বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : আইসিসি নারী বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টি বাছাই পর্বের ফাইনালে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এর আগে সালমা খাতুনের নেতৃত্বাধীন দলটি পাপুয়া নিউগিনি, নেদারল্যান্ডস, আরব আমিরাত ও স্কটল্যান্ডকে পরাজিত করে।

কদিন আগেই আয়ারল্যান্ডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। আইরিশ মেয়েদের সঙ্গে তবু বাকি ছিল কিছু হিসেব চুকানোর। গত বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ফাইনালে হারতে হয়েছিল তাদের কাছেই। এবার সেটির শোধ তুলল বাংলাদেশের মেয়েরা। শিরোপা জিতল আইরিশদের হারিয়েই।

মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ফাইনালে আয়ারল্যান্ডকে ২৫ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

নেদারল্যান্ডসের উট্রেক্টে গতকাল শনিবার খুব ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ২০ ওভারে তুলতে পেরেছিল ১২২ রান। তবে দলের মূল শক্তি বোলিং জ্বলে উঠেছে আবারও। আইরিশদের গুটিয়ে দিয়েছে ৯৭ রানে।

বোলারদের মধ্যেও উজ্জ্বলতম ছিলেন পান্না ঘোষ। বাংলাদেশের মেয়েদের ক্রিকেটের প্রায় শুরু থেকেই জড়িয়ে আছেন তিনি। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সও করেছেন। তবে পাদপ্রদীপের আলোয় খুব একটা আসেননি। এবার বড় মঞ্চে ছড়ালেন আলো। বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়ে ফাইনালে এই পেসার নিয়েছেন ১৬ রানে ৫ উইকেট!

সেমি-ফাইনাল জিতে বিশ্বকাপ খেলা আগেই নিশ্চিত করেছিল দুই দল। ফাইনালটি ছিল মর্যাদার লড়াই। ২০১৫ সালে ব্যাংককে বাছাইপর্বের ফাইনালে আয়ারল্যান্ডের কাছে ২ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার অপরাজিত থেকে শিরোপা জিতল বাংলাদেশের মেয়েরা।

এশিয়া কাপ শিরোপার অভাবনীয় সাফল্যের পর আয়ারল্যান্ডে সিরিজ জয়, এবার বাছাইপর্বের শিরোপা, দারুণ গতিতে ছুটছে বাংলাদেশের মেয়েদের সাফল্য রথ।

এদিন পুঁজি খুব বেশি না থাকলেও বাংলাদেশের বোলিং শুরু থেকেই ছিল ক্ষুরধার। তৃতীয় ওভারে দলকে প্রথম উইকেট এনে দেন পেসার জাহানারা আলম। ষষ্ঠ ওভারে বোলিংয়ে এসে আরেক পেসার পান্না ঘোষ এক ওভারেই নেন দুই উইকেট।
লড়াইয়ের চেষ্টা করেছিলেন গ্যাবি লুইস। তাকে ২৬ রানে ফেরান রুমানা আহমেদ। নাহিদা আক্তার ও রুমানার স্পিনে দ্বাদশ ওভারে ৫৪ রানেই আয়ারল্যান্ড হারায় ৬ উইকেট।

আইমার রিচার্ডসন পরে চেষ্টা করেছিলেন আইরিশদের হয়ে। তার ১৯ বলে ২৩ রানের ইনিংসটি খানিকটা উত্তেজনা ছড়িয়েছিল ম্যাচে। পান্না দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে শেষ করে দিয়েছেন সেই উত্তেজনা। রিচার্ডসনকে ফিরিয়েছেন, ওই ওভারে উইকেট নিয়েছেন আরও একটি।

পরে নিজের শেষ ওভারে আরেকটি উইকেট নিয়ে পান্না পূরণ করেন ৫ উইকেট। কদিন আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২৮ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন জাহানারা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম ৫ উইকেট। এবার ১৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে পান্না গড়লেন নতুন রেকর্ড।

আইরিশ মেয়েরা গুটিয়ে যায় একশ ছোঁয়ার আগেই।

তার আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ শুরু ইঙ্গিত দিয়েছিল বড় কিছুর। কিন্তু ইনিংস খেই হারিয়েছে পরের ভাগে।
উদ্বোধনী জুটিতে শামিমা সুলতানা ও আয়েশা রহমান ২৮ রান এনে দেন ৪ ওভারে। শামিমা ফিরে যান ১৬ বলে ১৬ রান করে।

আগের ম্যাচগুলোয় বারবার থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে না পারা আয়েশা এদিন খেলছিলেন দারুণ। দ্বিতীয় উইকেটে সঙ্গ দেন ফারজানা হক। ৮ ওভারে ৫২ রানের জুটি গড়েন দুজন।

বাংলাদেশের ইনিংস পথ হারায় এরপরই। উদ্বোধনী জুটির পর লুসি ও’রাইলি ভাঙেন এই জুটিও। ফিরিয়ে দেন ১৭ রান করা ফারজানাকে।

আয়েশা পেরিয়ে যান টি-টোয়েন্টিতে তার আগের সর্বোচ্চ ৪২ রান। কিন্তু প্রথম ফিফটি পাওয়া হয়নি। আউট হয়ে যান ৪৬ রানে। ৪২ বলের ইনিংসে ছিল ৫ চার ও ২ ছক্কা।

ওই ওভারেই রান আউট সানজিদা ইসলাম। টিকতে পারেননি নিগার সুলতানা। মিডল অর্ডারের বিপর্যয় সামলে অনেক ম্যাচেই দলকে শেষ দিকে রান এনে দিয়েছেন রুমানা আহমেদ ও ফাহিমা খাতুন। এদিন ব্যর্থ এই দুজনও।

১ উইকেটে ৮০ রান থেকে বাংলাদেশ ১২০ রান যেতে বাংলাদেশে হারায় ৯ উইকেট।

বোলারদের সৌজন্যে সেই রানেই ধরা দিয়েছে দারুণ জয়। নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজে বাছাইপর্ব খেলতে যাবে মেয়েরা বাছাইপর্বের সেরা দল হিসেবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২২/৯ (শামিমা ১৬, আয়েশা ৪৬, ফারজানা ১৭, নিগার ৫, সানজিদা ০, রুমানা ১, ফাহিমা ৫, জাহানারা ১২*, সালমা ৭, পান্না ০, নাহিদা ১*; ইসোবেল ০/১৬, রিচার্ডসন ০/১৬, ম্যাটকাল্ফ ২/২৪, ও’রাইলি ৪/২৮, গার্থ ০/১৮, ডেলানি ১/১৯)।

আয়ার‌ল্যান্ড: ১৯.৪ ওভারে ৯৭ (লুইস ২৬, রিচার্ডসন ২৩, শিলিংটন ১৪, ; জাহানারা ৩-০-১২-১, সালমা ৪-০-২৪-০, পান্না ৪-০-১৬-৫, নাহিদা ৩.৪-০-১৫-২, রুমানা ৩-১-১৪-২, ফাহিমা ১-০-১৩-০)।

ফল: বাংলাদেশ ২৫ রানে জয়ী

প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: পান্না ঘোষ

x

Check Also

ক্রিমিয়ার কলেজে বোমা হামলায় নিহত ১৮

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্রিমিয়ার কার্চ শহরের একটি কলেজে বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ...

Scroll Up