সভ্যতার সংকট শরণার্থী : মানবিক হয়ে উঠুক বিশ্ব

মানব সভ্যতা বহুদূর এগিয়েছে বলে যে দাবিটা করি আমরা, তা আসলে শ্রুতিমধুর নয়। বস্তুত একদিক থেকে সভ্যতা এগোলেও অন্যদিকে তা পিছিয়ে পড়ছে। অন্যভাবে বললে বলা যায় মানব সভ্যতার আধুনিকায়নের কারণেই আজ তীব্র হয়ে উঠেছে শরণার্থী সংকট। এটা বোঝার জন্য একটি মাত্র তথ্যই যথেষ্ট। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী এক দশক আগে বিশ্বজুড়ে বাস্তুহারার সংখ্যা যেখানে ছিল ৪ কোটি ২৭ লাখ, সেখানে বর্তমানে এই সংখ্যা ৬ কোটি ৮৫ লাখ।
অর্থাৎ গত এক দশকে বাস্তুহারার সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধ, সহিংসতা ও নিপীড়নের কবলে পড়েই এই বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছে। আরও একটি তথ্য এখানে যোগ করা যেতে পারে, পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাস্তুহারা মানুষের গন্তব্যস্থল হয়ে ওঠা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন সপ্তম। আর বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের উৎস হিসেবে মিয়ানমারের অবস্থান চতুর্থ। উল্লেখ করা যেতে পারে, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি।
দেশে দেশে বাস্তুহারা মানুষের যে স্রোত বইছে, তা নিশ্চিতভাবেই উৎস দেশগুলোর রাজনৈতিক অব্যবস্থাই নির্দেশ করে। এ অব্যবস্থার অন্যতম হল সহিংসতা ও নিপীড়ন। সহিংসতা ব্যাপক হারে মৃত্যুরও কারণ ঘটাচ্ছে। মিয়ানমারে যেমনটা হয়েছে। হত্যা-ধর্ষণ-নিপীড়নের কারণেই লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বজুড়েই রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব এখন প্রকট। অতিসম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ইসরাইলের প্রতি অন্ধ পৃষ্ঠপোষকতাই এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ। ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলের যুদ্ধংদেহি নীতিকে সমর্থন করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকারের মৌলিক শর্তগুলো পর্যন্ত লঙ্ঘন করে চলেছে।
নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ ও অন্য রাষ্ট্রে শরণার্থী হওয়ার বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে হলে প্রতিটি রাষ্ট্রেরই উচিত প্রত্যেক নাগরিক, বিশেষত সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষা করা। এছাড়া যুদ্ধবিগ্রহও যেহেতু মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার অন্যতম কারণ, তাই যুদ্ধ এড়িয়ে চলাও হতে হবে প্রতিটি দেশেরই পররাষ্ট্রনীতি। আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, যুদ্ধ মানেই মৃত্যু, যুদ্ধ মানেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষের ছুটে চলা। বিশ্ব শরণার্থী দিবসে এসব কথাই উঠে এসেছে বিশ্বের বিবেকসম্পন্ন মানুষ ও সংস্থার পক্ষ থেকে। এ সুযোগে আমরা মিয়ানমার সরকারের নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানাব তারা যেন নতুন করে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করা শুধু নয়, বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরত নেয়ার ব্যাপারে শতভাগ আন্তরিক হওয়ারও চেষ্টা করেন। গোটা বিশ্বই মানবিক হয়ে উঠুক, এটাও কামনা করছি আমরা।
x

Check Also

বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে স্থায়ী সমাধানের বিকল্প নেই

দেশে সার্বিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষেত্রে যে সংকট বিরাজ করছে, তা আসন্ন রমজানে জনজীবনে লোডশেডিংজনিত দুর্ভোগেরই ...

Scroll Up