাংকটি খাদের কিনারায় অবস্থান করছে বলে মনে করেন ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট বিশিষ্টজনরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনতা ব্যাংক গত ডিসেম্বর পর্যন্ত আমানত সংগ্রহ করেছে ৬৪ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা। এ সময় ঋণ দিয়েছে ৪৫ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা। ঋণের ক্ষেত্রে এটি রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
মূলত যাচাই-বাছাই ছাড়া বেপরোয়া ঋণ দিয়েছে ব্যাংকটি। এসব ঋণের বড় অংশ খেলাপি হয়ে গেছে। তবে নানাভাবে খেলাপি ঋণ লুকানোর অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ঋণ পুনঃতফসিল ও ঋণ পুনর্গঠন। দুটো পদ্ধতি বৈধ হলেও এর অপব্যবহার হচ্ছে ব্যাপক।
এছাড়া ওপরের চাপে খেলাপি না দেখানোর প্রবণতাও রয়েছে। তবে কাগজে-কলমে ব্যাংকটির ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা। এ সময় ১৬১ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে জনতা ব্যাংক। বছর শেষে ১ হাজার ১৭১ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা দেখালেও শেষ পর্যন্ত নিট মুনাফা মাত্র ৯৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে ব্যাংকটির।
সূত্র জানায়, জনতা ব্যাংক থেকে ঋণের নামে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা বের করে নিয়েছেন চামড়া ব্যবসায়ী এমএ কাদের। তিনি ক্রিসেন্ট লেদারের চেয়ারম্যান। মূলত ক্রিসেন্ট লেদারের অনুকূলে এসব অর্থ বের করা হয়। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও শাখা কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ব্যাংকের পুরান ঢাকার ইমামগঞ্জ শাখা থেকে অনিয়মের মাধ্যমে এ ঋণ দেয়া হয়েছে।
নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ব্যাংকের একক গ্রাহকের ঋণসীমার তিনগুণ ঋণ দেয়া হয়েছে ক্রিসেন্ট লেদারকে। চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির নামে বিভিন্ন উপায়ে বিপুল অঙ্কের এ ঋণ নেয়া হলেও আদৌ রপ্তানি হয়েছে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
অনিয়মের সঙ্গে জনতা ব্যাংকের বর্তমান এমডি, ডিএমডিসহ অন্তত ১০ কর্মকর্তা জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবদুছ ছালাম আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, এনোনটেক্সের ঋণ নিয়মিত আছে। আর ক্রিসেন্ট লেদারের ঋণের একটা অংশ খেলাপি করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ঘটনায় ১০ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া টাকা আদায়ের চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে ১৪৫ কোটি টাকা ফেরত পেয়েছি। বাকি টাকাও আসবে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সম্প্রতি ক্রিসেন্ট লেদারকে নতুন করে ৩৪৩ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। আরও ২০০ কোটি টাকা দেয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত আছে।
রপ্তানির বিপরীতে ঋণের নামে বের করে নেয়া এই অর্থের বড় অংশই পাচার হওয়ার আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা। অর্থ পাচারের তথ্য খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট ও শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর কাজ করছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে জনতা ব্যাংকের মূলধন ৪ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। নিয়মানুযায়ী এর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ অর্থ কোনো একক গ্রাহককে ঋণ দেয়া যায়। সে হিসাবে ক্রিসেন্ট লেদারকে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৮ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারে। কিন্তু ব্যাংক এ নিয়ম মানেনি। দিয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা।
এছাড়া এনোনটেক্স গ্রুপের ক্ষেত্রে করা হয়েছে এর চেয়ে বড় অপরাধ। এই গ্রুপটিকে জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ দেয়া হয় ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। অথচ যেখানে এ ব্যাংকটি এককভাবে একটি গ্রুপকে মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ ঋণ দিতে পারে।
কিন্তু তা না করে ব্যাংকটি একক ঋণসীমা চারগুণ বেশি অতিক্রম করেছে। এর আগে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণের নামে আলোচিত বিসমিল্লাহ গ্রুপ যে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে পালিয়েছে তার ৩৩৩ কোটি টাকা ছিল জনতা ব্যাংকের।
