অভিযোগ প্রমাণিত হলে বদিও রেহাই পাবে না : কাদের

এমএনএ রিপোর্ট : সরকারি দলের আলোচিত-সমালোচিত কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে বদির জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বেয়াই যেমন রেহাই পায়নি, তেমনি সেও রেহাই পাবে না।
তিনি বলেন, শুধু বদি নয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির যতো বড় নেতাই হোক না কেন যারাই মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকবে তারা কেউ রেহাই পাবে না ।
আজ শনিবার দুপুরে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে মহাসড়কের পূর্ব প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় সরকারের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
মন্ত্রী বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর সব দেশেই মাদকের সঙ্গে অস্ত্র জড়িত। যারা কোটি কোটি টাকার মাদক ব্যবসা করে তারা অস্ত্র ছাড়া চলে না। সেই অস্ত্র যখন র‌্যাব আর পুলিশকে প্রতিরোধ করতে আসে, তাদের উপর গুলি ছুড়ে তখন মাদক ব্যবসায়ীদের অস্ত্রের মুখে র‌্যাব এবং পুলিশ কি বসে বসে গান গাইবে? তখনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পাল্টা প্রতিরোধ করে। এটাই এনকাউন্টার।
কাদের আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে র‌্যাব ও পুলিশ সর্বাত্মক অভিযান শুরু করেছে। এ অভিযানের কারণে রাজনৈতিক মতলববাজী একটি মহল অখুশি হলেও সাধারণ মানুষ খুশি হয়েছে।
মাদকের কারণে দেশের তরুণ সমাজের একটি অংশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমান থেকে রোহিঙ্গা স্রোতের মতো মাদকের স্রোতও বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে শহরে ও পাড়ায় মহল্লায় ঢুকে পড়েছে। এরকম অবস্থায় দেশের মানুষ মাদকের বিরুদ্ধে এরকম একটি অভিযান চেয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষ খুশি। তালিকা অনুযায়ী এখন তদন্ত হচ্ছে এবং খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। সেই অনুযায়ী মাদক ব্যবসায়ীদের রুখে দিতে র‌্যাব এবং পুলিশ সব ধরনের উদ্যোগ নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে।
ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতেই আমরা আগে থেকেই কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে গাজীপুর, কালিয়াকৈর ও আশুলিয়া এলাকায় ঈদ পূর্ব প্রস্তুতির জন্য পরিদর্শন করেছি। এবার আশুলিয়ার রাস্তাগুলো আগের যে কোন সময়ের চেয়ে ভালো উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর এখানকার রাস্তাগুলো ডুবে গেলেও রাস্তুা উঁচু করায় সে রকম কোন আশঙ্কা নাই।
মন্ত্রী জানান, আব্দুল্লাহপুর থেকে ডিইপিজেড পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার কাজ চলছে। উপরে এলিভেটেড এবং নিচে ফোর লেন করার জন্য সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট অনুমোদন হয়েছে। বর্তমানে সেটি চাইনিজ কোম্পানির অনুমোদনের জন্য বেইজিংয়ে আছে। সেখানে এক্সিম ব্যাংক ফান্ডটি রিলিজ করলেই আগামী অক্টোবরের মধ্যে আব্দুল্লাহপুর থেকে ইপিজেড পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ফোর লেনের কাজ শুরু হবে।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে ঘিরে তিস্তা চুক্তি নিয়ে বিএনপির মিথ্যাচারের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যাননি। গিয়েছেন কলকাতায় শান্তি নিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করার জন্য। সেখানে তিস্তা চুক্তি বলে কোন এজেন্ডা নাই। যারা ভারতে গিয়ে লাল কার্পেট রিসিপশন নিয়ে ঢাকা এয়ারপোর্টে ফিরে এসে সাংবাদিকদের বলেছিলো গঙ্গার পানি নিয়ে কথা বলতে আমরা ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা ভুলে যাইনি। আমি নিজেও প্রতিনিধি দল নিয়ে যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে আলোচনা করেছি সেখানে রোহিঙ্গা এবং তিস্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, চুক্তি হলে সবাই জানতে পারবেন। শুধু মাত্র দিল্লী সরকার কিংবা ভারতের ফেডারেল সরকার একমত হলেই হবে না পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরও সম্মতি লাগবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক হচ্ছে। আমার বিশ্বাস চুক্তি যে কোন সময় হতে পারে। যদিও এ সফরে তিস্তা চুক্তির কোন এজেন্ডা নাই তবুও এ বিষয়ে বৈঠকে অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
x

Check Also

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা না রাখার সুপারিশ

এমএনএ রিপোর্ট : প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড চাকরির ক্ষেত্রে) সরকারি চাকরিতে ...

Scroll Up