জিয়াউর রহমানের আজ ৩৭তম শাহাদতবার্ষিকী

এমএনএ রিপোর্ট : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৭তম শাহাদতবার্ষিকী আজ। ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিপদগামী কিছু সেনাসদস্যের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন তিনি।
দিবসটি পালনের জন্য বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে এ বছর ১০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিএনপির উদ্যোগে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বুধবার সকাল ৬টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন।
কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সকাল ১০টায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করবেন।
মাজার প্রাঙ্গণে ওলামা দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন তিনি। এ ছাড়া ড্যাবের উদ্যোগে সকাল থেকে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে।
জিয়ার শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর রাজধানীর গরিবদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মহানগর বিএনপির উদ্যোগে শতাধিক স্পটে এ খাবার বিতরণ করা হতো।
কিন্তু এবার খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় তা সীমিত আকারে পালন করা হচ্ছে। মাজার জিয়ারতের পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গরিবদের মাঝে ইফতার সামগ্রী, খাবার ও কাপড় বিতরণ করবেন।
শেরেবাংলা নগর টিঅ্যান্ডটি মাঠ, মোহাম্মদপুর টাউন হল, ধানমণ্ডির সুগন্ধা কমিউনিটি সেন্টার এবং কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে এসব বিতরণ করা হবে।
দলের প্রতিষ্ঠাতার শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যখনই দেশে দুঃসময় এসেছে তখনই শক্ত হাতে হাল ধরেন জিয়াউর রহমান।
তার জনপ্রিয়তা দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারী শক্তি কখনোই মেনে নিতে পারেনি। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তবে জনগণের হৃদয়ে চিরজাগরুক হয়ে অবস্থান করছেন জিয়া। তিনি বলেন, বর্তমান অনৈতিক সরকার একদলীয় সরকারের আদলে দেশ পরিচালনা করছে। কেন্দ্রীভূত স্বৈরতন্ত্রের প্রতিভু বর্তমান সরকার।
এরা নতুন কায়দায় পুরনো বাকশালকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। বিরোধী দলের অধিকার, চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত করে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। সেজন্য দেশনেত্রীকে মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সাজানো মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। এ যেন গণতন্ত্রকেই কারাগারে আটকিয়ে রাখা। জনমনে ভয় আর আতঙ্ক সৃষ্টি করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালানো হচ্ছে।
এমতাবস্থায় হারানো সব গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আপসহীন নেত্রী কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আবারও তার নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। জাতীয় জীবনের চলমান সংকটে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ও আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
জাতীয় স্বার্থ, বহুমাত্রিক গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় ইস্পাতকঠিন গণঐক্য গড়ে তুলতে হবে। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার হিসেবে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। ‘জেড ফোর্সে’র অধিনায়ক হিসেবে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেন তিনি।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেনাবাহিনীর একাংশের অভ্যুত্থানে নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। একই বছর ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসেন।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
x

Check Also

রাজপথই হচ্ছে খালেদা জিয়ার মুক্তির একমাত্র পথ : মওদুদ

এমএনএ রিপোর্ট : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত ...

Scroll Up