ফখর জামানের ব্যাটে রেকর্ডের বন্যা

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগের ম্যাচে প্রথম পাকিস্তানি হিসেবে ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ তুলে নিয়েছিলেন ফখর জামান। আজ সিরিজের শেষ ম্যাচে ৩৮ বছরের পুরোনো এক রেকর্ড ভেঙেছেন পাকিস্তানের এই ওপেনার। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম ১ হাজার রানের রেকর্ড এখন ফখরের। কীর্তিটি গড়ার পথে তিনি পেছনে ফেলেছেন ভিভ রিচার্ডসের মতো কিংবদন্তিকে। এ ছাড়া রেকর্ড–বৃষ্টি ঝরেছে ফখরের ব্যাটে!

প্রতিপক্ষের ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজে আগেই ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল পাকিস্তান। বুলাওয়েতে আজ  রবিবার জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্যে টস জিতে আগে ব্যাটিং করছে সরফরাজ আহমেদের দল। ষষ্ঠ ওভারে চাতারাকে পয়েন্ট দিয়ে চার মেরে ভিভের রেকর্ডটি ভেঙে ফেলেন ফখর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই কিংবদন্তি ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্রুততম ১ হাজার রানের রেকর্ডটি গড়েছিলেন। সেটি ছিল ভিভের ২১তম ইনিংস।

ভিভ সেই রেকর্ড গড়ার পর ২১তম ইনিংসে এসে ১ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন আরও চারজন—কেভিন পিটারসেন, জোনাথন ট্রট, কুইন্টন ডি কক ও বাবর আজম। কিন্তু তাঁরা কেউ ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ভিভকে টপকে যেতে পারেননি। ফখর সেই কাজটাই করে দেখিয়েছেন নিজের ১৮তম ইনিংসে। ৩ ইনিংস ব্যবধানে মাইলফলকটি ছুঁয়ে সবাইকে পেছনে ফেলেছেন ২৮ বছর বয়সী এ ব্যাটসম্যান।

অবশেষে সেই রেকর্ড নতুন করে লেখালেন ফখর জামান। ওয়ানডেতে দ্রুততম ১ হাজার রানের রেকর্ড গড়ার ম্যাচটিতে পাকিস্তানি ওপেনার করেছেন আরও কিছু রেকর্ড।

১৮ ইনিংসেই হাজার রানের দেখা পেলেন ফখর। রিচার্ডসের লেগেছিল ২১ ইনিংস। ২০০৬ সালে রিচার্ডসের রেকর্ড স্পর্শ করেন ইংল্যান্ডের কেভিন পিটারসেন। ২০১১ সালে এই দুজনের পাশে বসেন আরেক ইংলিশ জোনাথন ট্রট।

২০১৪ সালে রেকর্ডটি স্পর্শ করেন দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক। সবশেষ গত বছরের জানুয়ারিতে রিচার্ডসদের পাশে বসেন ফখরের স্বদেশি বাবর আজম। ফখর ছাড়িয়ে গেলেন সবাইকে।

আগের ম্যাচের অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরিতে হাজারের দুয়ারে দাঁড়িয়ে ছিলেন ফখর। ১ হাজার ওয়ানডে রান ছুঁতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে রোববার তার প্রয়োজন ছিল ২০ রান। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওপেনার পথটুকু পাড়ি দেন অনায়াসেই। খেলেছেন ৮৩ বলে ৮৫ রানের ইনিংস।

রেকর্ডময় সিরিজে ফখর গড়েছেন আরও এক গাদা রেকর্ড। ৫ ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডও এখন তার।

সিরিজের আগের চার ম্যাচে ফখরের রান ছিল ৬০, অপরাজিত ১১৭, অপরাজিত ৪৩ ও অপরাজিত ২১০। ২০০৯ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে গড়া হ্যামিল্টন মাসাকাদজার ৪৬৭ রানের রেকর্ড ছাড়াতে এদিন ফখরের প্রয়োজন ছিল ৩৮ রান। ফখর সেটি ছাড়িয়ে গেছেন, প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে পেরিয়েছেন ৫ ম্যাচের সিরিজে ৫০০ রান। সিরিজ শেষ করেছেন ৫১৫ রান নিয়ে।

প্রথম ওয়ানডেতে ৬০ রানে আউট হওয়ার পর ফখর শেষ ম্যাচে লিয়াম রোচের বলে আউট হয়ছেন ৮৫ রানে। মাঝের সময়টায় নতুন করে লিখিয়েছেন ওয়ানডেতে দুই আউটের মাঝে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড। ৪০৫ রানের আগের রেকর্ড ছিল আরেক পাকিস্তানি মোহাম্মদ ইউসুফের। ফখর করেছেন ৪৫৫।

ইউসুফের আরেকটি রেকর্ড অবশ্য ভাঙতে পারেনি ফখর। ৫ ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে সর্বোচ্চ ব্যাটিং গড়ের রেকর্ড ইউসুফের ৪০৫। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গড় এই সিরিজে ফখরের ২৫৭.৫০।

ইমাম-উল-হকের সঙ্গে মিলে এদিন আরও একটি শতরানের জুটি গড়ছেন ফখর। দুজনে মিলে তুলেছেন ১৬৮ রান। একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে উদ্বোধনী জুটিতে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড এখন এই জুটির। আগের চার ম্যাচে জুটি ছিল ১১৩, ১১৯, ০ ও ৩০৪। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি এই সিরিজে তুলেছে ৭০৪ রান।

আগের রেকর্ডও ছিল এক পাকিস্তানি জুটির। ২০০৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের সিরিজে ইয়াসির হামিদ ও ইমরান ফারহাত জুটি তুলেছিল ৫৯০ রান।

x

Check Also

ক্রিমিয়ার কলেজে বোমা হামলায় নিহত ১৮

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্রিমিয়ার কার্চ শহরের একটি কলেজে বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ...

Scroll Up