‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত

এমএনএ রিপোর্ট : আজ সোমবার পবিত্র হজ। সকাল থেকেই আরাফাত ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেছেন মুসল্লিরা। সেখানে সারাদিন অবস্থান করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত-বন্দেগি করবেন তারা। সাদা ইহরাম বাঁধা অবস্থায় মুসল্লিদের পদচারণায় আরাফাতের ময়দান পরিণত হয়েছে শুভ্রতার সমুদ্রে। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত ময়দান। খবর এএফপি, সৌদি গেজেট, আরব টাইমস ও বিবিসির

সৌদি হজ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্বের ১৫০টি দেশের ২০ লাখেরও বেশি মুসল্লি এবার হজ পালন করছেন। তাদের মধ্যে এক লাখ ২৬ হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, হজ পালনের জন্য মক্কায় আসা মুসল্লিরা গত শুক্রবার মসজিদুল হারামে (কাবা শরিফ) জুমার নামাজ আদায় করেন। সৌদিতে ৭ জিলহজ, অর্থাৎ গত শনিবার তারা হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন।

গত শনিবার মুসল্লিরা মক্কা থেকে হেঁটে, বাসে করে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিনার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তারা দু’দিন অবস্থান করেন। সেখান থেকে তালবিয়া পাঠ করে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে পাপমুক্তির আকুল বাসনায় আজ সোমবার ফজরের নামাজের পর আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন তারা।

ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে দাঁড়িয়েই সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তার বিদায়ী হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই ভাষণের মধ্য দিয়ে তিনি ইসলামের পূর্ণতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে গেছেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে থেকে হাজিরা ইবাদত-বন্দেগি করবেন। মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের খুতবা পাঠ করা হবে। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আরাফাতের ময়দানে হাজিদের অবস্থানের দৃশ্য টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।

এরপর তারা যাবেন মুজদালিফা। ১০ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরবেন হাজিরা। পরে জামারায় পাথর নিক্ষেপের জন্য রওনা দেবেন। সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে যাওয়ার আগেই জামারাতুল আকাবায় (বড় শয়তান) সাতটি পাথর নিক্ষেপ করা হবে। পাথর নিক্ষেপের পর আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় তারা পশু কোরবানি করবেন। ১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে সূর্য হেলে পড়ার পর প্রতিদিন ছোট, মধ্য ও বড় জামারায় পাথর নিক্ষেপ করে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের আগে হাজিরা মিনা ত্যাগ করবেন।

এদিকে, মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে হজ পালনের জন্য সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে এক লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী। কাজ করছেন ২৬ হাজার চিকিৎসা কর্মকর্তা ও চার হাজার পাঁচশ’ স্বেচ্ছাসেবী।

x

Check Also

আজ বৃহস্পতিবারের দিনটি আপনার কেমন যাবে?

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : আজ ১৮ অক্টোবর ২০১৮, বৃহস্পতিবার। নতুন সূর্যালোকে আজ বৃহস্পতিবারের দিনটি আপনার ...

Scroll Up