শত কোটি টাকা নিয়ে উধাও চলন্তিকা যুব সোসাইটি

এমএনএ রিপোর্ট : অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে গ্রাহকদের শত কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে চলন্তিকা যুব সোসাইটি নামে একটি হায়হায় কোম্পানি।
খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইলসহ কয়েকটি জেলার কয়েক লাখ নিম্ন আয়ের মানুষের আর্থিক দুরবস্থা ঘুচিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রতি দিন, সপ্তাহ এবং মাসিক কিস্তিতে বছরের পর বছর টাকা জমা নিয়েছিল সংস্থাটি। আর সেই টাকা নিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন এর চেয়ারম্যান খবিরুজ্জামান ও নির্বাহী পরিচালক মো. সরোয়ার হোসাইন।
প্রতারিত গ্রাহকরা এই দু’জন ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা দায়ের করলেও তারা ধরা পড়ছেন না। সর্বশেষ গত সপ্তাহে জেলার বটিয়াঘাটার প্রতারিত গ্রাহকরা আত্মসাতের একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে বটিয়াঘাটায় অফিস খোলে চলন্তিকা যুব সোসাইটি। সংস্থাটির চেয়ারম্যান খবিরুজ্জামান ও নির্বাহী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার ৬নং রোডস্থ ১ নম্বর চৌধুরী ভিলায় হেড অফিস খুলে বসেন।
স্থানীয়দের উদ্বুদ্ধ করতে বটিয়াঘাটা অফিস অনেক কর্মচারী নিয়োগ দেয়। এরপর থেকে তারা সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে টাকা জমা নিতে শুরু করেন। নগরীর লবণচরা থানার সাচিবুনিয়া (চরা) এলাকার গৃহবধূ সুমিত্রা রায় ওরফে বিশ্বাস ২০১৬ সালের ১০ মে চলন্তিকা যুব সোসাইটিতে ১ লাখ টাকা জমা রাখেন।
এভাবে বটিয়াঘাটা অফিসের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রাহক ২০০৬ সাল থেকে মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত ৫৫ লাখ টাকার অধিক জমা রাখেন। মামলার বাদী গৃহবধূ সুমিত্রা রায় ২৬ মার্চ খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে চলন্তিকা যুব সোসাইটি অফিসে তালা ঝুলছে।
১০ বছর আগে বাগেরহাট সদর উপজেলার চুলকাঠি বাজারে চলন্তিকা যুব সোসাইটির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিকে স্থানীয় কর্মী নিয়োগ ও উচ্চ মুনাফা দিয়ে চলন্তিকা সাড়া জাগানো একটি সংস্থায় পরিণত হয়।
বিশ্বাস করে চুলকাঠি বাজারের ব্যবসায়ীসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ চলন্তিকায় লাখ লাখ টাকা জমা রাখেন। চুলকাঠি বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী দেবব্রত কুমার ভদ্র জানান, তিনি তার বোনের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা এনে চলন্তিকায় গচ্ছিত রেখেছিলেন। এক লাখে ১৪শ’ টাকা মুনাফায় তিনি এই টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু এখন চলন্তিকা লাপাত্তা।
বাজারের স্বর্ণকার অমিত কর বিলাস জানান, তার প্রায় ১১ লাখ টাকা চলন্তিকায় আমানত রয়েছে। ব্যবসায়ী মিন্টু দেবনাথ, কমলেশ সাধু, আঃ হালিম শেখ, নির্মল আচার্য্য, প্রভাস আচার্য্যসহ এলাকার সহস্রাধিক গ্রাহক প্রতারণার শিকার হয়ে বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত পাওয়ার ক্ষীণ আশা নিয়ে প্রহর গুনছেন।
চুলকাঠি শাখার গ্রাহকদের ধারণা গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় এক হাজারের কাছাকাছি এবং গচ্ছিত টাকার পরিমাণ ২০ কোটির ওপরে হবে।
এদিকে রূপসা উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ৩ সহস্রাধিক গ্রাহকের প্রায় ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে চলন্তিকা যুব সোসাইটি। ৩ মাস ধরে অফিস বন্ধ থাকায় গ্রাহকদের টাকা পাওয়ার ব্যাপারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চলন্তিকায় জমা করা টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না বলে ৩ মাস আগে গ্রাহকদের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে গ্রাহকেরা তাদের সঞ্চয় আমানতের টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য স্থানীয় কর্মকর্তাদের চাপ প্রয়োগ শুরু করলে তারা ১০ মার্চ অফিস বন্ধ করে লাপাত্তা হয়।
এদিকে নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় ‘চলন্তিকা যুব সোসাইটি’ আট হাজার গ্রাহকের ৫০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দু’মাস আগে সংস্থার চেয়ারম্যান খবিরুজ্জামানসহ আটজনের বিরুদ্ধে কালিয়া থানায় মামলা হয়েছে।
বাগেরহাটের রামপালেও চলন্তিকা যুব সোসাইটি অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছে। এ ঘটনায় রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার কুমার পাল ও রামপাল থানার ওসি বরাবর পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
এ ব্যাপারে জানতে চলন্তিকা যুব সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. খবিরুজ্জামানের মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
x

Check Also

বনানীতে ফের জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে ধর্ষণ!

এমএনএ রিপোর্ট : রাজধানীর বনানীতে আবার এক নারীকে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া ...

Scroll Up