ইংল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে তৃতীয় সেরা বেলজিয়াম

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : রাশিয়া বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে বেলজিয়াম। বেলিসরা রাশিয়া বিশ্বকাপ শেষ করেছে তৃতীয় সেরা হয়ে। লুকাকু-হ্যাজার্ডরা বেলজিয়ামকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারেননি। তবে ব্রোঞ্জ পদক এনে দিয়েছেন দেশকে। নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটাই এখন বেলজিয়ামের সেরা সাফল্য। এর আগে ১৯৮৬ সালে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ৪-২ গোলে হারে বেলজিয়াম।

অথচ দ্য গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থের এবারের আসরের ফেভারিট হয়েই রাশিয়া বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করেছিলো বেলজিয়াম। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট পর্ব এমনকি কোয়ার্টার ফাইনালেও দলটির সোনালি প্রজন্মের চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্সে বুঁদ হয়ে থেকেছে গোটা বিশ্ব।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা-জার্মানির বিদায়ের পর ইংল্যান্ড কিংবা বেলজিয়ামের হাতেই শিরোপা দেখছিলেন অনেকেই। দুই দলই রাশিয়া বিশ্বকাপে ফেবারিটের তকমা নিয়েই এসেছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, দুই ফেবারিটকে আজ মাঠে নামতে হয়েছে তৃতীয় স্থান অর্জনের লড়াইয়ে।

ম্যাচের শুরুতে ইংল্যান্ডের জালে গোল দিয়ে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত দুই হলুদ কার্ড দেখায় সেমিফাইনালের ম্যাচে খেলতে পারেননি বেলজিয়াম তারকা মিউনিয়ের। সেই তিনিই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে ফিরে সাড়ে তিন মিনিটের মাথায় গোল করে দলকে ১-০ গোলের লিড এনে দেন।

থিবো কর্তোয়ার লম্বা করে নেওয়া শট সতীর্থের পা ঘুরে মাঝমাঠে বল পেয়ে একটু এগিয়ে বাঁ-দিকে ক্রস দেন রোমেলু লুকাকু। আর ডি-বক্সের বাঁ-দিক থেকে মিডফিল্ডার নাসের শাদলির ছয় গজের বক্সের মুখে বাড়ানো ক্রস টোকা দিয়ে গোলটি করেন ডিফেন্ডার থমাস মুনিয়ে।

৩ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডের মাথায় মুনিয়ের করা গোলটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে বেলজিয়ামের দ্রুততম গোল। তার ওই গোলেই এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে বেলজিয়াম। দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিট যেতে না যেতেই ব্যবধান বাড়ানোর আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন বিশ্বকাপের চলতি আসরে ৪ গোলধারী রোমলো লুকাকু। কেভিন দে ব্রুইনির ক্রস পেয়ে পাওয়া বলটি নিয়ে একাই ঢুকে পড়েছিলেন ইংলিশ পেনাল্টি সীমানায়। কিন্তু গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড তা প্রতিহত করে দেন।

তৃতীয়স্থান নির্ধারণী ম্যাচের এই গোলের সুবাদেই রেকর্ডের পাতায় উঠে যায় বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ডের নাম। কেননা নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি বেলজিয়ানদের সবচেয়ে দ্রুত গোলের রেকর্ড। আর ইংলিশরা গড়ে সবচেয়ে দ্রুত গোল হজমের।

শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে প্রথমার্ধেই সমতায় ফিরতে চেয়েছে ইংল্যান্ড। অবশ্য তেমন লক্ষ্যভেদী কোনো শট কারও পা থেকেই দেখা যায়নি। তবে ২৩ মিনিটে বেশ ভালো একটি সুযোগ এসেছিলো। রাহিম স্টারলিংয়ের লং পাস থেকে পেনাল্টি সীমানায় বল পেয়েছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি। অন টার্গেটে নেওয়া শটটি চলে যায় গোলপোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে।

সুবর্ণ সুযোগ এসেছিলো ইংল্যান্ড শিবিরেও। ৬৬ মিনিটে বক্সের কিছুটা বাইরে থেকে পাওয়া বল নিয়ে দারুণ এক মুভে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে আলতো ছোঁয়ায় জালে ঠেলেও দিয়েছিলেন এরিক ডায়ার। বল চলে যাচ্ছিলো পোস্টের ভেতর। কিন্তু গোল লাইন অতিক্রম করার আগেই পা দিয়ে প্রতিহত করেন ডিফেন্ডার টোবি আল্ডারভাইরেল্ড।