এদিকে ক্রিসেন্ট লেদারের অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ততার দায়ে ব্যাংকটির বর্তমান এমডি আবদুছ ছালাম আজাদকে অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছেন ব্যাংকটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক। সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এমডিকে অপসারণের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এছাড়া ব্যাংকটির ডিএমডি মোহাম্মদ ফখরুল আলমকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নির্দেশনার পর গত ২২ মার্চ এক আদেশের মাধ্যমে ফখরুল আলমকে অপর এক বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়।
এছাড়া শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের ৮ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তারা হলেন- ইমামগঞ্জ শাখার (পরিদর্শন চলাকালীন) ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইকবাল (ডিজিএম), এর আগে ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালনকারী রেজাউল করিম (মহাব্যবস্থাপক), সর্বশেষ শাখা ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালনকারী একেএম আসাদুজ্জামান (ডিজিএম), শাখার সেকেন্ড অফিসার আতাউর রহমান (এজিএম), সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মগরেব আলী, সিনিয়র অফিসার মনিরুজ্জামান, অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন ও সাইফুজ্জামান। অধিকতর তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ক্রিসেন্ট লেদারের মালিকানাধীন ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্ট, রূপালী কম্পোজিট লেদার ওয়্যারস, ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ, রিমেক্স ফুটওয়্যার এবং লেক্সকো লিমিটেড নামের ৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে চীন, ইতালি, হংকং, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানি দেখানো হয়।
সূত্র জানায়, ক্রিসেন্ট লেদারের অনিয়মের বিষয়ে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কয়েকটি সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ব্যাংকটির ৫০৫, ৫০৬, ৫১৫ ও ৫১৬তম পর্ষদ সভার মূল এজেন্ডা ছিল ক্রিসেন্টের ঋণ।
প্রতিষ্ঠানটির নামে সৃষ্ট ঋণের মধ্যে ফরেন ডকুমেন্টারি বিল ক্রয়ের (এফডিবিপি) বিপরীতে দেয়া হয়েছে এক হাজার ৫৪৩ কোটি টাকা। রপ্তানি কার্যক্রমের জন্য চলমান ঋণ (সিসি) হিসেবে দেয়া হয়েছে ৮১৫ কোটি টাকা।
রপ্তানির কাঁচামাল কেনার জন্য সৃষ্ট ব্যাক টু ব্যাক এলসি তথা পিসি বা পিকিং ক্রেডিটের বিপরীতে দেয়া হয়েছে ৫০২ কোটি টাকা।
আর রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা হিসেবে অগ্রিম ৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এভাবে মোট দুই হাজার ৯৬০ কোটি টাকা দিয়েছে জনতা ব্যাংক।
 এর মধ্যে ১৪৭ কোটি টাকা সমন্বয়ের পর বর্তমানে পাওনা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। যদিও প্রকৃত পাওনার পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে ক্রিসেন্ট লেদারের চেয়ারম্যান এমএ কাদেরের সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। যোগাযোগের কারণ উল্লেখ করে এসএমএস দেয়া হলেও কোনো জবাব দেননি তিনি।
জনতা ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০০৪ সাল থেকে জনতা ব্যাংকের শান্তিনগর শাখায় প্রথম ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করে এনোনটেক্স গ্রুপের জুভেনিল সোয়েটার। ওই শাখার বেশি ঋণ দেয়ার ক্ষমতা না থাকায় ২০০৮ সালে জনতা ভবন কর্পোরেট শাখায় ঋণটি স্থানান্তর করা হয়।
২০১০ সাল থেকে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান খুলে ঋণ সুবিধা নেয়া শুরু হয়। এটি চলে ২০১৫ সাল পর্যন্ত। সর্বশেষ বের করা টাকার পরিমাণ ৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। এক ব্যক্তির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে এত টাকা দেয়ায় নতুন ঋণ দেয়ার সব সামর্থ্যই এখন হারিয়ে ফেলেছে জনতা ব্যাংকের শাখাটি।
সূত্র জানায়, জনতা ভবন কর্পোরেট শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন আব্দুছ ছালাম আজাদ। সেই আজাদই ব্যাংকের বর্তমান এমডি। ঋণের বড় অংশই তিনি শাখা ব্যবস্থাপক থাকাকালীন সৃষ্ট। বলা যায়, ব্যাংকের ভল্ট খুলে দেয়া হয়েছে এনোনটেক্স গ্রুপের জন্য।
x

Check Also

জনতা ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহা

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জনতা ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার ...

Scroll Up