গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকলে দেশ উন্নত হয় : প্রধানমন্ত্রী

এমএনএ রিপোর্ট : গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকলে দেশ উন্নত হয় বলে মন্তব্য করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেন, ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকলে যে দেশ উন্নত হয় সেটার প্রমাণ এখন নিশ্চয়ই আপনারা পাচ্ছেন। এখন সমুদ্রের তলদেশ থেকে মহাকাশ পর্যন্ত বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে। সেই অগ্রযাত্রা যেন থেমে না যায়।

তিনি বলেছেন, আমাদের সময় শেষ। সামনে ডিসেম্বরে নির্বাচন। জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই; এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ নাই। তবে দেশটাকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছি সেটা যেন অব্যাহত থাকে।

আজ সোমবার ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৩৯ জন সরকারি কর্মচারী ও ৩ প্রতিষ্ঠানকে ‘জনপ্রশাসন পদক-২০১৮’ পদক ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, আপনাদের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা দেশ গড়ার কাজে লাগাতে হবে। সরকারি চাকরি বলে যা খুশি তাই করবেন না। লাল ফিতা/সাদা ফিতার দৌরাত্ম্য প্রশাসনে যেন না থাকে। প্রশাসনে এমনভাবে কাজ করবেন যেন আপনাদের সন্তানরা এদেশে ভালোভাবে বসবাস করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাদের এ দেশ দিয়ে গেছেন বলেই আপনারা রাষ্ট্রের উচ্চ পদে আসীন হচ্ছেন। পাকিস্তান আমলে প্রশাসনে বাঙালীদের কী অবস্থা ছিল তা দেখেছেন।’

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ও ডিগ্রির জন্য আপনাদের অনেক সময় বিদেশ পাঠানো হয়। ডিগ্রি নিজের জন্য নয়, দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাবেন। মানুষের জীবনমানের যেন উন্নয়ন হয় সে কাজে লাগাবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশের উন্নয়নের জন্য আত্মনিয়োগ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। দেশ অনেক দূর এগিয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট সব শেষ করে দিয়েছে। এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছেন তারা নিজেদের ভাগ্য বদলে কাজ করেছেন। ফলে দেশের উন্নয়ন হয়নি। সরকারি কর্মকর্তারা যারা কাজ করতে চেয়েছেন তাদেরও কাজ করতে দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ‘দেশ চালানোর জন্য ভিশন লাগে। লক্ষ্য স্থির করতে হয়। এই লক্ষ্য স্থির করে কাজ করেছি বলে আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে পারছি। আগামী ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চাই সেই লক্ষ্য স্থির করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধির জন্য এবং কাজের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির জন্যই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ পদক শুধু কর্মকর্তাদের উৎসাহই দিচ্ছে না বরং এ পদক্ষেপ প্রশাসনে সেবার মানও বৃদ্ধি করেছে। এই পদক প্রদান কর্মকর্তাদের মধ্য উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।’ এ সময় পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের পর একটা রক্তাক্ত অবস্থা বারবার বিরাজ করেছে। যা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে বারবার বাধাগ্রস্ত করেছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশকে অনেক সমস্যার সম্মূখীন হতে হয়েছে। জাতির পিতা মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। সাড়ে তিন বছর যেতে না যেতেই সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি দেশকে যখন তিনি গড়ে তুলেছেন। উন্নয়নের পথে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে তিনি যাত্রা শুরু করেছেন ঠিক সেই সময়ে এল চরম আঘাত। জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হল। এ হত্যাকাণ্ডটা বাংলাদেশের জন্য কতবড় আঘাত তা জাতি উপলদ্ধি করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এই ৭৫-এর পনেরো আগস্টের পর সংবিধান লংঘন করে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা এবং ক্ষমতাকে ঘিরে নিজেদের ভাগ্য গড়ার দিকে ক্ষমতাসীনদের নজর ছিল তা দেশের দিকে ছিল না।

আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যে দেশ গড়ে ওঠার কথা ছিল সেই দেশ দারিদ্রমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ হিসেবে। সেদেশের মানুষ বঞ্চিত থেকে গেছে, ক্ষুধার্ত থেকে গেছে। গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে, ভোটের অধিকার হরণ করা হয়েছে এবং সেখানে একের পর এক ক্যু হয়েছে। আর এর খেসারত দিয়েছে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়াও সিভিল প্রশাসন, জনগণ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও এর শিকার হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের পরের ইতিহাস হচ্ছে হত্যার ইতিহাস, সংবিধান লংঘনের ইতিহাস, ক্যু’র ইতিহাস, ক্ষমতা দখলের ইতিহাস। পঁচাত্তরের পর যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা নিজেদের ভাগ্য গড়েছেন। দেশের স্বার্থ তাদের কাছে গুরুত্ব পায়নি। দেশকে ভিক্ষার ঝুলি ধরিয়ে দেওয়ার মতো অবস্থা। পচাত্তরের পরবর্তী শাসকরা চেয়েছিল বাংলাদেশের মানুষ ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বিদেশে ঘুরে বেড়াক।

জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমদ।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন ও অবদানের জন্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পদক, সার্টিফিকেট ও চেক তুলে দেন। আর তাকে শ্রদ্ধার নিদর্শন স্বরূপ ক্রেস্ট প্রদান করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক।

x

Check Also

গাজীপুর-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী ফজলুল হক গ্রেপ্তার

এমএনএ রিপোর্ট : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির ...

Scroll Up