তবে ৮২ মিনিটে লক্ষ্যভেদে ভুল করেনি বেলজিয়াম। দে ব্রুনেইর এগিয়ে দেওয়া বল থেকে ইংলিশ রক্ষণ ভেঙে বাঁ দিক দিয়ে হ্যাজার্ড চূড়ান্ত ফিনিশিং টানলে ২-০ তে এগিয়ে যায় রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যরা। আর ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় গ্যারেথ সাউথগেটের ইংল্যান্ড।

বাকি সময়টুকু দু’দলেরই কেটেছে আনুষ্ঠানিকতায়। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ইংল্যান্ড জালে জড়ানোর মতো আর কোনো আক্রমণ শানায়নি। বেলজিয়ানরাও হয়তো ব্যবধান বাড়ানোর প্রয়োজন মনে করেনি। এরপর রেফারির শেষ বাঁশি বাজলে তৃতীয়স্থান নিয়ে মাঠ ছাড়ে বেলজিয়াম।

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে হেরে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়াটা বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে ইংল্যান্ডের কাছে। ওই ম্যাচে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পাঁচ পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে ইংল্যান্ড দল। তবে বেলজিয়াম দলে নেই তেমন কোন পরিবর্তন ছিল না। শুরুর একাদশে ছিলেন না কেবল ফেলাইনি। এছাড়া ফেরেন মিউনিয়ের। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জিতে বরং বেলজিয়ামের আক্ষেপ বাড়লো।

ম্যাচে অবশ্য ইংল্যান্ড রবার্তো মাটিনেজের দলের থেকে পায়ে বেশি বল নিয়ে খেলেছে। ইংলিশদের পায়ে বল ছিল ৫৮ ভাগ। অন্যদিকে বল নিয়ন্ত্রন নিয়ে খেলতে পছন্দ করা বেলজিয়াম পায়ে বল রাখতে পারে ৪২ ভাগ। এছাড়া আক্রমণেও এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। হ্যারি কেন, রাহিম স্টারলিংরা গোলের লক্ষ্যে শট নিয়েছেন ১৩টি। তার মধ্যে ছয়টি শট ছিল লক্ষ্যে। আর বেলজিয়াম চারটি শট লক্ষ্যে রেখে দুটি গোল আদায় করে নিয়েছে। এছাড়া তাদের গোলের বাইরে শট ছিল তিনটি।

বেলজিয়ামের আক্রমণভাগে আছেন হ্যাজার্ড, লুকাকু, ব্রুইনিরা। আর ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ সামলাচ্ছেন হ্যারি কেন, ট্রিপার-রহিম স্টারলিংরা। সেমিফাইনালের ম্যাচে চোটের কারণে ইংল্যান্ড দলের ট্রিপার, ইয়ং এবং হ্যান্ডারসনের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। এদের মধ্যে ট্রিপার তৃতীয় নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে আছেন।

তবে ইয়ং এবং হ্যান্ডারসন ইংল্যান্ডের শুরুর একাদশে থাকছেন না। চোটটাই তাদের জন্য কাল হয়েছে। তবে ভালো খেলতে না পারায় এ ম্যাচে ইংল্যান্ড দলে ডেল আলির থাকার সম্ভাবণা নেই। গোল্ডেন বুট জয়ের পথে এরই মধ্যে অনেকটা পথ এগিয়ে আছেন হ্যারি কেন। তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ভালো করলে লুকাকুর সামনেও আছে সেই সুযোগ। তবে হ্যারি কেন নিজের ছয় গোলটা বাড়িয়ে যাতে আরও এক ধাপ ওপরে উঠতে পারেন এজন্য ইংল্যান্ডের আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফ্রান্সের কাছে সেমিফাইনালে হেরে শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে যায় ব্রাজিলকে কোয়ার্টার ফাইনালে হারানো বেলজিয়াম। অন্যদিকে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনাকে হারানো ক্রোয়েশিয়া।

বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের এটাই সেরা সাফল্য। এর আগে ১৯৮৬ আসরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তাদেরকে ৪-২ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্স। ম্যাচ শেষে গলায় পদক কিছুটা হলেও সান্ত্বনা দেবে দেশটির সোনালী প্রজম্মের খেলোয়াড়দের।

আর এর আগে একবারই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলেছে ইংল্যান্ড। ১৯৯০ বিশ্বকাপের সে ম্যাচে ইতালির কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল ইংলিশরা। এবারও কেবল কিছু সুখস্মৃতি নিয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে ইংলিশদের।

আগামীকাল রবিবার মস্কোতে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া ফাইনাল।

x

Check Also

ক্রিমিয়ার কলেজে বোমা হামলায় নিহত ১৮

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্রিমিয়ার কার্চ শহরের একটি কলেজে বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ...

Scroll Up